SIR এর তালিকায় নাম নেই, রিষড়ায় প্রৌঢ়ার আত্মহনন! ছুটে এলেন তৃণমূল প্রার্থী
SIR in Bengal: পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। এরইমধ্যে খবর পেয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ।

রিষড়া: আধার ও ভোটার কার্ডে নামের অমিল। এরইমধ্যে এসআইআর তালিকায় নাম না থাকার আশঙ্কায় মানসিক অবসাদ। প্রাণটাই চলে গেল প্রৌঢ়ার। শনিবার রাতে রিষড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বারুজীবী এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে। পরিবার সদস্যরা বলছেন আত্মঘাতী হয়েছেন মিনতি সেন (৫৮)।
শনিবার রাত পৌনে ন’টা নাগাদ মিনতি দেবীর ছেলে ভোলা সেন কাজ থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। বারবার ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া না পাওয়ায় তিনি প্রতিবেশীদের খবর দেন। এরপর পাড়ার লোকজনের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, ঘরের সিলিং থেকে প্রৌঢ়ার দেহ ঝুলছে। খবর পেয়ে রিষড়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মৃতার ছেলের দাবি, তাঁর মা বেশ কিছুদিন ধরেই চরম মানসিক উদ্বেগের মধ্যে ছিলেন। আধার কার্ডে তাঁর নাম রয়েছে ‘মিনতি সেন’, কিন্তু ভোটার কার্ডে রয়েছে ‘মিনু সেন’। নামের এই বিভ্রান্তির কারণে এসআইআর তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। এমনকি ভোলার নিজের নামও ওই তালিকায় নেই। তাতেই ভেঙে পড়েছিলেন মিনতি দেবী। পরিবার সূত্রে এও জানা যাচ্ছে, প্রৌঢ়া আগে থেকেই কিছুটা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তবে সাম্প্রতিক এই নথিপত্র সংক্রান্ত জটিলতা তাঁর অবসাদকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল।
পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরেই মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। এরইমধ্যে খবর পেয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ। বারুজীবী কলোনীতে মৃতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। বলেন, “দেশে স্বাধীনতার পর এরকম পরিবেশ দেখা যায়নি। বিজেপি মানুষের জীবন নিয়ে খেলা করছে। এর জবাব মানুষ দেবে।” দ্রুত দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে তিনি বিষয়টি তুলবেন বলেও জানান। বলেন, “আগামী ৮ তারিখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শ্রীরামপুরে আসছেন। তাঁর নজরে বিষয়টি আনা হবে। আমরা এই পরিবারের পাশে আছি।”
