Bankura: প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে ‘মায়ের গাঁ’-এ গড়াল রেলের চাকা, খুশির জোয়ার জয়রামবাটিতে
Local train from Jayrambati to Bankura: রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত একটি ট্রেন প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত যাতায়াত করবে। অদূর ভবিষ্যতে এই রেললাইন তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে সরাসরি হাওড়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর ফলে শুধু এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বদল হবে তাই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনেরও বিকাশ ঘটবে।

জয়রামবাটি: দাবি অনেকদিনের। আশাও বাড়ছিল। বছর ২৫ আগে প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অবশেষে জটিলতা কাটিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাত ধরে আরও একধাপ এগোল বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেল যোগাযোগ। রবিবার ‘মায়ের গাঁ’ হিসাবে পরিচিত মা সারদার জন্মভূমি জয়রামবাটিতে গড়াল বহু প্রতীক্ষিত রেলের চাকা। স্বাভাবিকভাবেই আনন্দের জোয়ারে ভাসল জয়রামবাটি-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ।
মা সারদা কলকাতা যাতায়াত করতেন বিষ্ণুপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে। এজন্য তাঁকে জয়রামবাটি থেকে বিষ্ণুপুর স্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা যাতায়াত করতে হত গরুর গাড়িতে। সেই জয়রামবাটিকে রেলপথে যুক্ত করার দাবি ছিল দীর্ঘদিনের। ২০০০- ২০০১ অর্থবর্ষে মা সারদার জন্মস্থান জয়রামবাটি হয়ে বিষ্ণুপুর তারকেশ্বর রেলপথ নির্মাণের প্রকল্পের সূচনা করেন তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রেলপথ নির্মাণের বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে প্রস্তাবিত ওই প্রকল্পে ২০১০ সালে বিষ্ণুপুর থেকে গোকুলনগর ও ২০১২ সালে বিষ্ণুপুর থেকে ময়নাপুর পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এরপর ভাবাদিঘির জমিজটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে কার্যত থমকে যায় রেলপথ নির্মাণের কাজ।
ভাবাদিঘির জমিজট কাটতে ফের সম্প্রতি এই রেলপথ নির্মাণ শুরু হয় ঝড়ের গতিতে। গত বছরের মার্চে জয়রামবাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হয়। ২৭ মার্চ জয়রামবাটি পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে ট্রেন চালিয়ে ওই লাইনে ট্রেন চলাচলে সবুজ সংকেত দেয় কমিশনার অফ রেলওয়ে সেফটি। এরপর জোরকদমে শুরু হয় ট্রেন চলাচলের অন্যান্য পরিকাঠামো তৈরির কাজ।
এদিন প্রধানমন্ত্রী হুগলির সিঙ্গুর থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা করার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীবাহী একটি ট্রেন মায়ের গাঁ হিসাবে পরিচিত জয়রামবাটি স্টেশন থেকে ছেড়ে বাঁকুড়ার উদ্দেশে রওনা দেয় । রেলের তরফে জানানো হয়েছে, আপাতত এই একটি ট্রেন প্রতিদিন বাঁকুড়া থেকে জয়রামবাটি পর্যন্ত যাতায়াত করবে। অদূর ভবিষ্যতে এই রেললাইন তারকেশ্বরের সঙ্গে যুক্ত হলে সরাসরি হাওড়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল শুরু হবে। এর ফলে শুধু এলাকার আর্থ সামাজিক পরিস্থিতির বদল হবে তাই নয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পর্যটনেরও বিকাশ ঘটবে। এদিন জয়রামবাটি পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের সূচনা লগ্নে শুধু জয়রামবাটি গ্রামের মানুষ নয়, আশপাশের বহু এলাকার মানুষ এমনকি স্থানীয় বিভিন্ন মন্দির ও মিশনের সাধু সন্ন্যাসীরাও স্বপ্নপুরণের সাক্ষী থাকতে হাজির হয়েছিলেন মাতৃ মন্দিরের আদলে তৈরি সুদৃশ্য জয়রামবাটি স্টেশনে। চোখের সামনে এভাবে স্বপ্ন পূরণ হতে দেখে তাঁরাও খুশি।
