Three Death in Dhupguri: তিন দিনে একই পরিবারের পরপর তিন মৃত্যু! বৌদিকে যে শ্মশানে দাহ করা হয়েছিল সেখানে গিয়েই আত্মহত্যা দেওরের
Three Death in Same Family: মায়ের মৃত্যুর পরই পুলিশের কাছে নতুন তথ্য তুলে ধরে চুমকি দেবীর ১৪ বছরের ছেলে। জানায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তাঁর বাবা বিমল রায় একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি দাবি করেন তাঁর স্ত্রীকে তিনিই খুন করেছেন। তারপর নিজেও আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন।

বানারহাট: প্রথমে বাড়ির বউ, তারপর কর্তা, তারপর দেওর, একই পরিবারে তিনদিনে পরপর তিনজনের মৃত্যুতে ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে রহস্যের জট। নজিরবিহীন ঘটনায় শোকস্তব্ধ জলপাইগুড়ি জেলার বানারহাট থানার পূর্ব দুরামারি গ্রাম। প্রথমে মড়াঘাট রেঞ্জের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হয়েছিল ওই গ্রামেরই বাসিন্দা চুমকি রায় (৩৭) নামে গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গভীর জঙ্গলে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় মেলে তাঁর স্বামীর দেহ। আর সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই আরও এক মৃত্যু। যে শ্মশানে বৌদি চুমকি রায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছিল, ঠিক সেই শ্মশানেই আত্মহত্যা করেন তাঁর দেওর সনাতন রায়।
মায়ের মৃত্যুর পরই পুলিশের কাছে নতুন তথ্য তুলে ধরে চুমকি দেবীর ১৪ বছরের ছেলে। জানায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে তাঁর বাবা বিমল রায় একটি ভয়েস বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি দাবি করেন তাঁর স্ত্রীকে তিনিই খুন করেছেন। তারপর নিজেও আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। এ ঘটনার জন্য তিনি যদিও পরিবারের কাউকে দায়ী করেননি। এই তথ্য পেতেই পুরোদমে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। বুধবার রাতেই মড়াঘাট রেঞ্জের জঙ্গলে ব্যাপক তল্লাশি চালায় বন দফতরও। কিন্তু রাতের অন্ধকারে বিমল রায়ের খোঁজ মেলেনি। পরদিন সকালে এসএমজি-৩ কম্পার্টমেন্ট এলাকায় একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর পায়ে রক্তের দাগও দেখতে পাওয়া যায়। এ ঘটনায় স্বভাবতই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। আত্মহত্যা নাকি এর পিছনে অন্য কোনও ঘটনা আছে তা ভাবায় তদন্তকারীদের। তার মধ্যেই ঘটে যায় নতুন ঘটনা।
চুমকি রায়ের শেষকৃত্য যে শ্মশানে সম্পন্ন হয়েছিল, সেই শ্মশানেই গিয়ে আত্মহত্যা করেন তাঁর দেওর সনাতন রায়। স্থানীয় বাসিন্দারাই খবর দেন পুলিশে। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মহত্যার আগে সনাতন রায় নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে বৌদি চুমকি রায়ের সঙ্গে বেড়াতে যাওয়ার বিভিন্ন সময়ের একান্ত ও ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের একাধিক ছবি পোস্ট করেছিলেন। এরপরই তিনি সোজা চলে যান সেই শ্মশানে। এর সঙ্গে মৃত্যুর কোনও যোগ আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই সনাতন রায়ের মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে পুলিশ।
