AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Temple of India: দেশের এই মন্দিরে বছরে মাত্র ২ বার সূর্যের আলো পৌঁছায়!

Modhera Sun Temple: ২১ জুন হল উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন, প্রযুক্তিগতভাবে এই দিনকে গ্রীষ্মকালীন অয়নকাল বলা হয়। যেখানে সৌর বিষুব এর সময় সূর্য সরাসরি বিষুব রেখার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অর্থাৎ, যদি কোনও ব্যক্তি বিষুবরেখায় দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে সূর্য সরাসরি তার মাথার ওপরে দৃশ্যমান হবে। বছরের এদিনে অর্ধেক গ্রহ সম্পূর্ণরূপে আলোকিত থাকে, আবার এ সময়ে দিন ও রাত প্রায় সমান সমান হয়।

Temple of India: দেশের এই মন্দিরে বছরে মাত্র ২ বার সূর্যের আলো পৌঁছায়!
| Updated on: Feb 03, 2024 | 7:33 AM
Share

দেশে এমন অনেক মন্দির বা স্থপতি রয়েছে, যেগুলি আধুনিক যুগে বিশিষ্টদেরও ভাবাতে থাকে। সংস্কৃতি, শিল্প ও বিজ্ঞানের ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ভারত থেকে বহু পণ্ডিত-বিজ্ঞানীরাও নানা ক্ষেত্রে জ্ঞান অর্জন করেছেন। তবে বর্তমান সময়ে, পাশ্চাত্য সংস্কৃতির দিকে তাকালেই নিজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য ভুলে যাই। তবে দেশের বাইরে নয়, দেশের মধ্যেই রয়েছে হিরে-মুক্তো। অনেকেই হয়তো জানেন না, ভারতে এমন একটি মন্দির রয়েছে যা পদার্থবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, জ্যোতিষশাস্ত্র, সাহিত্য ও স্থাপত্যের দিক থেকে সেরার সেরা। গুজরাতের মোধেরার সূর্য মন্দির যা জ্যোতির্বিদ্যা বিজ্ঞান ও শৈল্পিক দক্ষতার একটি জীবন্ত উদাহরণ।

প্রায় হাজার বছর ধরে, গুজরাটের মোধেরার এই সূর্য মন্দিরটির অলৌকিক রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেননি কোনও বিজ্ঞানীরা। এই মন্দিরের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মহাকাশ, সূর্য ও পৃথিবীর গতিবিধি। বহু প্রাচীন এই মন্দির তৈরিতে যে ধরনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে তা আজকের যুগের তাবড় তাবড় বিজ্ঞানীদের কাছেও আগ্রহের জায়গা।

ইতিহাস অনুযায়ী, পাটন জেলায় নির্মিত মোধেরার এই সূর্য মন্দিরটি পুষ্পবতী নদীর তীরে নির্মিত। ১০২৬ সালে সোলাঙ্কি রাজবংশের রাজা ভীমদেব প্রথম দ্বারা নির্মিত হয়েছিল এই মন্দির। বছরে মাত্র ২ দিন সূর্যের রশ্মি এই মন্দিরের গর্ভগৃহে পৌঁছায়। সৌরজগতের কেন্দ্রস্থল সূর্যকে উৎসর্গ করা এই মন্দিরের গর্ভগৃহটি শুধুমাত্র গ্রীষ্মকালীন অয়ন ও সৌর বিষুব দিনে সূর্যালোক পায়। ২১ জুন হল উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন, প্রযুক্তিগতভাবে এই দিনকে গ্রীষ্মকালীন অয়নকাল বলা হয়। যেখানে সৌর বিষুব এর সময় সূর্য সরাসরি বিষুব রেখার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। অর্থাৎ, যদি কোনও ব্যক্তি বিষুবরেখায় দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে সূর্য সরাসরি তার মাথার ওপরে দৃশ্যমান হবে। বছরের এদিনে অর্ধেক গ্রহ সম্পূর্ণরূপে আলোকিত থাকে, আবার এ সময়ে দিন ও রাত প্রায় সমান সমান হয়।

কথিত আছে যে এই মন্দিরের গর্ভগৃহে, যেখানে সূর্যের প্রথম রশ্মি পড়ে, সেখানে সূর্য দেবতার একটি সোনার মূর্তি ছিল। এই মূর্তির মুকুটে লাল হীরার ওপর সূর্যের রশ্মি পড়লে পুরো গর্ভগৃহ আলোকিত হয়ে ওঠত। কিন্তু এখন এই মূর্তি এই মন্দিরে আর নেই।

এই মন্দিরের অন্দরে রয়েছে মোট ৫২টি স্তম্ভ। আর এই স্তম্ভগুলি বছরের ৫২ সপ্তাহের প্রতিনিধিত্ব করে। বিভিন্ন দেব-দেবীর ছবি ছাড়াও রামায়ণ ও মহাভারতের পর্বগুলি চমৎকারভাবে নিপুন শিল্পে স্তম্ভগুলিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।  আরও আশ্চর্যের বিষয় হল,  এই স্তম্ভগুলিকে সামনে থেকে দেখলে তা অষ্টভুজাকার দেখায়, কিন্তু উপরে থেকে দেখলে এগুলি গোলাকার দেখায়। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল এই মন্দির নির্মাণে কোথাও চুন ব্যবহার করা হয়নি। এখানে সূর্যকুন্ডে মোট ১০৮ মন্দির তৈরি করা হয়েছে, ১২ রাশি এবং ৯ নক্ষত্রকে গুণ করে।

Follow Us