Ashok Sharma Debut: দাদার ত্যাগ থেকে ভারতের জার্সি, ভারতীয় দলের নতুন বোলার অশোক শর্মার কাহিনী হার মানাবে সিনেমাকেও!
Zimbabwe vs India T20: ২০২২ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৫৫ লক্ষ টাকায় তাঁকে দলে নিয়েছিল। নেটে বড় বড় ব্যাটসম্যানদের আউট করলেও কেকেআরের মূল দলে তাঁর জায়গা হয়নি। ২০২৫ সালে তাঁর নিজের রাজ্যের দল রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকায় কিনেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেবারেও তিনি মাঠের বাইরে বসে কাটান।

হারারে : আজ, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ভারত বনাম জিম্বাবোয়ে টি২০ সিরিজ। আয়ারল্যান্ড, ইংল্যান্ডের কাছে হারের পর আবার একটি সিরিজে নামছে শ্রেয়স অ্যান্ড কোং। তবে এই সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ভারতের জন্য গলা ফাটাবে জয়পুরের খুব কাছের একটি গ্রাম, রামপুরা। কারণ, সেই অখ্যাত গ্রামের ছেলে খেলছে বিশ্বমঞ্চে, পরনে ভারতীয় দলের জার্সি – এই স্বপ্নই তো বছরের পর বছর পুষে রেখেছিলেন রামপুরার বাসিন্দা নাথুলাল শর্মা। এই আইপিএলে ১৫৪.২ কিমি/ঘন্টা বেগে বল করার পরেই অনেকে বলেছিলেন, জাতীয় দলের দরজা এবার খুলল বোধহয়। প্রশ্ন হল, তাঁরা কি ভবিষ্যৎ দেখতে পান? কারণ, জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে অভিষেক করলেন অশোক শর্মা। প্রথম ম্যাচে কোনও উইকেট না পেলেও স্মরণীয় পারফরম্যান্স করলেন অশোক। অভিষেকে তাঁর বোলিং ফিগার, ৪-০-২৯-০।
অশোক শর্মার বয়স মাত্র ২৪। ২০০২ সালের ১৭ জুন তাঁর জন্ম। তাঁর বাবা নাথুলাল শর্মা একজন কৃষক। অশোক রাজস্থানের জয়পুরা গ্রামে থাকেন। অশোকরা দুই ভাই। একে তো গ্রামের ক্রিকেটে পেশাদার কেরিয়ার গড়ার তেমন সুযোগ ছিল না, তার উপর বিধি বাম? অর্থ। কৃষক পিতার পক্ষে ক্ষমতা ছিল না, দুই ছেলের ক্রিকেটের খরচ চালানো। তাই পরিবারকে নিতে হয় এক কঠিন সিদ্ধান্ত। দুজনের মধ্যে যেকোনও একজন ক্রিকেট খেলতে পারবেন।
সেই সময় নিজের ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দেন অশোকের বড় ভাই অক্ষয় শর্মা। তিনি নিজেও জেলা স্তরে ক্রিকেট খেলেছেন। কিন্তু ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে নিজের ক্রিকেট কেরিয়ার বিসর্জন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অক্ষয়, যাতে ছোটভাই অশোক নিজের পেশাদার ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নপূরণ করতে পারেন। কম পরিশ্রম করেনি অশোকের পরিবার। তাঁর সাফল্যও এসেছে ধাপে ধাপে। স্কুলে পড়াকালীনই তাঁর বোলিংয়ে ঔজ্জ্বল্য লক্ষ্য করা যায়। এরপরে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতেও তিনি ভাল বোলিং করেছিলেন। তাঁর গতি ও সুইং দিয়ে সবাইকে মুগ্ধ করেছিলেন অশোক। তাঁর এই পারফরম্যান্সই তাঁকে আইপিএলের মতো বড় মঞ্চে নিজেকে প্রমাণের সুযোগ করে দেয়।
তবুও আইপিএলে সুযোগ পেলেও মাঠে নামার সুযোগ সেই অর্থে পাননি অশোক। ২০২২ সালে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৫৫ লক্ষ টাকায় তাঁকে দলে নিয়েছিল। নেটে বড় বড় ব্যাটসম্যানদের আউট করলেও কেকেআরের মূল দলে তাঁর জায়গা হয়নি। ২০২৫ সালে তাঁর নিজের রাজ্যের দল রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে ৩০ লক্ষ টাকায় কিনেছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেবারেও তিনি মাঠের বাইরে বসে কাটান। অবশেষে এবছর তাঁকে দলে নিয়েছিল গুজরাট টাইটান্স। সেই দলের হয়েই একটি ম্যাচে রাজস্থানের বিরুদ্ধে ১৫৪.২ কিমি/ঘন্টা বেগে বল করেছিলেন তিনি। তারপরেই তাঁকে জাতীয় দলে নেওয়ার জন্য দাবি উঠেছিল। আজ, বৃহস্পতিবার জাতীয় দলের জার্সি পেলেন অশোক। যে জাতীয় দলের জার্সিতে সন্তানকে খেলতে দেখার জন্য কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন নাথুলাল;যে ভাই যাতে দেশের হয়ে খেলতে পারে, এমন আশায় নিজের কেরিয়ার বিসর্জন দিয়েছিলেন অক্ষয়, আজ অশোকের সাফল্যে তাঁদের সবারই আনন্দিত হওয়ার কথা। আর অশোক? দাদা আত্মত্যাগ না করলে তাঁর ‘অক্ষয়প্রাপ্তি’ হত কিভাবে?
