
হুগলি: এবারই প্রথম নয়, আগেও আদালতে সওয়াল করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে নয়, আবেদনকারী হিসেবে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পরণে ছিল সাদা শাড়ি ও কালো চাদর। কিন্তু একসময় আইনজীবীর কালো গাউন গায়ে চাপিয়ে তাঁকে সওয়াল করতে দেখেছিল আদালত। ২৯ বছর আগের কথা।
আইনজীবী মমতাকে সামনে থেকে দেখেছিলেন হুগলি বাসী। সালটা ছিল ১৯৯৭। চুঁচুড়ায় জেলা জজ কোর্টে সওয়াল করতে দেখা গিয়েছিল মমতাকে। এর ১৪ বছর পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে মমতা বলেছেন যে তিনি চাইলেও আদালতে প্র্যাকটিস করতে পারেন, কারণ তিনি আদতে একজন আইনজীবী।
দিনটা ছিল জুলাই মাসের ৬ তারিখ। রথযাত্রার দিন। গুপ্তিপাড়ায় রথের সড়কে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের বচসা থেকে অশান্তি এমন পর্যায় পৌঁছয় যে পুলিশ গুলি চালায়। গুপ্তিপাড়া লালপুকুর এলাকার বাসিন্দা হলধর মণ্ডল ও বুড়ো বাগ গুলিবিদ্ধ হন। মৃত্যু হয় হলধর মণ্ডলের।
চুঁচুড়া আদালত
পরের দিন অর্থাৎ ৭ তারিখে তৎকালীন বিরোধী দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গুপ্তিপাড়ায় যান। মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। রথের সড়কে ছোট সভা করে সোজা চুঁচুড়া আদালতে পৌঁছে যান তিনি। খবর ছিল মৃত হলধর মণ্ডলের দেহ চুঁচুড়াতেই দাহ করে দেবে পুলিশ। সেই সময় পুলিশমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পুলিশের সেই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে চুঁচুড়া জেলা জজ কোর্টে সওয়াল করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন কালো গাউন পরে মমতাকে আদালতে সওয়াল করতে দেখেছিলেন অনেকেই।
সেই ঘটনা মনে আছে বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদেরও। প্রায় তিন দশক পর এদিন আবারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আদালতে সওয়াল করতে দেখা গেল। এখন তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির সামনে এদিন সওয়াল করেন মমতা।
তৃণমূল নেতারা বলছেন, ১৯৯৭ সালে একটি পরিবারের হয়ে সওয়াল করেছিলেন হুগলি জজ কোর্টে। আর ২০২৬ সালে সেই মমতা বাংলার সব পরিবারের জন্য সওয়াল করলেন সুপ্রিম কোর্টে। গুপ্তিপাড়া রথ কমিটির সদস্য বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, “অনেক ছোট ছিলাম। আমার মনে আছে, একটা চৌকির উপর দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তৃতা দিয়েছিলেন। আজও সেই কথা কানে বাজছে।” উল্লেখ্য, ইতিহাস নিয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির পাশাপাশি আইনের ডিগ্রিও আছে মমতার। যোগেশচন্দ্র ল’ কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রি পেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।