Shakib Al Hasan: ‘আমি দেশে ফিরতে চাই, কিন্তু…’, তারেক সরকারের কাছে বার্তা দিলেন শাকিব আল হাসান!
Shakib Al Hasan Return in Bangladesh: ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় বাংলাদেশে প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। সেই ঘটনা চলাকালীনই দেশ থেকে একপ্রকার বেরিয়ে যান হাসিনা। তাঁর বাসভবন ভাঙচুর করে সব জিনিসপত্র একপ্রকার চুরি করে উন্মত্ত জনতা। এরপরেই তৎকালীন ইউনুস সরকার শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ড দেয়।

ঢাকা : সঠিক নিরাপত্তা পেলেই একমাত্র দেশে ফিরবেন বাংলাদেশের তারকা ক্রিকেটার ও আওয়ামী লিগের প্রাক্তন সাংসদ শাকিব আল হাসান। তাঁর কথায়, দেশে ফিরলে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলা, এমনকি খুনের অভিযোগের জন্য আদালতে যেতে প্রস্তুত তিনি। পাশাপাশি, দেশের মাটিতে একটি বিদায়ী সিরিজ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো ও ২০২৭ সালে একদিনের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের হয়ে খেলার ইচ্ছেও প্রকাশ করেছেন শাকিব।
শেখ হাসিনার আওয়ামী লিগের প্রাক্তন সাংসদ শাকিব ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই দেশের বাইরে রয়েছেন। বর্তমানে আমেরিকায় স্ত্রী ও ৩ সন্তানকে নিয়ে থাকেন তিনি। যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে এখনও অবসর নেননি ৩৯ বছরের শাকিব। শ্রীলঙ্কায় লঙ্কা প্রিমিয়ার লীগ খেলতে গিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেছেন, “সরকার যদি আমাকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়ে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়, তাহলে আমি ফিরতে প্রস্তুত। আদালতে গিয়ে বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতেও আমার কোনও আপত্তি নেই।” শাকিব এও দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগগুলি মিথ্যে। তিনি কিছুই করেননি।
২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন দমনের সময় বাংলাদেশে প্রায় ১,৪০০ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। সেই ঘটনা চলাকালীনই দেশ থেকে একপ্রকার বেরিয়ে যান হাসিনা। তাঁর বাসভবন ভাঙচুর করে সব জিনিসপত্র একপ্রকার চুরি করে উন্মত্ত জনতা। এরপরেই তৎকালীন ইউনুস সরকার শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদন্ড দেয়। কিন্তু ২০২৬-এ সরকার বদলে ক্ষমতায় আসে বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী হন তারেক রহমান। যদিও হাসিনা সম্প্রতি জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর দলের নেতারা দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল সাংবাদিক বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন শাকিব। এরপরেই তাঁর মগুড়ার বাড়িতে হামলা হয়। সেই প্রসঙ্গে শাকিব জানান, তিনি শুধুমাত্র শান্তি ও বাংলাদেশের উন্নতির পক্ষে কথা বলেছিলেন।
শাকিব আরও জানিয়েছেন, আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তাঁর আইনজীবীর মধ্যে স্বরাষ্ট্র, আইন ও ক্রীড়া মন্ত্রকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন তিনি কিন্তু কোনও উত্তর পাননি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতেও ইচ্ছুক বাংলাদেশের অন্যতম সেরা এই অলরাউন্ডার। যদিও শাকিবকে নিয়ে কড়া বাংলাদেশ সরকার। সরকারের সচিব এ এ এম সালেহ জানিয়েছেন, “পরিচয় বা মর্যাদা যাই হোক না কেন, আইনের চোখে সাবিক একজন অভিযুক্ত। তাই তাঁকে আদালতে আত্মসমর্পন করে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।” সব মিলিয়ে, বৈঠকে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিপাকে শাকিব। আদৌ তিনি তাঁর দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন সফল করতে পারবেন কী না, সেই দিকেই প্রশ্ন সবার।
