Promise Day 2026: প্রমিস যেন থেকে যায়… প্রেমের সপ্তাহে মনের কথায় অটুট বন্ধন
Valentine’s Week: সম্পর্ক গড়ে তোলা যতটা সহজ, তা আজীবন টিকিয়ে রাখা ঠিক ততটাই কঠিন। মনোবিদদের মতে, প্রমিস ডে পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পর্কের ভেতরে বিশ্বাস ও ভরসার জায়গাটিকে আরও মজবুত করা। ছোট ছোট মান-অভিমান ভুলে সারাজীবন সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিই এই দিনটির মূল উপজীব্য।

গোলাপের সুবাস, মনের গোপন কথা জানানো, চকোলেটের মিষ্টতা আর টেডির নরম পরশ পার করে ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ আজ এক নতুন ধাপে পা রাখল। আজ ১১ ফেব্রুয়ারি, ‘প্রমিস ডে’ বা প্রতিশ্রুতি দিবস। আজকের দিনটি কেবল জাগতিক উপহার আদান-প্রদানের নয়, বরং আগামীর বন্ধুর পথচলায় একে অপরের হাত শক্ত করে ধরার অঙ্গীকার করার দিন। ভালোবাসার এই মরসুমে প্রমিস ডে-র গুরুত্ব ও এর ইতিহাস নিয়ে তুঙ্গে তরুণ প্রজন্মের কৌতুহল।
সম্পর্ক গড়ে তোলা যতটা সহজ, তা আজীবন টিকিয়ে রাখা ঠিক ততটাই কঠিন। মনোবিদদের মতে, প্রমিস ডে পালন করার মূল উদ্দেশ্য হলো সম্পর্কের ভেতরে বিশ্বাস ও ভরসার জায়গাটিকে আরও মজবুত করা। ছোট ছোট মান-অভিমান ভুলে সারাজীবন সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিই এই দিনটির মূল উপজীব্য। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, আবেগের বশে এমন কোনো মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত নয় যা রক্ষা করা সম্ভব নয়। কারণ, একটি ভাঙা প্রতিশ্রুতি অনেক সময় তাসের ঘরের মতো আস্ত একটি সম্পর্ককে ভেঙে দিতে পারে।
ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের বাকি দিনগুলোর মতো প্রমিস ডে-রও কোনো নির্দিষ্ট একক জন্মদাতা বা শুরুর তারিখ ইতিহাসে স্পষ্টভাবে পাওয়া যায় না। তবে ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্যযুগ থেকেই ইউরোপে প্রেমের মাস হিসেবে পরিচিত ফেব্রুয়ারিতে প্রেমিক-প্রেমিকারা একে অপরকে বিশেষ শপথ বা ‘ওথ’ (Oath) নেওয়ার রেওয়াজ শুরু করেন।
উনিশ শতকের শেষের দিকে যখন ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহ একটি বাণিজ্যিক ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে শুরু করে, তখন এই প্রমিস ডে-কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল উপহারের আড়ালে হারিয়ে যাওয়া সম্পর্কের মানসিক ও আধ্যাত্মিক সংযোগকে আবার সামনে নিয়ে আসা। প্রাচীন রোমান সংস্কৃতিতে ‘জুনো’ দেবীর নাম স্মরণ করে বিয়ের শপথ নেওয়ার প্রথা থেকেও অনেকে এই দিনের অনুপ্রেরণা খুঁজে পান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দিনে আকাশছোঁয়া বা অসম্ভব কোনো প্রতিশ্রুতি না দিয়ে বরং বাস্তবসম্মত কথা দেওয়া ভালো। যেমন— ‘সবসময় তোমার কথা মন দিয়ে শুনব’, ‘বিপদের দিনেও তোমার আত্মসম্মান রক্ষা করব’ অথবা ‘আমরা একে অপরের প্রতি আজীবন সৎ থাকব’।
সব মিলিয়ে শহরজুড়ে নতুন নতুন অঙ্গীকারের গুঞ্জন। কেউ নতুন করে ভালোবাসার শপথ নিচ্ছেন, কেউ বা পুরোনো সম্পর্কের ধুলো ঝেড়ে একে অপরকে আবার ফিরে পাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। কারণ, দিনশেষে দামি উপহারের চেয়েও প্রিয় মানুষের দেওয়া একটি ছোট্ট কথাই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
