
কলকাতা ও কোন্নগর: দুর্ঘটনায় জখম যুবককে আরজি করে রেফার করেছিল শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতাল। অভিযোগ, চিকিৎসা না পেয়ে আরজি করের বাইরে ৩ ঘণ্টা পড়েছিলেন ওই যুবক। তার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এই অভিযোগ ওঠার পর আন্দোলনরত চিকিৎসকদের বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজেদের দাবি নিয়ে লড়াই করার পাশাপাশি পরিষেবা দেওয়ার আর্জি জানালেন। এক্স হ্যান্ডলে অভিষেকের বার্তার পর সাংবাদিক বৈঠক করেন আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা। হাসপাতালের বাইরে পুরসভায় কিয়স্ক থেকে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুললেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার ভোরে কোন্নগর বেঙ্গল ফাইন মোড়ের কাছে রাজীব গান্ধী রোডে একটি ডাম্পার চাপা দিয়ে চলে যায় বিক্রম ভট্টাচার্য নামে বছর বাইশের এক যুবককে। বিবেক নগর দ্বারিক জঙ্গল বাই লেনে একটি বাড়িতে মা, দিদিমাকে নিয়ে ভাড়া থাকতেন ওই যুবক। গাড়ি চালাতেন। এদিন ভোরে দুর্ঘটনায় তাঁর দুটি পা-ই গুরুতর জখম হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়। অভিযোগ, প্রায় তিন ঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় পড়ে থেকে মৃত্যু হয় ওই যুবকের।
দুর্ঘটনায় জখম হয়েছিলেন বিক্রম ভট্টাচার্য
এদিন সকালে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ লেখেন, সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানতে পেরেছেন, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ওই যুবক পড়ে ছিলেন। তারপরও তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি।
কোন্নগরের ঘটনা উল্লেখ করে পরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স হ্যান্ডলে লেখেন, “জুনিয়র ডাক্তারদের দাবি ন্যায্য। আমি তাঁদের আবেদন জানাই, এমনভাবে প্রতিবাদ করুন যাতে জরুরি পরিষেবা ব্যাহত না হয়।” পরে এক্স হ্যান্ডলে তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেতা দেবও লিখেছেন, “আমিও আইনি ব্যবস্থা সংস্কার চাই। তবে সেটা আর একটা প্রাণের বিনিময়ে নয়। আপনারা একটু ভেবে দেখুন।”
শুক্রবার সন্ধেয় মৃত যুবকের বাড়িতে যান কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস ও স্থানীয় কাউন্সিলর বাবলু পাল। স্বপন দাসের অভিযোগ, বিনা চিকিৎসায় মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে যুবকের। তিনি বলেন, “চিকিৎসকদের করজোড়ে বলব, আপনারা আন্দোলন করুন। দাবি-দাওয়া থাকলে সেগুলো বলুন। কিন্তু পরিষেবাটাও দিন। যাতে এই যুবকের মতো আর কারও প্রাণ না চলে যায়। যে মেয়েটিকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার পরিবার সুবিচার পাক এটা আমরাও চাই। কিন্তু এমন না হয় এই আন্দোলনের ফলে আরও অনেক মানুষের প্রাণ চলে যায়।”
এক্স হ্যান্ডলে অভিষেকের পোস্টের পর এদিন সাংবাদিক বৈঠক করেন চিকিৎসকরা। সেখানে তাঁরা অভিযোগ করেন, “কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালের বাইরে মে আই হেল্প কিয়স্ক তৈরি করা হয়েছে। পুরসভার এই কিয়স্ক থেকে রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বলা হচ্ছে। যা কালিমালিপ্ত করা হচ্ছে চিকিৎসকদের। বিভ্রান্ত করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। রোগীদের মধ্যে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। আন্দোলন ভেঙে দেওয়ার ঘৃণ্য প্রচেষ্টা হচ্ছে।”
আরও খবর পড়তে ডাউনলোড করুন Tv9 বাংলা অ্যাপ (Android/ iOs)