AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

বসন্তের হাওয়ায় ত্বকে র‍্যাশ আর চুলকানি? চটজলদি আরাম পেতে ডায়েটে আনুন এই বদল

মার্চ মাস মানেই বাতাসে উড়ন্ত রেণু বা পরাগকণার দাপট। ডায়েটেশিয়ানের মতে, যখন এই পরাগকণা আমাদের শরীরের সংস্পর্শে আসে, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীরকে রক্ষা করার জন্য আমাদের কোষ থেকে 'হিস্টামিন' (Histamine) নামক এক ধরণের রাসায়নিক নির্গত হয়।

বসন্তের হাওয়ায় ত্বকে র‍্যাশ আর চুলকানি? চটজলদি আরাম পেতে ডায়েটে আনুন এই বদল
| Updated on: Mar 19, 2026 | 7:15 PM
Share

শীতের বিদায় আর বসন্তের আগমন-প্রকৃতিতে এখন বদলের হাওয়া। পলাশ-শিমুলের রঙে চারপাশ রঙিন হলেও, অনেকের কাছেই এই সময়টা বেশ কষ্টের। হঠাৎ করে ত্বকে লালচে ভাব, র‍্যাশ, ব্রণ বা অতিরিক্ত চুলকানির সমস্যায় নাজেহাল হচ্ছেন অনেকে। ভাবছেন তো, স্কিনকেয়ার রুটিন তো পাল্টাননি, তবে হঠাৎ এমন কেন হচ্ছে? আসলে এই মরসুমী পরিবর্তনের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে এক বিশেষ বৈজ্ঞানিক কারণ। বসন্তে কেন আমাদের ত্বক এমন খামখেয়ালি আচরণ করে? কীভাবে কেবল খাওয়া-দাওয়ার অভ্যেস বদলে আপনি এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারবেন?

কেন বসন্তে ত্বক বেশি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে?

মার্চ মাস মানেই বাতাসে উড়ন্ত রেণু বা পরাগকণার দাপট। ডায়েটেশিয়ানের মতে, যখন এই পরাগকণা আমাদের শরীরের সংস্পর্শে আসে, তখন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। শরীরকে রক্ষা করার জন্য আমাদের কোষ থেকে ‘হিস্টামিন’ (Histamine) নামক এক ধরণের রাসায়নিক নির্গত হয়।

এই হিস্টামিনই হল আসল সমস্যার কারণ। এটি শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তনালীগুলোকে প্রসারিত করে। যার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ত্বকে। এর ফলেই দেখা দেয়: ত্বক লাল হয়ে যাওয়া বা জ্বালাপোড়া।

অসহ্য চুলকানি বা আমবাত (Hives)।

ব্রণর প্রকোপ বেড়ে যাওয়া।

একজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো সমস্যা নতুন করে ফিরে আসা।

চোখের নিচে কালি বা চোখের চারপাশ ফুলে যাওয়া সহ একাধিক সমস্যা

যা খাবেন আর যা এড়িয়ে চলবেন

ডায়েটিশিয়ানের মতে, এই সময়ে কিছু খাবার আমাদের শরীরের হিস্টামিনের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয়। তাই ত্বককে ঠিক রাখতে গেলে বেশ কিছু খাবার বাদ দিতে হবে। এই সমস্যার মুখে পড়লে ফারমেন্টেড খাবার, পুরনো বা বাসি খাবার, প্যাকেটজাত প্রসেসড ফুড এড়িয়ে চলাই ভালো। এছাড়া টমেটো, পালং শাক, চকোলেট, অতিরিক্ত চা-কফি এবং মদ ত্বকের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। ভাজাভুজির মায়া ত্যাগ করাও এই সময়ে জরুরি।

ত্বককে ভেতর থেকে সুস্থ রাখতে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান, কারণ এটি প্রাকৃতিক অ্যান্টি-হিস্টামিন হিসেবে কাজ করে। আপেল, পেঁয়াজ এবং গ্রিন-টি-তে থাকা ‘কুয়ারসেটিন’ (Quercetin) নামক উপাদান হিস্টামিন নিয়ন্ত্রণে অব্যর্থ। এছাড়া আদা, হলুদ, বাদাম এবং প্রচুর পরিমাণে রঙিন শাকসবজি ডায়েটে রাখা দরকার। পেটের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে টক দই এবং পর্যাপ্ত জল খাওয়ার কোনও বিকল্প নেই।

জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু বদল

কেবল ডায়েট নয়, এই সময়ে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে ভালো করে মুখ এবং চুল ধুয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে লেগে থাকা পরাগকণা ধুয়ে যায়। খুব গরম জলে স্নান করবেন না, এতে ত্বকের সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উগ্র গন্ধহীন বা ফ্র্যাগন্যান্স-ফ্রি প্রসাধনী ব্যবহার করা এবং নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার লাগানোই হল এই মরসুমে সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

Follow Us