Bardhaman: বর্ধমানে রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ, দফায়-দফায় তুমুল বিক্ষোভ
অন্যদিকে, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক। কর্তব্যরত চিকিৎসকের বক্তব্য, রোগীর শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর দাবি, সময়মতোই চিকিৎসা করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।

গুসকরা: প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীমৃত্যুর অভিযোগ। শনিবার উত্তেজনা ছড়ায় পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায়। মৃতের নাম নবকুমার মণ্ডল (৬৬)। তিনি আউশগ্রাম থানার ডাঙ্গাল গ্রামের বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে বুকে ব্যাথা অনুভব করায় নবকুমারকে গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসার পর প্রায় এক ঘণ্টা কেটে গেলেও কোনও চিকিৎসক তাঁকে দেখতে আসেননি। একাধিকবার ডাকাডাকি করেও চিকিৎসকের দেখা মেলেনি বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।
পরবর্তীতে কর্তব্যরত নার্স তাঁকে ইঞ্জেকশন দেন। এরপর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু বর্ধমানে নিয়ে যাওয়ার পথেই মৃত্যু হয় নবকুমার মণ্ডলের। এরপরই চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ তুলে সরব হন মৃতের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের দাবি, সময় মতো চিকিৎসা শুরু হলে হয়তো এই পরিণতি এড়ানো যেত। চিকিৎসকের দেখা না পাওয়া এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশ। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়।
অন্যদিকে, চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক। কর্তব্যরত চিকিৎসকের বক্তব্য, রোগীর শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই আশঙ্কাজনক ছিল। তাঁর দাবি, সময়মতোই চিকিৎসা করা হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।
তবে এই প্রথম নয়, গুসকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা পরিষেবা ও পরিকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ জানিয়ে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। কিছুদিন আগেও রাজ্যের আবাসন দফতরের প্রতিমন্ত্রী এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
গুসকরা-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোর উন্নতি করা হোক এবং চিকিৎসক-সহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো হোক। নবকুমার মণ্ডলের মৃত্যুর পর সেই দাবি আরও জোরালো হল।
