ফ্যামিলি প্ল্যানিং করছেন? সঠিক ডায়েটের সঙ্গে কতটা ঘুম মাস্ট?
শরীরের ভেতরে একটি নিজস্ব ঘড়ি থাকে, সে তার ছন্দে চলে। এই ছন্দ ঠিকঠাক চললে হরমোন নির্দিষ্ট সময়ে নিঃসৃত হয়। কিন্তু রাত জাগা, দেরিতে ঘুমানো বা প্রতিদিন ঘুমের সময় বদলে গেলে এই ছন্দ ভেঙে যায়।

সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করলে সাধারণত সকলে কী করে থাকেন? খাবার রুটিন ঠিক করেন, ফলিক অ্যাসিড খান, নিয়ম করে হাঁটেন বা হালকা ব্যায়াম শুরু করেন। কিন্তু জানেন কি একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অনেকেই অবহেলা করেন, তা হল ঘুমের সময় ও নিয়ম। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, এই ছোট অভ্যাসটাই অনেক সময় নীরবে গর্ভধারণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ঘুম কম হলে শরীরে কী হয়?
শরীরের ভেতরে একটি নিজস্ব ঘড়ি থাকে, সে তার ছন্দে চলে। এই ছন্দ ঠিকঠাক চললে হরমোন নির্দিষ্ট সময়ে নিঃসৃত হয়। কিন্তু রাত জাগা, দেরিতে ঘুমানো বা প্রতিদিন ঘুমের সময় বদলে গেলে এই ছন্দ ভেঙে যায়। প্রজনন বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ঘুম না হলে—
- নারীদের ক্ষেত্রে ডিম্বস্ফোটন অনিয়মিত হতে পারে।
- পুরুষদের ক্ষেত্রে শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমতে পারে।
- শরীরে স্ট্রেস হরমোন বেড়ে যায়, যা গর্ভধারণের পক্ষে ক্ষতিকর।
- একাধিক আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা দীর্ঘদিন ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তাঁদের মধ্যে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বেশি।
ব্যায়াম করলেও কেন ফল মিলছে না?
অনেক দম্পতি বলেন, “সব ঠিক করছি, তবু কনসিভ হচ্ছে না।” চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ঘুমের অভাব থাকলে তখন প্রজনন প্রক্রিয়া শরীরের কাছে অগ্রাধিকার পায় না। তখন শরীর বিশ্রাম চায়। গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে— খুব বেশি বা খুব কড়া ব্যায়াম করে কম ঘুমালে হরমোনের ওপর প্রভাব পড়ে, মাঝারি ব্যায়াম করে যদি পর্যাপ্ত ঘুমান শরীরের ভারসাম্য ভালো থাকে, ব্যায়াম অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু ঘুম ঠিক না থাকলে লাভ নেই।
রাত জাগার অভ্যাস কি সত্যিই ক্ষতি করে?
চিকিৎসা গবেষণায় শিফট-ওয়ার্ক করা মহিলা ও পুরুষদের নিয়ে করা সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তাঁদের মধ্যে গর্ভধারণে সময় বেশি লাগে। কারণ, রাত জাগা শরীরের হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টার মধ্যে ঘুম হলে শরীর সবচেয়ে ভালোভাবে নিজেকে মেরামত করে—এটাই প্রজননের জন্য সবচেয়ে সহায়ক সময়।
কী কী করবেন? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
- প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যেতে হবে
- অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমোনো প্রয়োজন।
- ঘুমের আগে মোবাইল স্ক্রলিং বন্ধ করুন।
- রাতে ভারী খাবার ও অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়িয়ে চলাই ভালো।
