AQI
Sign In

By signing in or creating an account, you agree with Associated Broadcasting Company's Terms & Conditions and Privacy Policy.

Imam: ‘৩০০০ টাকায় কিছুই হয় না, অন্তত ৫০০ বাড়াতে পারত’, ভাতা না বাড়ায় ভোটের মুখে ক্ষোভ বাড়ছে ইমামদের

Imams and muezzins: আশা কর্মীদের ভাতা বেড়েছে ১০০০ টাকা। যদিও তাতে চিঁড়ে যে খুব একটা ভেজেনি তা তাঁদের লাগাতার ক্ষোভ প্রকাশ থেকেই স্পষ্ট। খুশি নন মিড ডে মিল কর্মী থেকে পার্শ্ব শিক্ষকরাও। এবার ক্ষোভের তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন মোয়াজ্জেমরাও। ক্ষোভ প্রকাশ করছেন জলপাইগুড়ি গরাল বাড়ি মসজিদের ইমাম জাহিরুল ইসলাম।

Imam: ‘৩০০০ টাকায় কিছুই হয় না, অন্তত ৫০০ বাড়াতে পারত’, ভাতা না বাড়ায় ভোটের মুখে ক্ষোভ বাড়ছে ইমামদের
বাড়ছে ক্ষোভ Image Credit: TV 9 Bangla
| Edited By: | Updated on: Feb 08, 2026 | 9:37 AM
Share

জলপাইগুড়ি: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, আশা কর্মী থেকে অঙ্গনওয়ারি, সিভিক ভলান্টিয়র, বেড়েছে সকলেরই সাম্মানিক। ভোটের আগে ভাতা-রাজনীতি নিয়ে যখন ক্রমেই তপ্ত হচ্ছে বঙ্গ রাজনীতির আঙিনা তখন ভাতা কিন্তু বাড়েনি ইমাম-মোয়েজ্জেমদের। তা নিয়েও শুরু হয়েছে তরজা। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন এর ফলে যারপরনাই ক্ষুব্ধ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বড় অংশের মানুষ। 

আশা কর্মীদের ভাতা বেড়েছে ১০০০ টাকা। যদিও তাতে চিঁড়ে যে খুব একটা ভেজেনি তা তাঁদের লাগাতার ক্ষোভ প্রকাশ থেকেই স্পষ্ট। খুশি নন মিড ডে মিল কর্মী থেকে পার্শ্ব শিক্ষকরাও। এবার ক্ষোভের তালিকায় নাম লেখাচ্ছেন মোয়াজ্জেমরাও। জলপাইগুড়ি গরাল বাড়ি মসজিদের ইমাম জাহিরুল ইসলাম। ইনি তৃনমূল প্রভাবিত ইমাম সংগঠনের জলপাইগুড়ি সদর ব্লক সভাপতি। জাহিরুলবাবু স্পষ্ট বলছেন, “আমরা তৃণমূল দল করি। এবারের রাজ্য বাজেটে সকলের কম-বেশি ভাতা বৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু আমাদের জন্য কিছুই করল না সরকার। যেই হারে মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে তাতে মাসে ৩০০০ ভাতায় কিছু হয় না। অন্তত ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করলেও বুঝতাম সরকার আমাদের জন্য নতুন কিছু ভাবনাচিন্তা করেছে।” 

জলপাইগুড়ি চরকডাঙি জামা মসজিদের মোয়াজ্জেম আব্দুল মজিদ বলেন, “বাজার তো অগ্নিমূল্য। তাতে এই সামান্য ভাতায় কিছুই হয় না।আমদের ভাতা বৃদ্ধি করা উচিৎ ছিল।” প্রসঙ্গত, পুরোহিতদের মতো মোয়াজ্জেমরাও মাসে দেড় হাজার টাকা ভাতা পেয়ে থাকেন। অন্যদিকে ক্ষোভ বাড়ছে ইসলাম সম্প্রদায়ের মানুষের মনেও। আজিদা খাতুন বলেন, ইমামেরা সারাদিন ধরে প্রচুর মানুষের উপকার করেন। তাঁদের ভাতা বাড়বে না কেন? আনোয়ার হোশেন, ফজরুল হক বলেন সরকার এখন ইমামদের মাসে হাজার তিনেক টাকা দেয়। কিন্তু এই টাকায় কিছুই হয় না। অন্তত ৬-৭ হাজার টাকা মাসিক ভাতা হওয়া উচিত।

তৃনমূল প্রভাবিত ইমাম সংগঠনের নেতার মুখে ভাতা বৃদ্ধি না হওয়ায় হতাশার সংবাদ চাউর হতেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে জলপাইগুড়িতে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য জামিনার আলী বলছেন, সবার ভাতা কমবেশি বৃদ্ধি হকেও ইমামদের ভাতা বৃদ্ধি হয়নি। কিন্তু এই ভাতা বৃদ্ধি করা উচিত ছিল। একইসঙ্গে কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, রাজ্যের বাজেট দেখে মনে হল এটা তৃনমূলের নির্বাচনী ইস্তেহার। ভাতা নিয়ে সমস্যা, চাকরি না হওয়া, সব কিছুর প্রভাবই এবারের ভোটে পড়বে।

খোঁচা দিতে ছাড়ছে না বিজেপিও। বিজেপি জেলা কমিটির সদস্য পলেন ঘোষ বলছেন, “বাজেট নিয়ে সমাজের অনেক অংশেই ক্ষোভ বাড়ছে। ভোটে তার প্রভাব অবশ্যই পড়বে। এবারে তৃণমূল বিদায় নিচ্ছেই।” যদিও বিরোধীদের কথায় কান দিতে নারাজ শাসকদল। তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান বলেন, “অনেকের ভাতা বাড়লেও ইমাম-মোয়াজ্জেমদের ভাতা বৃদ্ধি হয়নি। এটা রাজ্য সরকারের ব্যাপার। আমরা আশাবাদী সরকার নিশ্চয়ই এই বিষয়ে ভাববে। কিন্তু এর প্রভাব ভোটে পড়বে না। কারণ ইমাম ভাতা তো মমতাই চালু করেছিলেন।”