AQI
TV9 Network
User
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Meaning of Durga: কেন দেবীর নাম ‘দুর্গা’? নামের প্রতিটি অক্ষরের অর্থ জানেন?

Durga Puja 2026: সৃষ্টিকে এক চরম দুর্গতির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন দেবী। আর সেখান থেকেই তাঁর নাম হয় ‘দুর্গা’। কিন্তু জানেন কি, এই নামের প্রতিটি অক্ষরেই লুকিয়ে রয়েছে জীবনের যাবতীয় সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়? এই নামের অজানা ইতিহাস ও আসল অর্থ জেনে নিন।

Meaning of Durga: কেন দেবীর নাম ‘দুর্গা’? নামের প্রতিটি অক্ষরের অর্থ জানেন?
জানুন বিস্তারিতImage Credit: Getty Images
| Updated on: Oct 01, 2026 | 8:53 AM
Share

সৃষ্টি তখন ক্রমশ তলিয়ে যাচ্ছে এক জমাট অন্ধকারের গভীরে। টানা একশো বছর পৃথিবীতে এক ফোঁটা বৃষ্টি নেই। নদী শুকিয়ে কাঠ, গাছপালা নিশ্চিহ্ন। চারদিকে শুধুই মৃত্যু আর হাহাকার। কারণ, বেদ চুরি গিয়েছে। আর সেই দুঃসাহসিক চুরির নেপথ্যে রয়েছে এক প্রবল পরাক্রমশালী অসুর, দুর্গমাসুর।

‘দেবী ভাগবত পুরাণ’-এর পাতা ওল্টালে ঠিক এই ভয়ংকর দৃশ্যেরই মুখোমুখি হতে হয়। দুর্গমাসুর ব্রহ্মার বর পেয়ে বেদ চুরি করে নেওয়ার ফলে, ঋষিরা সমস্ত মন্ত্র ভুলে যান। যজ্ঞ বন্ধ। দেবতারাও শক্তিহীন। স্বর্গ, মর্ত্য, পাতাল, তিন লোকেই নেমে এসেছে এক মহাজাগতিক সংকট। দেবতারা যখন মরিয়া হয়ে আদি পরাশক্তির আরাধনা শুরু করলেন, তখন সেই ডাকে সাড়া দিয়ে আবির্ভূত হন দেবী। পুরাণে বলা হয়েছে, তিনি নিজের শরীর থেকে শাকসবজি ও ফলমূল সৃষ্টি করে ক্ষুধার্ত প্রাণীদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন। দেবী তখন পরিচিত হন ‘শাকম্ভরী’ নামে। এরপর শুরু হয় এক মহাযুদ্ধ।

টানা কয়েক দিন ধরে চলা সেই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবশেষে দেবীর ত্রিশূল ফালাফালা করে দেন দুর্গমাসুরের বুক। মহিষাসুর বধের অনেক আগেই, এই দুর্গমাসুরকে বধ করে দেবী সমগ্র সৃষ্টিকে এক চরম দুর্গতির হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। আর ঠিক সেই দিনই, দুর্গমাসুরকে বিনাশ করার জন্য দেবতারা তাঁর নামকরণ করেন, ‘দুর্গা’।

আধুনিক গবেষণা আর প্রাচীন পুঁথি ঘাঁটলে দেখা যায়, আসল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে এই নামের পরতে পরতে। প্রাচীন সংস্কৃত অভিধান ‘শব্দকল্পদ্রুম’-এ স্পষ্ট বলা হয়েছে, ‘দুর্গা’ নিছক কোনও নাম নয়। এটি প্রাচীন ভারতের এক আদিম ‘সাউন্ড ফ্রিকোয়েন্সি’।

নামটি ভাঙলে দাঁড়ায়— ‘দ’ অক্ষরটি হল দৈত্যনাশক। ‘উ’-কার জীবনের যাবতীয় বিঘ্ন বা বাধা নিমেষে মুছে ফেলে। ‘রেফ’ (র্) করে রোগনাশ। ‘গ’ মানে সমস্ত পাপের বিনাশ। আর শেষের ‘আ’-কার হল ভয় ও শত্রুনাশক।

অর্থাৎ, যে প্রবল শক্তি পাপ, রোগ, শত্রু আর দুর্গতি থেকে পরম মমতায় বিশ্বকে আগলে রাখে, তিনিই দুর্গা।

যুগ বদলেছে ঠিকই, কিন্তু অসুর থেকেই গিয়েছে। আজ হয়তো সেই দুর্গমাসুর নেই, কিন্তু রোজকার জীবনে অবসাদ, উদ্বেগ আর হেরে যাওয়ার ভয়ের মতো অদৃশ্য অসুরদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যেতে হয় প্রত্যেককে। কখনও কর্মক্ষেত্রের প্রবল প্রতিযোগিতা, কখনও সম্পর্কের টানাপোড়েন, আবার কখনও নিছকই একাকীত্ব। প্রতিদিনের এই জটিল চক্রব্যূহে মানুষ যখন দিশেহারা হয়ে পড়ে, তখন এই ছোট্ট দু’অক্ষরের নামটি যেন এক অদৃশ্য বর্ম হয়ে সামনে এসে দাঁড়ায়।

যুগ যুগ ধরে মুনি-ঋষিরা এই নামকে শ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ হিসেবে মেনে এসেছেন। কারণ, এই নাম জপ করার সঙ্গে সঙ্গে মনের ভেতরের সব নেতিবাচক চিন্তা দূরে সরে যায়, স্থিরতা আসে। মনে হয়, অন্ধকারে কেউ একজন পরম স্নেহে হাত ধরে রয়েছে। পড়ে গেলেও আবার উঠে দাঁড়ানোর ভরসা জোগাচ্ছে। বাঙালি জীবনে এই নাম শুধু পুজো মণ্ডপে সীমাবদ্ধ থাকে না। বিপদে পড়লে, ভয় পেলে, বা অন্ধকার রাস্তায় একা হাঁটতে গেলে সবার আগে মানুষের মুখে যে নামটা আসে, তা হল ‘দুর্গা’। এই নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত মানসিক প্রশান্তি। শত কষ্টের মাঝেও এই নাম মনে করিয়ে দেয়, অন্ধকারের পরেই রয়েছে আলো।

দুর্গা তাই শুধুই মণ্ডপের মৃন্ময়ী মূর্তি নন। তিনি কোনও একটি নির্দিষ্ট উৎসবের মধ্যেও আটকে নেই। দুর্গা হলেন মনের ভেতরের সেই অনন্ত শক্তি। চরম বিপদের দিনে যে শক্তি কানে কানে বলে, “ভয় নেই, আমি আছি।” দুর্গতিহারিণীর এই নাম তাই সব বয়সের মানুষের কাছে ভক্তি, ভরসা আর চূড়ান্ত মুক্তির এক চিরন্তন স্পন্দন।

Follow Us