স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখেই মুখ ফেরাল একাধিক নার্সিংহোম! বাড়িতেই মৃত্যু বৃদ্ধের

পরিবারের অভিযোগ, কার্ড দেখেই নার্সিংহোমগুলি জানিয়ে দেয়, এই কার্ড মূল্যহীন। এই কার্ডে চিকিৎসা হবে না।

স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেখেই মুখ ফেরাল একাধিক নার্সিংহোম! বাড়িতেই মৃত্যু বৃদ্ধের
নিজস্ব চিত্র

শিলিগুড়ি: ‘দুয়ারে সরকার’ কর্মসূচির লাইনে হাজার হাজার মানুষ স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swastho Sathi) করাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড দেখালেই মিলবে চিকিৎসা। কিন্তু স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড থাকা সত্ত্বেও মিলল না চিকিৎসা। নার্সিংহোম ফিরিয়ে দেওয়ার পর বাড়িতেই প্রাণ হারালেন শিলিগুড়ি সংলগ্ন মাটিগাড়ার বৃদ্ধ। যার ফলে প্রশ্ন উঠছে স্বাস্থসাথী কার্ডের যৌক্তিকতা নিয়ে।

মাটিগাড়ার প্রমোদনগর এলাকার বাসিন্দা মহম্মদ গফফর। বেশ কিছু দিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। পরিবারের তরফে তাঁকে প্রথমে জেলা হাসপাতাল ও পরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের দাবি, সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ওঠার আগেই রোগীকে ছুটি দিয়ে দেয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ। বাড়ি ফিরেই ফের অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। সুচিকিৎসার আশায় স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে একের পর এক নার্সিংহোমে ঘুরলেও কোথাও চিকিৎসা পাননি বৃদ্ধ। পরিবারের অভিযোগ, কার্ড দেখেই নার্সিংহোমগুলি জানিয়ে দেয়, এই কার্ড মূল্যহীন। এই কার্ডে চিকিৎসা হবে না। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় শেষমেষ বৃদ্ধকে বাড়িতেই ফিরিয়ে আনেন পরিবারের সদস্যরা। গত মঙ্গলবার রাতে অবশেষে মারা যান বৃদ্ধ। বুধবার তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, দুই সপ্তাহ আগেই স্বাস্থ্য সাথীর কার্ড করানো হয়েছিল। লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলিয়ে, তথ্য জমা দিয়ে কার্ড হাতে পেয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। সেই কার্ডে মৃত ব্যক্তির নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু কার্ড দেখাতেই নার্সিংহোম কার্যত তাড়িয়ে দেয়। জানিয়ে দেয় টাকা জমা না দিলে চিকিৎসা হবে না। বৃদ্ধকে তো তাঁরা আর বাঁচাতে পারলেন না। কিন্তু সরকার এমন পদক্ষেপ করুক যাতে অসহায় মানুষদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ড থাকা সত্ত্বেও নার্সিংহোম আর না ফিরিয়ে দেয়। এটুকুই চান মৃত বৃদ্ধের পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: আমি কাঁথির ভূমিপুত্র! ছিলাম, আছি, থাকব: শুভেন্দু

কয়েক দিন আগেই সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে কার্যত হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছিলেন, চিকিৎসা না দিলে লাইসেন্স বাতিল করার ক্ষমতাও রাজ্য সরকারের কাছে আছে। কিন্তু তারপরেও কার্ড হাতে বিনা চিকিৎসায় মরতে হল মাটিগাড়ার বৃদ্ধকে। এদিকে, বৃহস্পতিবারই শিলিগুড়িতে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে প্রশাসন এবং একাধিক নার্সিংহোমের সঙ্গে বৈঠক করেন পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। তিনি জানান, বেশ কিছু নার্সিংহোমকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি খোলা হচ্ছে গ্রিভান্স সেল। কোনও নার্সিংহোম কার্ড দেখানো সত্ত্বেও যদি রোগীকে ফিরিয়ে দেয়, সেই অভিযোগ গ্রিভান্স সেলে জমা পড়লে দ্রুত ব্যাবস্থা নেবে রাজ্য সরকার।