Internet Smart Feeling Study: মানুষ নিজেকে যতটা স্মার্ট ভাবে, ততটা নয়, আসলে বোকা বানাচ্ছে ইন্টারনেট, গবেষণায় মারাত্মক তথ্য

Internet And Human Memory: সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আমরা ততটাও স্মার্ট নই, যতটা ইন্টারনেট আমাদের স্মার্ট করে দেখায়।

Internet Smart Feeling Study: মানুষ নিজেকে যতটা স্মার্ট ভাবে, ততটা নয়, আসলে বোকা বানাচ্ছে ইন্টারনেট, গবেষণায় মারাত্মক তথ্য
প্রতীকী ছবি
Follow Us:
| Edited By: | Updated on: Dec 20, 2021 | 6:03 PM

আপনার চারপাশে যাঁরা আছেন, তাঁদের থেকেও কি নিজেকে বেশি স্মার্ট মনে করেন? না, আপনাকে জাজ করার কোনও ইচ্ছে আমাদের নেই। কিন্তু সাম্প্রতিকতম একটি রিপোর্টে যে দাবি করা হয়েছে, তা জাজমেন্টের থেকে কোনও অংশে কম নয়। সেই রিপোর্টে বলা হচ্ছে, আমরা ততটাও স্মার্ট নই, যতটা ইন্টারনেট আমাদের স্মার্ট করে দেখায়। ইন্টারনেট ডিজাইন করা হয়েছে মানব জ্ঞানের ভাণ্ডার হিসেবে, যা সমস্ত মানুষই অ্যাকসেস করতে পারেন। আর সেই জ্ঞান ভাণ্ডার তৈরি হয়েছে প্রতিটি মানুষের অল্প বিস্তর বুদ্ধিমত্তা দিয়েই।

অস্টিনের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং প্রফেসর আদ্রিয়ান ওয়ার্ড, ইন্টারনেট এবং মানুষের মস্তিষ্কের মধ্যে প্রতিচ্ছেদ সম্পর্কে বোঝার চেষ্টা করছিলেন। গুগলে একবার ক্লিক করলে যে সব তথ্য আমাদের সামনে এসে হাজির হয়, তার পুরোটা আমাদের মস্তিষ্ক ধরে রাখতে পারে। ঠিক যতটুকু দরকার ততটুকুই আমাদের মস্তিষ্কে থেকে যায়। তার বেশি আমরা জানার চেষ্টা করি না। কারণ আমাদের মাথায় ঘোরাফেরা করে, পরে আবার গুগল সার্চ করলে সেই তথ্য আমরা পেয়ে যাব। উদ্বেগের এই বিষয়গুলিই একটি রিপোর্টে তুলে ধরেছেন আদ্রিয়ান ওয়ার্ড।

গুগলকে আপনি কতটা ভরসা করেন?

অগস্টে ওয়ার্ড একটি স্টাডি পাবলিশ করেন যেখানে হাইলাইট করা হয়, তথ্যের জন্য মানুষ গুগলের উপরে কতটা বেশি পরিমাণে নির্ভরশীল। কিন্তু সেই রিপোর্টে এ-ও বলা হয়েছে যে, নিজের স্মৃতিশক্তি যে কতটা প্রখর হতে পারে তার সামান্যটুকুও আন্দাজ করতে পারে না মানুষ। আর গুগল থেকে তথ্য অনুসন্ধান করার এটাই যে একটা সবথেকে বড় ক্ষতিকারক দিক, সে কথাও রিপোর্টে পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ করেছেন আদ্রিয়ান ওয়ার্ড।

ওয়ার্ড বিশ্বাস করেন যে, প্রযুক্তির প্রতিটি পর্যায়ে বিশেষ করে ডিজিটাল ডিভাইসের ক্ষেত্রে মেমোরির আকৃতি পরিবর্তিত হতে থাকে। আর তাই তিনি বলছেন যে, মস্তিষ্ক এবং ইন্টারনেটের মধ্যে যে রেখাটি রয়েছে, সেটি ব্লার বা ঝাপসা হতে পারে। আর এই ব্লার হওয়ার ঘটনাকেই ওয়ার্ড বলছেন, ‘ইন্টারমাইন্ড’।

মেমোরি সম্পর্কে এক জনের আত্মভ্রম নিশ্চিত করতে ওয়ার্ড, আটটি এক্সপেরিমেন্টের একটি সিরিজ পরিচালনা করেন। সেই সিরিজে তুলে ধরা হয়, সাধারণ জ্ঞান সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত কুইজগুলি শেষ করার সময় মানুষ কী ভাবে তাঁদের নিজস্ব জ্ঞান উপলব্ধি করেছে। তাঁদের মধ্যে কিছু মানুষকে গুগলের অ্যাকসেস দেওয়া হয়েছিল। কিছু মানুষ আবার গুগলের সাহায্য ছাড়াই কুইজের প্রশ্নগুলির উত্তর দিয়েছিলেন।

ওয়ার্ড দেখতে পান, যাঁদের গুগল অ্যাক্সেস রয়েছে তাঁরা ভুল বিশ্বাস করেছিলেন। তাঁরা ভেবেছিলেন, তাঁদের মস্তিষ্ক ভবিষ্যৎে অন্যান্য কুইজের ক্ষেত্রেও ইন্টারনেটের উপর নির্ভর না করে এই তথ্যগুলি মনে রাখবে। ২০১১ সালের একটি রিসার্চে এই বিষয়টিকে ‘গুগল এফেক্ট’ আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। কী এই গুগল এফেক্ট? কোনও বিষয় সম্পর্কে মানুষ যদি আগে থেকেই জেনে যায় যে, তা ইন্টারনেটে সহজলভ্য। তাহলে সেই তথ্য মনে রাখা এবং তা দীর্ঘদিন মগজে ধরে রাখার সম্ভাবনা খুবই কম হয়ে যায় যে কোনও মানুষের কাছে।

উদ্ধৃতি

* Ingram, D. (2021, December 9). The internet is tricking our brains. NBC News. * Sparrow, B., Liu, J., & Wegner, D. M. (2011). Google Effects on Memory: Cognitive Consequences of Having Information at Our Fingertips. Science, 333(6043), 776–778. * Ward, A. F. (2021, October 26). People mistake the internet’s knowledge for their own. PNAS.

আরও পড়ুন: অবাক কাণ্ড! স্পাইডার-ম্যানের হাতেও এই গেমিং ল্যাপটপ, কিনতে পারি আমি, আপনি, আমরা সবাই

আরও পড়ুন: শূন্য থেকে শুরু! কী ভাবে ‘ওয়েব’ আমাদের মহাবিশ্বের প্রথম ছায়াপথে নিয়ে যাবে?

আরও পড়ুন: একটু ভেবেচিন্তে অনলাইনে শপিং করুন, নিরাপদ কেনাকাটির কিছু ট্রিকস জেনে নিন