Bankura: স্ত্রী-র বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, চরম পদক্ষেপ স্বামীর
Bankura Extra Marrital: স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ আরও প্রবল হয় রাজীবের। রবিবার ওই দম্পতির মধ্যে কলহ চরম আকার নেয়। ঝগড়া চলাকালীন রাজীবের স্ত্রী স্বামীর দিকে ফোন ছুঁড়ে মারলে ফোনের আঘাতে জখম হন তাঁদের দশ বছরের ছেলে। এরপরই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একদফা মারামারি হয়।

বাঁকুড়া: স্ত্রী বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত এই সন্দেহের জেরে প্রায়শই দাম্পত্য কলহ লেগেছিল। রবিবার সেই কলহ চরমে ওঠে। স্বামী স্ত্রী একে অপরকে মারধর করে বলেও অভিযোগ। এরপরই রেল স্টেশনের ধার থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় স্বামীকে। গতকাল আহত স্বামীর মৃত্যু হতেই শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তুলে স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কঠোর শাস্তির দাবিতে সরব হল মৃতের পরিবার। ঘটনা বাঁকুড়ার ছাতনা থানা এলাকার।
জানা গিয়েছে, বছর বারো আগে বাঁকুড়ার ছাতনা থানার পড়্যাশোল গ্রামের বাসিন্দা পায়েল এর সঙ্গে বিয়ে হয় ছাতনা বড় কালীতলা এলাকার বাসিন্দা রাজীব রজকের। তাঁদের একটি ছেলে ও মেয়েও হয়। স্ত্রী বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত এই সন্দেহে বেশ কিছুদিন আগে থেকেই শুরু হয় তাঁদের দাম্পত্য কলহ। পেশায় আসানসোলের একটি বেসরকারি কারখানার শ্রমিক রাজীব স্ত্রীকে স্মার্ট ফোন কিনে দিলেও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় স্ত্রী ওই স্মার্ট ফোন ব্যবহার না করে ছোট কি প্যড ফোন ব্যবহার করত বলে অভিযোগ।
এতে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহ আরও প্রবল হয় রাজীবের। রবিবার ওই দম্পতির মধ্যে কলহ চরম আকার নেয়। ঝগড়া চলাকালীন রাজীবের স্ত্রী স্বামীর দিকে ফোন ছুঁড়ে মারলে ফোনের আঘাতে জখম হন তাঁদের দশ বছরের ছেলে। এরপরই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে একদফা মারামারি হয়। অভিযোগ, এরপরই স্ত্রীর বাপের বাড়ির লোকজন রাজীবের বাড়িতে চড়াও হয়ে রাজীবকে বেধড়ক মারধোর করে পায়েল ও দুই ছোট ছেলে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের পিছনে পিছনে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান রাজীবও। অভিযোগ, রবিবার গভীর রাতে ছাতনা থানার পুলিশ পরিবারকে ফোন করে জানায় রাজীবকে গুরুতর আহত অবস্থায় ছাতনা স্টেশনের অদূরে রেল লাইনের ধার থেকে উদ্ধার করে ছাতনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তড়িঘড়ি হাসপাতালে হাজির হয় পরিবারের লোকজন। পরে রাজীবকে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে গেলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতের পরিবারের দাবি শ্বশুরবাড়ির লোকজনই রাজীবকে মারধোর করে রেল লাইনে ফেলে দিয়েছে। রাজীবের মৃত্যুর পর এই ঘটনার জন্য পুরোপুরি তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে দায়ী করে তাঁদের শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃতের পরিবার।
