এই এক মুঠো ডালে উত্থলে পড়বে ত্বকের যৌবন
যাঁদের ত্বক একটু বেশি তৈলাক্ত, তাঁরা ২ চা চামচ মুসুর ডালের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস ও গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে হালকা শুকিয়ে এলে আলতো করে ঘষে (Scrubbing) ধুয়ে ফেলুন। এতে অতিরিক্ত তেল কমবে এবং ট্যান উঠে যাবে।

পার্লারে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করে ফেসিয়াল বা ব্লিচ করানোর দিন এবার শেষ। জানেন গ্ল্যামারাস স্কিন পাওয়ার রহস্য লুকিয়ে আছে আপনার রান্নাঘরের ছোট এক কৌটো ডালে! দূষণ, অনিয়মিত খাওয়া-দাওয়া আর রাসায়নিক প্রসাধনীর ভিড়ে আমাদের ত্বক যখন তার স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা হারিয়ে ফেলে, তখন মুসুর ডালই হতে পারে আপনার সবথেকে বড় ভরসা। যুগ যুগ ধরে রূপচর্চায় এর ব্যবহার হয়ে আসছে, আর আধুনিক রূপবিশেষজ্ঞরাও এর গুনাগুণের বেশ প্রশংসা করেছেন।
কেন মুসুর ডাল ত্বকের জন্য ম্যাজিক?
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে, মুসুর ডাল হল ত্বকের জন্য সেরা প্রাকৃতিক ‘ক্লিনজার’। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের গভীরে গিয়ে ময়লা পরিষ্কার করে এবং মৃত কোষকে(Dead Cells) সরিয়ে ফেলে যার ফলে ত্বক হয়ে ওঠে উজ্জ্বল। এই ডাল নিয়মিত ব্যবহারে কেবল বলিরেখা কমে তাই নয়, নাছোড়বান্দা ট্যানিং এবং পিগমেন্টেশনও দূর হয় নিমেষে। কীভাবে মুসুর ডাল দিয়ে প্যাক বানাবেন?
আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী সেরা ৩টি প্যাক
শুষ্ক ও প্রাণহীন ত্বকের জন্য
আপনার ত্বক কি খুব রুক্ষ? তবে ২ চা চামচ মুসুর ডালের গুঁড়োর সঙ্গে ১ চা চামচ মধু এবং ২ চা চামচ কাঁচা দুধ মিশিয়ে মেখে নিন। ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। তফাতটা নিজের চোখেই দেখতে পাবেন—ত্বক হবে মাখনের মতো নরম।
তৈলাক্ত ত্বক ও রোদে পোড়া দাগ দূর করতে:
যাঁদের ত্বক একটু বেশি তৈলাক্ত, তাঁরা ২ চা চামচ মুসুর ডালের গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য লেবুর রস ও গোলাপ জল মিশিয়ে প্যাক তৈরি করুন। মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে হালকা শুকিয়ে এলে আলতো করে ঘষে (Scrubbing) ধুয়ে ফেলুন। এতে অতিরিক্ত তেল কমবে এবং ট্যান উঠে যাবে।
বলিরেখা ও বয়সের ছাপ মুছতে:
ত্বক টানটান করতে মুসুর ডালের গুঁড়োর সঙ্গে এক চিমটি হলুদ এবং ১ চা চামচ তাজা দই মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করুন। দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড আর মুসুর ডালের স্ক্রাবিং এফেক্ট আপনার ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে বয়সের ছাপ কমিয়ে দেবে।
ব্যবহারের সঠিক নিয়ম
প্যাক লাগানোর আগে মুখ সবসময় হালকা গরম জল দিয়ে ধুয়ে নিন, যাতে ত্বকের ছিদ্র বা পোরসগুলো খুলে যায়। প্যাকটি ধোয়ার পর অবশ্যই অ্যালোভেরা জেল বা কোনো হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে অন্তত দু’বার এই নিয়ম মানলেই কেল্লাফতে! আপনার ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ও দাগহীন।
