
কলকাতা: বঞ্চনা, গঞ্জনা, সমালোচনা শুনতে শুনতে তাঁর ব্যাট আরও তীক্ষ্ণ হয়েছে। পরিস্থিতি বুঝে তিনি শট বাছাই করতে শিখেছেন। মুখে বলে নয়, ব্যাট হাতে তা প্রমাণ করাটাই পছন্দ করেছেন ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan)। ঝাড়খণ্ডের উইকেটকিপার ব্যাটার যে আইপিএলে (IPL) রানের ফুলঝুরি ফোটাতে তৈরি, তার রিহার্সাল দিয়েছিলেন মরসুম শুরুর আগে প্রস্তুতি ম্যাচে। একেবারে বিধ্বংসী মেজাজে নতুন জার্সিতে ধরা দিয়েছিলেন ঈশান। এ বার আইপিএলে প্রথম বার অরেঞ্জ জার্সিতে নেমে সেই ছন্দই ধরে রাখলেন। ৪৫ বলে তিন অঙ্কের রানে পৌঁছে যান ঈশান। আর ২টো রান করলেই ইতিহাস গড়তে পারত অরেঞ্জ আর্মি। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দলগত রান রয়েছে হায়দরাবাদের (২৮৭ রান) ঝুলিতে। সেটা অল্পের জন্য হল না।
গত মরসুমের আইপিএলে আরসিবির বিরুদ্ধে ৩ উইকেটে ২৮৭ রান করেছিল হায়দরাবাদ। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দলগত রানের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে ছিল অরেঞ্জ আর্মিই। সে বার মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ৩ উইকেটে ২৭৭ রান করেছিল সানরাইজার্স। তিন নম্বরে ছিল কেকেআর। গত মরসুমে দিল্লির বিরুদ্ধে কেকেআর ৭ উইকেটে ২৭২ রান করেছিল। এ বার টপ থ্রি থেকে বেরিয়ে গেল নাইটরা। কারণ, আজ ৬ উইকেটে ২৮৬ রান করেছে হায়দরাবাদ। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স এ বারের আইপিএলের নিলামের আগে রিটেন করেনি ঈশানকে। এ বার যেন নতুন দলে সুযোগ পেতেই দিলেন দুরন্ত জবাব।
হায়দরাবাদের ইনিংসের ১৯তম ওভারে সন্দীপ শর্মাকে পরপর দুই ছক্কা হাঁকান ঈশান। এরপর ডাবল নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাট উচু করে ধরে মাঠে দৌড়তে থাকেন ঈশান। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসে ভাসতে দেখা যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালকিন কাব্যা মারানকে। আইপিএল কেরিয়ারে এটিই ঈশানের প্রথম সেঞ্চুরি।
ঈশানের ৪৭ বলে ১০৬ রানের অপরাজিত ইনিংসের পাশাপাশি ট্রাভিস হেড করেন ৬৭ রান। হেনরিখ ক্লাসেনের ব্যাটে আসে ৩৪ রান। নীতীশ কুমার রেড্ডি করেন ৩০ রান। ওপেনার অভিষেক শর্মার স্কোর ২৪। ৩টি উইকেট নেন তুষার দেশপান্ডে। ২টি উইকেট মহেশ থিকশানার। ১টি সন্দীপ শর্মার।
আইপিএলের আরও খবর পড়তে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে।