BJP Candidate List: কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী হওয়ার জন্য ড্রপ বক্সে ৬ হাজার আবেদন! কালীপুজোর পরই প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে বিজেপি?
BJP Candidate list in Municipal Election: বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী হতে চেয়ে ড্রপ বক্সে আবেদন জমা দিয়েছেন প্রায় ৬ হাজারজন। তবে শুধু ড্রপ বক্সেই নয়, ই-মেল, ডাকযোগে এবং দলীয় নেতৃত্বের হাতেও আবেদনপত্র জমা পড়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থীদের আবেদন সংগ্রহের জন্য একটি ড্রপ বক্স রাখা হয়েছিল। সেটি মোট আটবার খোলা হয়েছে।

কলকাতা: কালীপুজোর পরপরই পুরভোটের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে পারে বিজেপি। ধাপে ধাপে নয়, বরং একসঙ্গেই প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার পরিকল্পনা রয়েছে পদ্ম শিবিরের। নভেম্বরের শেষেই রাজ্যে পুরভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর কয়েকদিনের মধ্যে নির্বাচনের দিন ঘোষণা করে দিতে পারে কমিশন। আজ দুপুরেই সর্বদলীয় বৈঠকে বসছে নির্বাচন কমিশন। সব মিলিয়ে, বলা যেতে পারে, রাজ্যে আরও একটা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে।
পুরভোটকে কেন্দ্র করে জোরদার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে শাসক শিবির। এই মুহূর্তে পুরভোটে বিজেপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে সবথেকে বেশি চর্চা চলছে। রাজ্য-রাজনীতিতে জোর জল্পনা, তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের প্রার্থী করা হতে পারে। অনেকেই নাকি প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করে আবেদন পাঠিয়েছেন রাজ্য বিজেপিতে। আরও একটা জল্পনা যে এনসিপিআই থেকে যোগ দেওয়া সাংসদদের প্রার্থী করা হতে পারে। অর্থাৎ পুরভোটে এনসিপিআই-বিজেপি জোট জল্পনা। যদিও সেই জল্পনাকে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এদিকে, গতকাল অর্থাৎ ২৬ অক্টোবর সোমবার বিজেপির ড্রপবক্সে আবেদন নেওয়া শেষ হয়েছে।
কলকাতা ও হাওড়ার পাশাপাশি বালি, হলদিয়া, কার্শিয়াং, কালিম্পং এবং ধূপগুড়িতেও পুরভোট হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে একাধিক পুরসভায় প্রার্থী বাছাইয়ের চ্যালেঞ্জ রয়েছে বিজেপির সামনে। তাই দ্রুত প্রার্থী বাছাইয়ের প্রক্রিয়া গুছিয়ে নিতে চাইছে গেরুয়া শিবির। সেই কারণে আবেদনপত্র সংগ্রহ থেকে শুরু করে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া, সব দিকেই নজর রাখছে দল।
ড্রপ বক্সে প্রায় ৬ হাজার আবেদন?
বিজেপির একটি সূত্রের দাবি, কলকাতা পুরভোটে প্রার্থী হতে চেয়ে ড্রপ বক্সে আবেদন জমা দিয়েছেন প্রায় ৬ হাজারজন। তবে শুধু ড্রপ বক্সেই নয়, ই-মেল, ডাকযোগে এবং দলীয় নেতৃত্বের হাতেও আবেদনপত্র জমা পড়েছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থীদের আবেদন সংগ্রহের জন্য একটি ড্রপ বক্স রাখা হয়েছিল। সেটি মোট আটবার খোলা হয়েছে। প্রতিবার প্রায় ৭৫০ থেকে ৮০০টি করে আবেদনপত্র জমা পড়েছে বলে দাবি সূত্রের। সেই হিসাব ধরেই ড্রপ বক্সে জমা পড়া আবেদনপত্রের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজার বলে জানা যাচ্ছে। তবে আবেদনপত্রের এই বিপুল সংখ্যা নিয়ে যেমন চর্চা রয়েছে, তেমনই প্রশ্ন উঠছে, প্রার্থী বাছাইয়ে ড্রপ বক্সের গুরুত্ব ঠিক কতটা? প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যমে খবর হওয়ার জন্যই ড্রপ বক্সের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তাঁর কথায়, ‘যেটা হওয়ার, সেটা হবে।’ রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাহলে কি ড্রপ বক্সে আবেদন জমা নেওয়া শুধুই প্রচারের জন্য? নাকি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আবেদন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা এড়াতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
আবেদনকারীদের সম্পর্কে খোঁজখবর শুরু
দলীয় সূত্রে খবর, ড্রপ বক্সে জমা পড়া আবেদনপত্রগুলির প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। শুধু আবেদনপত্র দেখে নয়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের উপরেও জোর দিচ্ছে বিজেপি। সূত্রের দাবি, জেলা ও মণ্ডল স্তর থেকে আবেদনকারীদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাঁদের রাজনৈতিক পরিচিতি, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা-সহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। একইসঙ্গে একটি নির্দিষ্ট সংস্থার মাধ্যমেও আবেদনকারীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর।সব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা তৈরি করা হবে বলে জানা যাচ্ছে।
