Jalpaiguri River tragedy: নদীতে স্নান করতে নেমে তলিয়ে গেল দুই বান্ধবী, তারপর…
Two teenage girls drown in River: প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, স্নান করতে নেমে সুসানি ও পূজা নদীর তলদেশে থাকা গভীর গর্তগুলির অবস্থান বুঝতে পারেনি। আচমকাই জলের নীচে থাকা গর্তে পড়ে যাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

নাগরাকাটা: প্রচণ্ড গরমের মধ্যে নদীতে স্নান করতে নেমে মর্মান্তিক পরিণতি হল দুই কিশোরীর। শনিবার দুপুরে জলপাইগুড়ির নাগরাকাটা ব্লকে গাঠিয়া নদীতে এই ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। মৃত দুই কিশোরীর নাম সুসানি মুন্ডা (১৪) এবং পূজা মুন্ডা (১৪)। দু’জনেই গ্রাস মোড় চা-বাগানের ৪ নম্বর লাইনের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুরে প্রচণ্ড গরমের কারণে দুই বান্ধবী সুসানি ও পুজা গ্রাস মোড় চা-বাগান থেকে কিছুটা দূরে গাঠিয়া নদীতে স্নান করতে যায়। নদীতে স্রোত খুব বেশি না থাকলেও নদীর মাঝামাঝি অংশে বেশ কিছু গভীর গর্ত ছিল বলে জানা গিয়েছে। স্নান করতে নেমে আচমকাই ওই গভীর গর্তে পড়ে যায় দু’জনেই।
বিষয়টি জানাজানি হতেই স্থানীয়রা নদীতে নেমে তাঁদের খোঁজ শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণ তল্লাশির পর দুই কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নাগরাকাটা থানার পুলিশ। দুই কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জলপাইগুড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে ওই নদীতে বাঁধ সংস্কারের কাজ হয়েছিল। সেই সময় বড় যন্ত্র দিয়ে নদীর বিভিন্ন অংশে খনন করা হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। তাঁদের অভিযোগ, সেই কাজের পর নদীর মাঝখানে বেশ কিছু গভীর গর্ত তৈরি হয় এবং সেখানে জল জমে থাকে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, স্নান করতে নেমে সুসানি ও পূজা নদীর তলদেশে থাকা ওই গভীর গর্তগুলির অবস্থান বুঝতে পারেনি। আচমকাই জলের নীচে থাকা গর্তে পড়ে যাওয়ার কারণেই তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।
দুই কিশোরীর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গ্রাস মোড় চা-বাগানের ৪ নম্বর লাইনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নদী সংস্কারের কাজের পর কীভাবে সেখানে গভীর গর্ত তৈরি হল এবং সেগুলি কেন চিহ্নিত করে নিরাপদ করা হয়নি, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
