AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

রান্নাঘরে জুতো পরে ঢুকছেন? নিজের হাতেই ডেকে আনছেন না তো চরম দুর্ভাগ্য ও অর্থকষ্ট?

বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, রান্নাঘর হল অত্যন্ত শুদ্ধ ও ইতিবাচক শক্তির কেন্দ্র। জুতো বা চটি বাইরের নেতিবাচক শক্তি এবং ধুলোবালির বাহক। অপবিত্র অবস্থায় হেঁশেলের পবিত্র গণ্ডিতে প্রবেশ করলে দেবী অন্নপূর্ণা ও মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন বলে মনে করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে।

রান্নাঘরে জুতো পরে ঢুকছেন? নিজের হাতেই ডেকে আনছেন না তো চরম দুর্ভাগ্য ও অর্থকষ্ট?
| Updated on: Mar 11, 2026 | 7:02 PM
Share

বাঙালির অন্দরমহলে রান্নাঘর কেবল ডাল-ভাত রাঁধার জায়গা নয়, একে বলা হয় ‘লক্ষ্মীর ঘর’। শাস্ত্রীয় মতে, এই পবিত্র স্থানটি আসলে দেবী অন্নপূর্ণার অধিষ্ঠান ক্ষেত্র। কিন্তু আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় সকলে কি সেই শুদ্ধতা বজায় রাখছেন? অজান্তেই হয়তো বাইরের ধুলোমাখা জুতো বা ঘরের চটি পরেই ঢুকে পড়েন হেঁশেলের অন্দরে। বাস্তুবিদরা সতর্ক করে বলছেন, এই ছোট একটা অভ্যাসই আপনার জীবনে চরম সর্বনাশ ডেকে আনতে পারে। অশান্তি থেকে শুরু করে পকেটে টান— সব কিছুর মূলে থাকতে পারে রান্নাঘরের ওই একজোড়া চটি!

বাস্তুদোষ ও লক্ষ্মী বিয়োগের অশনি সংকেত

বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, রান্নাঘর হল অত্যন্ত শুদ্ধ ও ইতিবাচক শক্তির কেন্দ্র। জুতো বা চটি বাইরের নেতিবাচক শক্তি এবং ধুলোবালির বাহক। অপবিত্র অবস্থায় হেঁশেলের পবিত্র গণ্ডিতে প্রবেশ করলে দেবী অন্নপূর্ণা ও মা লক্ষ্মী রুষ্ট হন বলে মনে করা হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে। তুচ্ছ কারণে সংসারে বিবাদ, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তিক্ততা এবং মানসিক অস্থিরতা বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, এর ফলে ধীরে ধীরে অন্নের ভাণ্ডারে টান পড়ে এবং আর্থিক অনটন পরিবারকে গ্রাস করে। যাকে আমরা সহজ ভাষায় ‘লক্ষ্মী বিয়োগ’ বলে থাকি।

বাস্তু তত্ত্ব অনুযায়ী রান্নাঘর হল ‘অগ্নি’ তত্ত্বের আধার। অন্যদিকে, জুতো ‘পৃথিবী’ তত্ত্বের ভারী ও নেতিবাচক শক্তির প্রতীক। আগুনের সংস্পর্শে এই ভারী শক্তির উপস্থিতি তাত্ত্বিক ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এর প্রভাবে গৃহকর্তার পেশাগত জীবনে বারবার বাধা আসে। ভালো কাজ হাতছাড়া হওয়া বা অযথা খরচ বেড়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। বাড়ির সদস্যদের মধ্যে এক ধরণের অজানা অস্থিরতা কাজ করে যা উন্নতির পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

বিষয়টি কেবল বিশ্বাসের নয়, এর পেছনে রয়েছে জোরালো বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিও। জুতোর সোলে লেপ্টে থাকে কোটি কোটি ব্যাকটেরিয়া ও রোগ-জীবাণু। রান্নাঘরের আর্দ্র ও উষ্ণ পরিবেশ এই জীবাণুদের বংশবিস্তারের জন্য আদর্শ। মেঝে থেকে এই অদৃশ্য শত্রুরা অনায়াসেই খাবারে মিশে যেতে পারে। যার ফলস্বরূপ টাইফয়েড, ডায়েরিয়া বা পেটের গুরুতর সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের শরীরের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক।

সংসারের শ্রীবৃদ্ধি, আর্থিক স্বচ্ছলতা এবং সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা মাস্ট। তাই সুখের চাবিকাঠি নিজের হাতে রাখতে আজই বর্জন করুন রান্নাঘরে জুতো পরার অভ্যাস। মনে রাখবেন, পরিচ্ছন্ন এবং পবিত্র হেঁশেলই হল একটি সমৃদ্ধ ও সুখী গৃহকোণের আসল ভিত্তি।

Follow Us