AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

শ্রাবণ মাসে ৫ দিন পোশাক না পরেই মহিলাদের ব্রত পালন! জানেন ভারতের কোন গ্রামে এই প্রথা চালু?

আচার-অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষকে যেমন বিস্মিত করে, তেমনই কৌতুহলীও করে তোলে। তেমনই এক অবিশ্বাস্য ও রহস্যময় প্রথা রয়েছে হিমাচল প্রদেশের মণিকর্ণ উপত্যকার ‘পিনি’ (Pini) গ্রামে। সেখানে শতাব্দী ধরে মহিলারা বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিনে পোশাক ছাড়া এক বিশেষ ব্রত পালন করে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি কেবল একটি নিয়ম নয়, বরং ভক্তি ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপিত এক ধর্মীয় উৎসব।

শ্রাবণ মাসে ৫ দিন পোশাক না পরেই মহিলাদের ব্রত পালন! জানেন ভারতের কোন গ্রামে এই প্রথা চালু?
| Updated on: Jul 22, 2026 | 3:06 PM
Share

ভারত বিচিত্র সংস্কৃতি এবং বিরল লোকরীতির দেশ। এ দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও গ্রামের রয়েছে নিজস্ব ঐতিহ্য ও অনন্য বৈশিষ্ট্য। তবে এর মধ্যে কিছু প্রথা বা আচার-অনুষ্ঠান সাধারণ মানুষকে যেমন বিস্মিত করে, তেমনই কৌতুহলীও করে তোলে। তেমনই এক অবিশ্বাস্য ও রহস্যময় প্রথা রয়েছে হিমাচল প্রদেশের মণিকর্ণ উপত্যকার ‘পিনি’ (Pini) গ্রামে। সেখানে শতাব্দী ধরে মহিলারা বছরের নির্দিষ্ট কিছু দিনে পোশাক ছাড়া এক বিশেষ ব্রত পালন করে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এটি কেবল একটি নিয়ম নয়, বরং ভক্তি ও উৎসাহের সঙ্গে উদযাপিত এক ধর্মীয় উৎসব।

পিনি গ্রামের মহিলারা প্রতি বছর শ্রাবণ মাসে টানা পাঁচ দিনের জন্য এই বিশেষ ব্রত পালন করেন। এই পাঁচ দিন তাঁরা কোনও বস্ত্র পরিধান করেন না। তবে এই নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি হল—এই দিনগুলোতে মহিলারা ঘরের বাইরে পা রাখেন না। সম্পূর্ণ একান্তে থেকে একা একা সময় কাটান; পরিবারের সদস্য বা বাইরের কারও সঙ্গে দেখা করেন না এবং কোনও কথাও বলেন না।

অবশ্য যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রাচীন এই প্রথায় সামান্য কিছু শিথিলতা এসেছে। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক মহিলা একদম বস্ত্রহীন না থেকে শরীর ঢাকতে পাতলা পশমি বা রেশমি পোশাক ব্যবহার করেন এবং ঘরের ভেতরেই একান্তে থেকে ব্রত সম্পূর্ণ করেন।

স্থানীয় অধিবাসীদের বিশ্বাস ও লোককথা অনুযায়ী, বহু শতাব্দী আগে পিনি গ্রামে এক নিষ্ঠুর রাক্ষসের উপদ্রব ছিল। সুসজ্জিত ও সুন্দর পোশাকে থাকা বিবাহিত নারীদের ধরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করত সেই রাক্ষস। রাক্ষসের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গ্রামবাসীরা তাঁদের রক্ষাকর্ত্রী দেবী ‘লাহুয়া ঘোঁট’-এর (Lahua Ghont) শরণাপন্ন হন। দেবী মর্ত্যে আবির্ভূত হয়ে সেই রাক্ষসকে বধ করেন এবং গ্রামকে রক্ষা করেন।

সেই ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করতেই এবং ভবিষ্যতে কোনও অশুভ শক্তি যেন গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে, তার সুরক্ষাকবচ হিসেবেই আজও মহিলারা এই অলৌকিক ও কঠোর রীতিনীতি মেনে চলেন।

কেবল মহিলারাই নন, এই পাঁচ দিন গ্রামের পুরুষদেরও অত্যন্ত কঠোর নিয়ম ও অনুশাসন মেনে চলতে হয়। ব্রত চলাকালীন পুরুষেরা তাঁদের স্ত্রীদের সঙ্গে কোনও কথা বলতে পারেন না। এ ছাড়া মদ, মাংস বা যেকোনও ধরনের খাবার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।

এমনকী, এই ৫ দিন বাইরে থেকে কোনও অজ্ঞাত বা অতিথি ব্যক্তির গ্রামে প্রবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয় না। স্থানীয়দের দৃঢ় বিশ্বাস, এই প্রাচীন পরম্পরা তাঁদের গ্রামের যৌথ বিশ্বাস, ঐতিহ্য এবং অশুভ শক্তির হাত থেকে গ্রামের সুরক্ষার এক অন্যতম প্রতীক।

Follow Us