পাহাড়ে লুপ্ত বিনয়পন্থী মোর্চা, আত্মপ্রকাশের পরেই কাজে নতুন দল, ঘোষণা অনীতের

TV9 Bangla Digital

TV9 Bangla Digital | Edited By: tista roychowdhury

Updated on: Sep 09, 2021 | 12:27 PM

Anit Thapa: সম্প্রতি, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পদ ছেড়েছিলেন বিনয় তামাং (Binay Tamang)। ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন বিমলের হাতে। কার্যত ‘একা’ হয়ে পড়েছিলেন অনীত থাপা (Anit Thapa)।

পাহাড়ে লুপ্ত বিনয়পন্থী মোর্চা, আত্মপ্রকাশের পরেই কাজে নতুন দল, ঘোষণা অনীতের
বাঁদিক থেকে বিনয় তামাং, বিমল গুরুঙ্গ ও অনীত থাপা, নিজস্ব চিত্র

দার্জিলিঙ: পাহাড়ে ক্রমেই বদলাচ্ছে রাজনীতির রঙ। নতুন দল আত্মপ্রকাশ করবে এমন কথা আগেই জানিয়েছিলেন পাহাড়-রাজনীতির অন্যতম নেতা অনীত থাপা (Anit Thapa)। তবু ধোঁয়াশা ছিল। হয়ত বা ‘বন্ধু’ বিনয়ের সিদ্ধান্ত বদল আশা করেছিলেন অনীত! তবে ছবির কোনও পরিবর্তন না হওয়ায় অবশেষে বৃহস্পতিবার স্পষ্ট ঘোষণা অনীতের, ‘পাহাড়ে লুপ্ত বিনয়পন্থী মোর্চা, নতুন দলের নাম শীঘ্রই ঘোষিত হবে।’ পাহাড়ের কোলে বৃহস্পতিবারই বৈঠকে অনীত থাপা। জানিয়েছেন, তাঁর দল কেবল আত্মপ্রকাশ করবে না, এদিন থেকেই কাজ শুরু করবে।

পাহাড়ে নীতি ‘গাভীর মতো চরে’। শৈলরানির আবহাওয়া কেবল খামখেয়ালি নয়, রাজনীতিও রঙিন। ফের পাহাড়ি-রাজনীতিতে নতুন রঙ। সম্প্রতি, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার পদ ছেড়েছিলেন বিনয় তামাং (Binay Tamang)। ক্ষমতা তুলে দিয়েছিলেন বিমলের হাতে। কার্যত ‘একা’ হয়ে পড়েছিলেন অনীত থাপা (Anit Thapa)। তখনই কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল, নতুন দল গড়তে চলেছেন অনীত। সেই জল্পনায় সিলমোহর আগেই পড়েছিল। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নতুন দল আত্মপ্রকাশ করবে এমন কথা আগেই বলেছিলেন অনীত।

সাংবাদিক বৈঠক করে অনীত বলেছিলেন, “পাহাড় সমস্যার সমাধান কোনও দলই করতে পারেনি। পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে কেউ চিন্তা করেনি। সেই কথা মাথায়  রেখেই নতুন দল গড়তে চলেছি। এই বছরের সেপ্টেম্বরেই নতুন দলের নাম ঘোষণা করব। আমাদের দল পাহাড়ের কথা বলবে। পাহাড়ের মানুষের কথা, তাঁদের উন্নয়নের জন্য চিন্তা করবে।” তাহলে, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার (বিনয়পন্থী)  যবনিকা পতন হতে চলেছে? সেদিন এই প্রশ্নের উত্তর না দিলেও বৃহস্পতিবার বিষয়টা স্পষ্ট করে দেন অনীত। তবে, তাঁর নতুন দল গঠনকে বিশেষ পাত্তা দিতে নারাজ বিমল-বিনয়রা। তাঁদের দাবি, নবাগত অনীতের দল পাহাড়ে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে  না।

এই রোদ, এই মেঘে ঢাকা। এই বৃষ্টি তো এই বরফ। ‘পাহাড়-কি-রানির’ আবহাওয়ার মতোই খামখেয়ালি রাজনীতি। ২০০৭ থেকে ২০২১, চোদ্দো বছরে পাহাড় রাজনীতিতে ঘটেছে অনেক পটপরিবর্তন। কিছুদিন আগেই, সমস্ত ‘শীতলতা’ পরিত্যাগ করে প্রায় ঘণ্টাতিনেকের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন বিমল গুরুঙ্গ ও বিনয় তামাং। বৈঠক শেষে বিনয় বলেছিলেন, “পাহাড়ের উন্নয়নের জন্য  কোনও রাজনৈতিক দলই কাজ  করেনি। আমরা পাহাড়ের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তিত। তারজন্য় যা যা করতে হয় সব পদক্ষেপ করতে রাজি। আমাদের বৈঠকেও পাহাড়ের সমস্যা নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।”

বিনয়-বিমলের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে যে ‘সম্প্রীতির’ ছবি প্রকাশ্যে আসে তাতে স্পষ্ট অন্তর্বিভেদ না মিটলেও দলের ভাঙন রোখার ‘আশঙ্কা’ থেকেই এই পদক্ষেপ দুই নেতার। বিনয়কে সঙ্গে নিয়ে কয়েকদিনের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী সহ শীর্ষ তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন বিমল, ইঙ্গিত ছিল এমনটাই। অন্যদিকে, ‘দিদির’ সঙ্গে সম্পর্কে চিড় ধরেনি বলেই দাবি করেছিল অনীত শিবির। এমনকী, তামাং-শিবিরের অনেকেই যে তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন এমন কানাঘুষো শোনা গিয়েছিল।

২০০৭ সালে বিনয় তামাং, বিমল গুরুঙ্গ ও অনীত থাপার মিলিত প্রয়াসের নাম গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। ২০১৭তে, পাহাড়ের রাজনীতিতে পটপরিবর্তন। পৃথক গোর্খাল্য়ান্ডের দাবিতে অশান্তি হয়ে ওঠে পাহাড়। তখন বিমল গুরুঙ্গ (Bimal Gurung), রোশন গিরিদের বিরুদ্ধে খুন, সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, হিংসা ছড়ানো-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের করে রাজ্য সরকার। গ্রেফতারি এড়াতে প্রায় সাড়ে তিন বছর আত্মগোপন বিমলের। তারপরেই চিড় ধরে সম্পর্কে। ‘শীতল বিচ্ছেদে’ জড়িয়ে পড়েন বিনয়-বিমল। অনীত থাপার নীরব সমর্থন প্রাপক বিনয় তামাং একুশের বিধানসভা নির্বাচনে জানিয়ে দেন তৃণমূলের পক্ষে লড়াই করলেও আলাদা করে প্রার্থী দেবে তাঁর দল।

ওদিকে, সাড়ে তিন বছরের অজ্ঞাতবাস কাটিয়ে পাহাড়ে ফেরেন গুরুঙ্গ। তৃণমূলের পক্ষেই লড়বেন গুরুঙ্গপন্থীরা এমনটাই স্পষ্ট জানিয়ে দেন পাহাড়ের ‘বেতাজ-বাদশা’। বিনয়-বিমলের এই শীতল লড়াইয়ের কথা স্মরণ করেই পাহাড়ে প্রার্থী দেয়নি তৃণমূল কংগ্রেস। উল্টে, ‘পাহাড়বন্ধুদের ভরসা করে’ তিনটি আসন ছেড়ে দেন মমতা।

কিন্তু বিধানসভা নির্বাচনে হালে পানি ফেরেনি। মোর্চার দুই তরফেই ইঙ্গিত,  ভোট ভাগাভাগিতে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং-এ আসন খোয়ায় মোর্চা। যথারীতি তা না-পসন্দ শাসকদলের। মোর্চা শিবিরের সূত্রেই খবর, নির্বাচন আবহে যা কেবল ‘পরামর্শ’ ছিল, ভোটের পর তাই ‘চাপে’ রূপান্তরিত। রাজ্যের শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে কার্যত চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেই দাবি করেছেন মোর্চা শিবিরের কেউ কেউ। নির্বাচনের অনতিপরেই তাই দলত্যাগ করেন বিনয় তামাং। সমস্ত দায়িত্ব তুলে দেন বিমলের হাতে। এরপরেই অনীত থাপার সঙ্গে কার্যত ‘দূরত্ব’-এর সূত্রপাত। অনীতের নতুন দল  আত্মপ্রকাশ করলে  এ বার পাহাড়ের রাজনীতি কোন বাঁকে ঘুরে দাঁড়ায় সেটাই দেখার। আরও পড়ুন: ‘মাদার ডেয়ারি নয়, মায়ের দুধ খেয়েছি’, চা-চক্রে দিলীপের নিশানায় ফের মমতাই

অনিতের নবাগত দলের কোনও প্রভাব পড়বে না।

Latest News Updates

Follow us on

Related Stories

Most Read Stories

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla