Mohunbagan vs Eastbengal: হাবাসের ভুলে হারল ইস্টবেঙ্গল, জিতে সমীর-ড্র্যাজিচকে ধন্যবাদ প্যানোসের
IFA Shield 2026: আর ঠিক ৩ দিন পরেই শুরু আইএসএল। ৪ দিন পর নর্থইস্ট ইউনাইটেডের ঘরের মাঠে তাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলেই আইএসএল অভিযান শুরু করবে মোহনবাগান। সেই ম্যাচের আগে আইএফএ শিল্ড জয় যে বাগানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল, সেটাও স্বীকার করেছেন প্যানোস।

কলকাতা : প্রথমে কলকাতা লিগ, তারপর আইএফএ শিল্ড। গত বছর থেকে ধরলে, টানা দুটো আইএফএ শিল্ড – চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হেরে মাঠেই ফেলে এসেছে ইস্টবেঙ্গল। গতকাল শিল্ড ফাইনালেও মোহনবাগানের কাছেই ১-০ হেরে হাতছাড়া হয়েছে শিল্ড। গোল করেছেন সমীর জেলকোভিচ। ইস্টবেঙ্গল কোচ যতই হেরে সাংবাদিক সম্মেলন বয়কট করুন না কেন, হারের পিছনে অনেক কারণ তো উঠে আসছে।
যেমন, প্রথমেই প্রশ্ন, কেন আনোয়ার খেললেন না? কোন যুক্তিতে এই মুহূর্তে দেশের সেরা ডিফেন্ডার দলের বাইরে থাকেন? হাবাস যতই এএফসি আর জাতীয় দলের দোহাই দিন না কেন, এটা পরিষ্কার যে ম্যাচে বাগান বারবার ইস্টবেঙ্গলকে ডিফেন্সিভ লড়াইতে পিছিয়ে বাজিমাত করেছে। এর পাশাপাশি আনোয়ার না থাকাটা যেন শাপে বর হয়ে দাঁড়িয়েছিল বাগানের জন্য। আনোয়ার থাকলে অন্তত বাগানের ফুটবলাররা বারবার বক্সে ঢুকে পড়ত না, মত অনেক লাল-হলুদ সমর্থকেরই।
দ্বিতীয়, ইস্টবেঙ্গলের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। সেমিফাইনালে নর্থইস্টকে ৭ গোল দেওয়ার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, ফাইনালে মোহনবাগানকে উড়িয়ে দেবেন রশিদরা। কিন্তু কোথায় কী? গোটা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের গোলমুখী আক্রমণ হয়ত মেরেকেটে ৫টা। যার মধ্যে প্রথমার্ধে এডমুন্ডের ওই সুযোগ লাখে একটা মেলে। সেখানেই আবার বিশাল কাইথের বিস্বস্ত হাত বাঁচিয়ে দিয়েছে মোহনবাগানকে। সঙ্গে যাঁর কথা বলতেই হয়, ডেজান ড্র্যাজিচ। ৫৫ মিনিটে সন্দীপ মান্ডির সঙ্গে সংঘর্ষে মাথা ফেটে যায় তাঁর। মাথা ফাটা অবস্থাতেও খেলে গিয়েছেন তিনি। জানা গিয়েছে, ম্যাচের পর ৭টি সেলাই পড়েছে তাঁর মাথায়। তাঁকে নিয়ে রসিকতা করে বাগান কোচ প্যানোস বলেছেন, “ওর মাথা ফাটার পর ও আরও ভাল খেলেছে। এমনকি সমীরের কথাও বলব। ও আজ সেটাই করেছে, যেটা আমরা ওর থেকে চাই। আজ ও জায়গা পেয়েই বক্সে ঢুকেছে ও সুযোগ পেয়ে গোল করেছে।”
এই ম্যাচ নিয়ে খোলাখুলি প্রশংসা করে গেলেন দলের কোচ দিলমপেরিস। অনেকের কথায়, বাগান জেতার ফলে কার্যত চাকরি বেঁচে গেল প্যানোসের। কিন্তু বিশেষ কথা বলেননি কোচ নিজে। তিনি বলেছেন, “কে কী বলল, তা নিয়ে আমি একটুও কেয়ার করি না। শুধু জানি, কাকে খেলানো দরকার। পরিশ্রম করছি, সফল হলে ভাল। এসবের বাইরে কে কী বলল, মাথা ঘামানোর প্রয়োজন বোধ করছি না।” আর ঠিক ৩ দিন পরেই শুরু আইএসএল। ৪ দিন পর নর্থইস্ট ইউনাইটেডের ঘরের মাঠে তাদের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলেই আইএসএল অভিযান শুরু করবে মোহনবাগান। সেই ম্যাচের আগে আইএফএ শিল্ড জয় যে বাগানের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিল, সেটাও স্বীকার করেছেন প্যানোস। ফলে, আইএসএল শুরু হওয়ার আগেই শরতের ছোঁয়া মোহনবাগান তাঁবুতে।
