কলকাতা: দিল্লি দূর নেহি… অক্ষর প্যাটেলের পল্টন অরেঞ্জ আর্মিকে হারিয়ে হয়তো দিচ্ছে এমনই হুঙ্কার। ভাইজ্যাগে গত বারের রানার্সরা নিজেদের মেলে ধরতেই পারল না। এমনটাই বলছে ক্রিকেট মহল। বল হাতে প্রথমে দাপট দেখান প্রাক্তন কেকেআর তারকা মিচেল স্টার্ক। এক, দুই নয়, তিনি তুলে নেন ৫টি উইকেট। সেখানেই হায়দরাবাদের ব্যাটাররা আইসিইউতে যাওয়ার জোগাড় হয়। তালিকায় আলাদা করে রাখতে হয় অনিকেত ভার্মাকে। তিনি ৭৪ রান না করলে দিল্লিকে ১৬৪ রানের টার্গেট দিতে পারত না হায়দরাবাদ। আর অরেঞ্জ আর্মির দেওয়া টার্গেট তাড়া করতে খুব বেগ পেতে হয়নি দিল্লিকে। ২৪ বল বাকি থাকতেই আজকের আইপিএল (IPL) ম্যাচে সহজে ২ পয়েন্ট তুলে নেন ডু’প্লেসি-অভিষেকরা।
প্রথমে ব্যাটিং করে ১৮.৪ ওভারে ১৬৩ রান তোলে সানরাইজার্স। ওপেনার ট্রাভিস হেড (২২), অনিকেত ভার্মা (৭৪), হেনরিখ ক্লাসেন (৩২) ছাড়া হায়দরাবাদের কোনও ক্রিকেটার ২ অঙ্কের রান করতে পারেননি। সেখানে দিল্লির বোলাররা দুই অঙ্কের রান (১১) অতিরিক্ত দিয়েছে। তা না হলে টার্গেট ১৫০-এর কাছাকাছিও হতে পারত। সব মিলিয়ে এই ১৬৪ রানের পুঁজি নিয়ে দিল্লিকে চাপে ফেলতে পারেনি অরেঞ্জ আর্মি।
জ্যাক ফ্রেজার ম্যাকগুরুক ও ফাফ ডু’প্লেসির ওপেনিং জুটিতে ওঠে ৮১ রান। দশম ওভারে গিয়ে এই জুটি ভাঙেন হায়দরাবাদের তরুণ বোলার জিশান আনসারি। ২৭ বলে ৫০ রান করে মাঠ ছাড়েন অক্ষর প্যাটেলের ডেপুটি। তাঁর ও জ্যাকের ওপেনিং জুটিই দিল্লির জয়ের ভিত গড়ে দেয়। এরপর জ্যাককে কট অ্যান্ড বোল্ড করেন জিশান। গুরুত্বপূর্ণ ৩৮ রান জ্যাকের। এরপর অভিষেক পোড়েল ও লোকেশ রাহুল জুটি বাঁধেন। এই ম্যাচে অনেকের নজরে ছিলেন লোকেশ রাহুল। কারণ দিল্লি তাঁকে প্রথম ম্যাচে পায়নি। রাহুল ও তাঁর স্ত্রী আথিয়ার কোল আলো করে এসেছে তাঁদের প্রথম কন্যাসন্তান। এরপরই তিনি দলে যোগ দিয়েছেন। আজ খেলতেও দেখা গেল। প্রথমে উইকেটকিপিংয়ে নজর কেড়েছিলেন। তারপর মাত্র ৫ বলে ১৫ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছয়।
অরেঞ্জ আর্মির কোনও বোলারই সেই অর্থে দাগ কাটতে পারেননি। ৩টি উইকেটই তুলেছেন জিশান আনসারি। শেষ অবধি ত্রিস্টান স্টাবস ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। আর অভিষেক পোড়েল ১৮ বলে ৩৪ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। ১৬তম ওভারে ছক্কা হাঁকিয়ে দলকে জেতান অভিষেক। ম্যাচের সেরার পুরস্কার গিয়েছে মিচেল স্টার্কের ঝুলিতে।