মন্দির সরাতে গিয়ে মৃত্যু! মন্দির স্থানান্তরে বাধা দেন ইন্দিরা গান্ধী, কলকাতার এই মন্দির ঘিরে আজও রহস্য
এই পুজো তাঁর একেবারেই পছন্দ হয়নি। তাঁর অনুমতি ছাড়া পুজো হচ্ছে, এটা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এক রাতে তিনি নির্দেশ দেন মূর্তিটা সরিয়ে দিতে হবে। রাতের অন্ধকারে কালীমূর্তিকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। সেইদিন রাতেই সেই সাধারণ পূজারীকে মা স্বপ্নে দেখা দিয়ে জানান তাঁকে আবার পুকুর থেকে তুলে আনতে হবে।

কলকাতার চরম ব্যস্ততম জায়গাগুলোর মধ্যে অন্যতম শোভাবাজার। বাস, অটো, গাড়ির ভিড়ের মাঝে চোখে পড়ে একটি ছোট লাল মন্দির। অনেকেই প্রতিদিন এই মন্দিরের পাশ দিয়ে চলে যান, কেউ আবার হঠাৎ থেমে প্রণাম করেন। অনেকের মনেই প্রশ্ন আসে এমন জনবহুল এলাকায় ঠিক রাস্তার মাঝে কেন এই মন্দির? জানেন এর উত্তর লুকিয়ে আছে প্রাচীন কলকাতার গল্পের মধ্যে। শুনলে অবাক হবেন এই মন্দির সরাতে গিয়ে ঘটেছিল মৃত্যু। এমনকি স্বয়ং ইন্দিরা গান্ধীও এই মন্দির সরাতে দেননি।
জনশ্রুতি অনুযায়ী বহু বছর আগে, শোভাবাজার এলাকায় এক পূজারি নিজের বিশ্বাস থেকে খুব সাধারণভাবে কালীপুজো করতেন। । তখন এই এলাকা ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির কর্তা রাজা নবকৃষ্ণ দেবের অধীনে। এই পুজো তাঁর একেবারেই পছন্দ হয়নি। তাঁর অনুমতি ছাড়া পুজো হচ্ছে, এটা তিনি মেনে নিতে পারেননি। এক রাতে তিনি নির্দেশ দেন মূর্তিটা সরিয়ে দিতে হবে। রাতের অন্ধকারে কালীমূর্তিকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়।
সেইদিন রাতেই সেই সাধারণ পূজারীকে মা স্বপ্নে দেখা দিয়ে জানান তাঁকে আবার পুকুর থেকে তুলে আনতে হবে। পূজারী গিয়ে দেখেন মা সেই পুকুরে রয়েছেন একেবারেই অক্ষত অবস্থায়। খবর পৌঁছায় রাজা নবকৃষ্ণ দেবের কাছেও। শেষ পর্যন্ত জমিদারের সম্মতিতেই ওই জায়গাতেই মন্দির তৈরি হয়। লাল রঙে রাঙানো সেই মন্দিরটাই আজকের শোভাবাজার লাল মন্দির।
এরপর বহু বছর কেটে গেছে। কলকাতা শহর আরও উন্নত হয়েছে, রাস্তা চওড়া হয়েছে। গাড়ি বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে যানজটও। বহুবার রাস্তা সংস্কারের পরিকল্পনা হয়েছে। তখনই প্রশ্ন উঠেছে এই মন্দির থাকবে তো?
তবে প্রতিবারই কোনও না কোনও কারণে কাজ থেমে গেছে। কখনও দুর্ঘটনা, কখনও সমস্যা। লোকমুখে শোনা যায় মন্দির সরাতে গিয়ে মৃত্যুও ঘটেছিল একজনের। ধীরে ধীরে একটা কথা লোকের মুখে মুখে ঘুরতে শুরু করে এই মন্দির সরানো যাবে না। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনও সেটাই মেনে নেয়।
পরবর্তীতে মেট্রো তৈরির সময় আবার মন্দির নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। বিষয়টা পৌঁছায় কেন্দ্র পর্যন্ত।
শোনা যায়, ইন্দিরা গান্ধী মন্দির না ভেঙে বিকল্প পথ বাছতে বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী মেট্রো আর রাস্তার নকশা বদলে দেওয়া হয়, অতিরিক্ত খরচও করা হয়। কিন্তু মন্দির অক্ষত থাকে। তারপর থেকে আর মন্দির সরানোর সাহস পাননি কেউই।
