Selim on Humayun: চাপে পড়েছিলেন দলের মধ্যেই, এবার হুমায়ুনের সঙ্গে ‘জোট’ নিয়ে কী বলছেন সেলিম?
CPIM: সেলিম যদিও বলছেন, “কে কখন কোথায় কী গিয়েছিল সেটা আলাদা কথা। আমরা চাই বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয় বা কম হয়।” তৃণমূল হুমায়ুন নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার পরেই নাকি তিনি হুমায়ুনকে তাঁর মতামতাও জানিয়েছিলেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সে কথাও বলেন।

শিলিগুড়ি: নিউটাউনে হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠকের পরেই সেলিমের অবস্থান নিয়ে তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল বঙ্গ রাজনীতির আঙিনা। এমনকী দলের অন্দরেই সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় সিপিএমের রাজ্য সম্পাদককে। এরইমধ্যে হাত ছেড়েছে কংগ্রেস। এবার আপাতত আইএসএফ-কে নিয়েই ঘুঁটি সাজাচ্ছে সিপিএম, শেষ বেলায় দলে নিচ্ছে সিপিআইএমএল লিবারেশনকেও। সেলিমের সাংবাদিক বৈঠকে ইঙ্গিত তেমনই। তাহলে কী চাপ আর বেনজির বিতর্কের মুখে সুর বদল করে ফেললেন বঙ্গ বামের বর্তমান ‘নম্বর ১’?
সেলিম যদিও বলছেন, “কে কখন কোথায় কী গিয়েছিল সেটা আলাদা কথা। আমরা চাই বিজেপি-তৃণমূল বিরোধী ভোট যাতে ভাগ না হয় বা কম হয়।” তৃণমূল হুমায়ুন নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার পরেই নাকি তিনি হুমায়ুনকে তাঁর মতামতাও জানিয়েছিলেন। এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সে কথাও বলেন। সেলিমের সাফ কথা, “হুমায়ুন কবীর প্রথম থেকে যোগাযোগ করেছে। যখন ওকে তৃণমূল বের করে দেয় তখনই ও জানিয়েছিল। আমি বললাম এটা তো হওয়ারই ছিল। আমি নিজে ওর সঙ্গে কথা বলেছি। পরিষ্কারভাবে তিনটে কথা বলেছি।” কোন তিনটি কথা?
সেলিম তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ‘তিন কথা’ জানিয়ে দিয়েছেন হুমায়ুনকে। তাঁর কথায়, “প্রথমত, এরপর আমাদের সঙ্গে কথা বলতে হলে মন্দির, মসজিদ রাজনীতি জুড়বেন না। দ্বিতীয়, অধীর এবং সেলিমকে হারানোর জন্য আরএসএসের প্রজেক্টে বা মমতার নির্দেশে যে বিভাজনের রাজনীতি করা হয়েছে আমরা তার বিরুদ্ধে। যে বিভাজনের কাজ করবে তাকে আমরা বলি সেটা কোনওভাবেই চলবে না। হুমায়ুনের হিন্দুদের করা মন্তব্যে মুর্শিদাবাদের সামাজিক সমন্বয় নিয়ে টানাপোড়েন হয়েছে। তৃতীয় ওকে বলি মুসলমানের নামে একটা সংগঠন করলে হবে না, ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠন হলে আমাদের সঙ্গে কথা বলবে। আইএসএফ-কেও বলেছি।”
অন্যদিকে কয়েকদিন আগে রেজিনগরের সভা থেকে ‘হিন্দু-ভাগরথী’ নিয়ে করা মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ফের একবার ক্ষমাও চান। স্পষ্ট বলেন, “সেদিন হিন্দু ভাইরা মনে আঘাত পেয়েছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে করজোড়ে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। ভবিষ্যতে এরকম মিথ্যবাদী মুখ্যমন্ত্রীর কথায় হুমায়ুন কবীর আর কোনওদিন সাম্প্রদায়িক, উস্কানিমূলক কথা বলবে না। আপনারা ভরসা রাখতে পারেন।” সেই রেশ টেনে সেলিম যদিও বলছেন এ খানিক তাঁদের ‘বার্তালাপেরই প্রভাব’। সাফ বলছেন, “হুমায়ুন ওর শেষ জনসভায় আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। আমি যাইনি। তবে ও সেদিন ওর আগের হিন্দুদের নিয়ে করা মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছে।”
