AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

TMC: ‘বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা ঢুকতেই…’, দিকে দিকে বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

Allegation of taking cut money: বাংলার বাড়ি প্রাপকরা বলছেন, এক লক্ষ কুড়ি হাজার পাওয়া যাবে। এই টাকায় আজকের দিনে নতুন ঘর বানানো সম্ভব নয়। তার মধ্যে যদি পঞ্চায়েতকে টাকা দিতে হয়, তাহলে কিভাবে ঘর হবে? যদি কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন অভিযুক্ত নেতারা।

TMC: 'বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা ঢুকতেই...', দিকে দিকে বিস্ফোরক অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে
কী অভিযোগ উঠছে?Image Credit: TV9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 14, 2026 | 6:51 PM
Share

দেবব্রত সরকার

আলিপুরদুয়ার ও ডেবরা: বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর বরাদ্দ হতে বাড়িতে হাজির হচ্ছেন শাসকদলের নেতারা। দাবি করছেন মোটা অঙ্কের কাটমানি। আর কাটমানি না দিলে নাকি আটকে যাবে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা। একাধিক জেলায় তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে এমনই হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। ।ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লক ও পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায়। যদিও অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে রাজ্যের শাসকদল।

বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ উঠছে, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে। এমনই অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ারের কালচিনিতেও। ডিমা চা বাগান থেকে এই এলাকায় যাঁরা যাঁরা বাংলার বাড়ি প্রকল্পে টাকা পেয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে পনেরো হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী বিরুদ্ধে। অভিযোগ, উপভোক্তাদের ভয় দেখানো হচ্ছে, টাকা না দিলে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দেওয়া হবে না। এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে জবরদস্তি করে কাটমানি আদায় করা হচ্ছে। অনেকে ভয়ে টাকা দিয়ে দিচ্ছেন। অনেকে টাকা দিতে অস্বীকার করছেন।

বাংলার বাড়ি প্রাপকরা বলছেন, এক লক্ষ কুড়ি হাজার পাওয়া যাবে। এই টাকায় আজকের দিনে নতুন ঘর বানানো সম্ভব নয়। তার মধ্যে যদি পঞ্চায়েতকে টাকা দিতে হয়, তাহলে কিভাবে ঘর হবে? স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী তৃণমূল নেতা বাপ্পা সরকার পনেরো হাজার টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ।

যদিও এই বিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বাপ্পা সরকার বলেন, “মিথ্যা অভিযোগ। সব বিরোধীদের চক্রান্ত।” তাঁর কথায়, “আসলে আমাদের এখানে আমি মজবুত সংগঠন করেছি, তা দেখে বিরোধীরা ভয় পেয়ে গিয়েছে। ২০২৬ ভোটের পূর্বে বিরোধীদের পায়ের তলায় মাটি সরে গিয়েছে। তাই মিথ্যা অভিযোগ ও চক্রান্ত করে আমাকে বদনাম করার চেষ্টা করছে বিরোধীরা।”

এই বিষয়ে বিজেপি কালচিনি বিধায়ক বিশাল লামা বলেন, “রাজ্যজুড়ে এমন চলছে। গরিব মানুষের কাছ থেকে কাটমানি তুলছে তৃণমূল।” এই নিয়ে তৃণমূলের কালচিনি ব্লক সভাপতি প্রেমা লামা জানান, “আমি সবার কাছে আবেদন করছি, কেউ টাকা দেবেন না। আর কেউ টাকা চাইলে আমার কাছে অভিযোগ করুন। আধ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আ্যকশন নেওয়া হবে। কোনওরকমে এটা বরদাস্ত করা হবে না।”

শুধু আলিপুরদুয়ার নয়, পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরাতেও বাংলার বাড়ি প্রকল্পে উপভোক্তার কাছ থেকে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে সদ্য ঢুকেছে রাজ্য সরকারের বাংলার বাড়ি প্রকল্পের প্রথম দফার টাকা। আর সেই টাকা ঢুকতেই সামনে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ। অভিযুক্ত ডেবরা ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি তথা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যের স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক শোরগোল পড়েছে ডেবরা ব্লকের ১০/১ ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ইসলামপুর এলাকায়।

অভিযোগ, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা ঢোকার পর এক উপভোক্তার উপর চাপ সৃষ্টি করেন এলাকার দাপুটে নেতা শেখ শহিরুল আলি। ইসলামপুর বুথের ইলিয়াস খান নামে ওই ব্যক্তি বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, শহিরুল ৮ হাজার টাকা ‘কাটমানি’ দাবি করেছেন। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই টাকা না দিলে তিনি ব্যবস্থা করে ওই উপভোক্তার বাড়ির পরবর্তী কিস্তির টাকা ঢোকা বন্ধ করে দেবেন। ডেবরার বিডিও-র কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এই নিয়ে শাসকদলকে আক্রমণ করে বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাস বলেন, “এইতো মাত্র একটা অভিযোগ জমা পড়েছে। ওই বুথে মোট ৯৪ জন বাড়ি পেয়েছেন। এবং সকলের কাছ থেকেই উনি টাকা নিয়েছেন। একজন সাহস করে অভিযোগ জানিয়েছেন। বাকিরাও ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে শীঘ্রই অভিযোগ জানাবেন।”

অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন অভিযুক্ত যুব তৃণমূল সহ-সভাপতি শেখ শহিরুল আলি। তাঁর দাবি, “দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য চক্রান্ত করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ আনা হচ্ছে। এর পিছনে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও বিরোধীদের রাজনীতি রয়েছে।”