
কোচবিহার: এসআইআর নিয়ে ফের একবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ শানাতে দেখা গেল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে। কোচবিহারের সভা থেকে তুলোধনা করলেন বিজেপির। একহাত নিলেন অনন্ত মহারাজ থেকে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। মঞ্চ থেকেই দফায় দফায় বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বলেন, “যাঁরা নোটিস পেয়েছেন তাঁদের সকলের নাম যেন ভোটার লিস্টে থাকে, সেটা তৃণমূলের সর্বস্তরের কর্মী সমর্থকদের সুনিশ্চিত করতে হবে। আর যাঁরা লাইনে দাঁড়িয়ে হিয়ারিংয়ের সময় নির্বাচনের কমিশনের অপরিকল্পিত এসআইআরের কারণে কষ্ট পাচ্ছেন, আমি তাঁদের বল ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করবেন আগামীতে এরা নির্বাচনের সময় একটা ভোটও না পায়, এদের একটা ভোটও দেবেন না।”
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই এসআইআর প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছিল বিজেপির মনোনীত সাংসদ নগেন রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে। বলেছিলেন, “ভারতবর্ষের রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানি-বাংলাদেশি। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশি-পাকিস্তানি। রাজ্যপাল পাকিস্তানি-বাংলাদেশি। তাহলে আমরা কাগজ কাকে দেখাব?” এদিন কোচবিহারের সভা থেকে সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “অনন্ত মহারাজ বলছেন সবাইকে ডিটেনশন ক্যাম্পে নিয়ে যাবে এই বিজেপি। উনি নিজেই বলছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী সার্টিফিকেট আছে? রাষ্ট্রপতির আছে? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর আছে? আমি বলছি না, বিজেপির সাংসদ অনন্ত মহারাজ বলছেন। সত্যি কথা বলার জন্য আমি স্যালুট জানাই। আমাদের মাথা নত করলে চলবে না।”
এরপরই তোপ দাগতে দেখা যায় হিমন্ত বিশ্বশর্মার বিরুদ্ধেও। সুর আরও চড়িয়ে অভিষেক বলেন, “অসমে ক্ষমতায় বিজেপি। অসম সরকারের কি এক্তিয়ার আছে যে এখানে রাজবংশী ভাইদের এখানে এনআরসি-র নোটিস পাঠাচ্ছে? অসমের মুখ্যমন্ত্রী বলছে বাংলায় কথা বললে জেলে ঢোকাও। অসমের মুখ্যমন্ত্রীর নাম হিমন্ত বিশ্বশর্মা। কোন দলের? ভারতীয় জনতা পার্টি। আমি বলব বাংলার মানুষের সঙ্গে পাঙ্গা নেবেন না। বাংলার মানুষের সঙ্গে পাঙ্গা নিলে মানুষ চাঙ্গা হয়। ক’দিন আগে দেখেছিলেন তো ইডি-কে পাঠিয়ে তৃণমূলকে জব্দ করতে চেয়েছিল কিন্তু নিজেরাই জব্দ হয়ে গিয়েছে।”