প্রতিপক্ষ যখন বান্ধবী! অন্য রাজনীতির নজির গড়তে চলেছেন মধুজা-বীরবাহা
একেবারে প্রাথমিক স্কুল থেকে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন দু'জন। একে অপরকে 'বান্ধবী' বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য তাঁরা।

ঝাড়গ্রাম: ভোটের মুখে চারদিকে যখন ‘তুইতোকারির’ রাজনীতি, তখন পথ দেখাচ্ছে ঝাড়গ্রাম। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদা। সিপিএমেরও তরুণ মুখ মধুজা সেন রায়। ভোট ময়দানে নেমেই দু’জনের মূল বক্তব্য, লড়াই নীতির, লড়াই কখনও ব্যক্তিগত নয়। তাই একে অপরকে ব্যক্তিগত কুৎসার পরিবর্তে বর্তমান রাজনীতির অন্য নিদর্শন রাখছেন দুই যুযুধান।
সাঁওতালি সিনেমার জনপ্রিয় মুখ বীরবাহা হাঁসদা। তাঁর মা চুনীবালা হাঁসদা ছিলেন বিনপুরের বিধায়িকা। কয়েক দিন আগেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন বীরবাহা। ছত্রধরের ময়দানে ভোট প্রচারে নেমে বীরবাহার স্বীকারোক্তি,”মানুষের জন্য কাজ করতে চাই, মায়ের দলে লোক নেই। তাই তৃণমূলে।” অন্য দিকে বামফ্রন্টের তরুণ মুখ মধুজা। তাঁর মুখেও নীতির কথা।
একেবারে প্রাথমিক স্কুল থেকে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন দু’জন। একে অপরকে ‘বান্ধবী’ বলতেই স্বাচ্ছন্দ্য তাঁরা। তাই লড়াইয়ের ময়দানে নেমেও বন্ধ হয়নি একে অপরের সঙ্গে কথপোকথন। বীরবাহা জানালেন, স্ক্রুটিনি করতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। মধুজার মুখেও একই সুর, কোনও ব্যক্তিগত কুৎসা নয় রাজনীতি হোক নীতির লড়াইয়ে। তবে একের অপরের দলকেও বিঁধতে ছাড়েন না দুই ‘বান্ধবী’। বীরবাহা বাম জমানার বিভিন্ন প্রসঙ্গে মধুজার দলকে বিঁধছেন। আর মধুজা বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সবার পেটে ভাত, সবার হাতে কাজ, এই ইস্যুতে একহাত নিচ্ছেন তৃণমূল শিবিরকে। তখনই বর্তমান রাজনীতির কাদা ছোড়াছুড়ি ছাড়িয়ে ঝাড়গ্রাম যেন সৌজন্যের পথ দেখাচ্ছে। আর সেই পথকেই রাজনীতির পথ বানানোর পরামর্শ দুই বান্ধবীর।
আরও পড়ুন: জোড়া রোড-শোতে ‘খেলার’ ডাক মিমির
