পোষ্য বার বার বমি করছে? বড় কোনও রোগের ইঙ্গিত নয় তো!
বিষাক্ত বস্তু খেয়ে ফেললে ঝুঁকির সম্ভাবনা মারাত্মক । চকোলেট, কীটনাশক, পরিষ্কার করার রাসায়নিক বা মানুষের ব্যবহৃত কিছু ওষুধ কুকুর ও বিড়ালের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ধরনের কিছু খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি হলে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে।

ঘরের প্রিয় পোষ্য থাকলে কুকুর হোক বা বিড়াল, মাঝে মধ্যেই বমি করে। অনেকেই প্রথমে ভাবেন, হয়ত খাবার হজম হয়নি তাই বমি হচ্ছে। কিন্তু পশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পোষ্যের বমি সবসময় হালকা সমস্যা নয়। এটি বড় রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে।
কখন এই বমিকে সাধারণ বলা যায়?
কিছু ক্ষেত্রে বমি স্বাভাবিক এবং স্বল্পমেয়াদী হতে পারে। যেমন, পেট ভরে খাওয়ার পর হঠাৎ বমি, ঘাস বা অনাকাঙ্ক্ষিত জিনিস খাওয়ার পর বমি, হঠাৎ খাবারের রুটিনের পরিবর্তনের ফলে সাময়িক বমি। এই ধরনের বমি সাধারণত একবার বা দুবার হওয়ার পরই পোষ্য স্বাভাবিক আচরণ করে।
কখন সমস্যা বাড়ে?
যদি বমি বারবার হতে থাকে এবং তার সঙ্গে অন্যান্য উপসর্গ দেখা যায় তাহলে সেটা গুরুতর সমস্যার লক্ষণ হতে পারে । পশু চিকিৎসকদের মতে, দিনে একাধিকবার বমি হওয়া, বমির সঙ্গে রক্ত বের হওয়া, বমির রং হলুদ হলে, সবুজ কিংবা কালচে রঙের বমি হলে তা বিপজ্জনক ইঙ্গিত হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে লিভার বা কিডনির অসুখ, অন্ত্রের সংক্রমণ, প্যানক্রিয়াটাইটিস, এমনকি অন্ত্রে কোনও বস্তু আটকে থাকার সম্ভাবনাও থাকে।
বিষাক্ত বস্তু খেয়ে ফেললে ঝুঁকির সম্ভাবনা মারাত্মক । চকোলেট , কীটনাশক, পরিষ্কার করার রাসায়নিক বা মানুষের ব্যবহৃত কিছু ওষুধ কুকুর ও বিড়ালের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ধরনের কিছু খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি হলে প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যদি বমির সঙ্গে সঙ্গে পোষ্য নিস্তেজ হয়ে পড়ে, জল বা খাবার খেতে না চায়, জ্বর আসে বা পেট ফুলে যায়, তাহলে অপেক্ষা না করে দ্রুত পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে বা আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা যায়।
চিকিৎসকেরা বারবার সতর্ক করছেন নিজের মতো করে ওষুধ দেওয়া বা মানুষের ওষুধ খাওয়ানো কুকুর বিড়ালদের জন্য বিপজ্জনক। সামান্য বমি বলে অবহেলা করলে অনেক সময় পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। একবার বমি হলে নজর রাখা জরুরি, আর সমস্যা বাড়লে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই পোষ্যের সুস্থতার সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
