AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Blood sugar control: জিরে না মৌরির জল? ডায়েবেটিস রোগীদের জন্য সেরা কোনটা?

Jeera vs Saunf for blood sugar: যুক্তি এবং গবেষণার পাল্লায় ভারী কে? সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা এবং তিন মাসের গড় বা HbA1c কমাতে চাইলে জিরে জল বর্তমানে অনেক বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত। এটি সরাসরি মেটাবলিক পাথওয়েতে আঘাত করে। অন্যদিকে, গরমকালের তপ্ত দিনে বা যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য মৌরি জল অনেক বেশি আরামদায়ক।

Blood sugar control: জিরে না মৌরির জল? ডায়েবেটিস রোগীদের জন্য সেরা কোনটা?
কে এগিয়ে?Image Credit: Gemini Ai
| Updated on: Apr 28, 2026 | 4:19 PM
Share

সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস ‘মৌরি ভেজানো জল’ (Snauf water) না কি ‘জিরে ভেজানো জল’ (Jeera water)? ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার সমস্যায় ভুগছেন এমন মানুষদের মাথায় এই প্রশ্ন প্রায়শই ঘোরাফেরা করে। দুই মশলা ছাড়াই বাঙালির হেঁশেল অসম্পূর্ণ। কিন্তু যখন লড়াইটা ইনসুলিন আর গ্লুকোজের মাত্রার, তখন কে এগিয়ে? ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্য রিপোর্ট বলছে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫৪ কোটি মানুষ এখন ডায়াবেটিসের কবলে। এই বিশাল জনসংখ্যার একটা বড় অংশই এখন ওষুধের পাশাপাশি ঝুঁকছেন প্রাকৃতিক উপায়ে সমাধানের দিকে।

জিরে জল

জিরে কিন্তু এখন শুধু ডালের সম্বরা নয়, একে মেটাবলিজমের ‘পাওয়ার হাউস’ বলা চলে। গবেষণাগারের পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, জিরের মধ্যে থাকা ‘থাইমোকুইনোন’ এবং ‘কিউমিনালডিহাইড’ নামের দুটি যৌগ সরাসরি অগ্ন্যাশয় বা প্যানক্রিয়াসকে সজাগ করে তোলে। এর ফলে শরীর প্রাকৃতিক নিয়মেই বেশি ইনসুলিন তৈরি করতে শুরু করে।

শুধু তাই নয়, জিরে শরীরের কোষগুলোর ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়িয়ে দেয়। সহজ কথায়, আপনার শরীরে যেটুকু ইনসুলিন আছে, তাকেই আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে জিরে। যারা ‘ফাস্টিং ব্লাড সুগার’ বা দীর্ঘমেয়াদি শর্করার গড় (HbA1c) কমাতে চাইছেন, তাদের জন্য জিরে জল এক কথায় অব্যর্থ দাওয়াই। এটি রক্তে কার্বোহাইড্রেট ভাঙার গতিও ধীর করে দেয়, ফলে খাওয়ার পর হুট করে সুগার বেড়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।

মৌরি জল

মৌরি পেট ঠাণ্ডা করে। কিন্তু রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকাটা একটু অন্যরকম। মৌরি সরাসরি ইনসুলিন না বাড়িয়ে কাজ করে পরোক্ষভাবে। এটি শরীরের ‘ইনফ্লামেশন’ বা দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ কমায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের পেছনে একটা বড় কারণ হল এই প্রদাহ। মৌরিতে থাকা ‘অ্যানেথোল’ হজম ক্ষমতা বাড়ায় এবং শরীরের টক্সিন বার করে দিতে সাহায্য করে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, মৌরি জল আপনার ঘনঘন মিষ্টি খাওয়ার বা অসময়ে খিদের প্রবণতা কমিয়ে দেয়। ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে ডায়াবেটিস সামলানো অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই যাদের সুগার বেড়ে যাওয়ার পেছনে হজমের গোলমাল বা অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস দায়ী, তাদের জন্য মৌরি জলই সেরা বিকল্প।

যুক্তি এবং গবেষণার পাল্লায় ভারী কে? সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা এবং তিন মাসের গড় বা HbA1c কমাতে চাইলে জিরে জল বর্তমানে অনেক বেশি কার্যকর বলে প্রমাণিত। এটি সরাসরি মেটাবলিক পাথওয়েতে আঘাত করে। অন্যদিকে, গরমকালের তপ্ত দিনে বা যাদের অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য মৌরি জল অনেক বেশি আরামদায়ক।

কখন কোনটি খাবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। সকালে খালি পেটে মেটাবলিজম চাঙ্গা করতে ‘জিরে জল’ পান করুন। আর সারাদিনের ক্লান্তি কাটাতে বা ভারী খাবারের পর রক্তে শর্করার ‘স্পাইক’ রুখতে চুমুক দিন ‘মৌরি জলে’। মনে রাখবেন, ঋতুভেদেও বদল আনা জরুরি। কড়া গরমে মৌরি যেমন শরীর ঠান্ডা রাখবে, তেমনই বর্ষা বা শীতে জিরে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। তবে আগে নিজের শরীরের ধরণ বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।

Follow Us