Suvendu Adhikari: ‘দাঁড়িয়ে আছি, আয়…’, মমতা-অভিষেক নয়; তাহলে কাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শুভেন্দু?
Suvendu Adhikari in Malda: মালতীপুরে রহিম বক্সীকে হারানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, "মালতীপুরে কে জিতবে আমি জানি না। তবে রহিমকে আমি জিততে দেব না। ওকে যদি তৃণমূল মালতীপুরে প্রার্থী করে তাহলে হারাব। কোন মন্ত্রে হারাতে হয় আমি জানি। এই জেলায় জোটের সঙ্গে বিজেপির লড়াই হবে। আমরা এখানে ৬টা আসনে এগিয়ে রয়েছে। আমার আশা আরও দুটো আসন পাব।"

মালদহ: তাঁকে মালদহে পা রাখতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তৃণমূলের মালদহ জেলার সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী। সেই মালদহের চাঁচলে সভা করতে গিয়ে পাল্টা আব্দুর রহিমকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। চাঁচলের সভা থেকে শুক্রবার রহিমকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “দাঁড়িয়ে আছি, আয়।” মালতীপুরের বিধায়ক রহিমকে ২০২৬ সালের নির্বাচনে হারানোরও চ্যালেঞ্জ জানালেন শুভেন্দু। এমনকি, তৃণমূলের জেলা সভাপতিকে নিশানা করে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বলেন, “আমি যখন তৃণমূলের এই জেলার অবজার্ভার ছিলাম, তখন গাড়ির দরজা খুলে দিতেন রহিম।”
এদিন কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে চাঁচলে সভা করেন শুভেন্দু। নিজের বক্তব্যের শুরুতেই সেকথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই নিয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে ১০৪টা সভা হল আমার।” এরপরই তৃণমূলকে ছাব্বিশের হারানোর কথা জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “ছাপ্পা মেরে, ভোট লুঠ করে, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোট নিয়ে ২০২৪ সালের নির্বাচনে আমাদের সঙ্গে ওদের ফারাক ৪০ লক্ষ। আর এসআইআর-র প্রথম ঝাঁকুনিতে ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে আরও রোহিঙ্গা, অনুপ্রবেশকারীর নাম বাদ যাবে। এসআইআর-র কী হতে চলেছে, তার ট্রেলারটা দেখেছেন তো দিল্লিতে। তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড এখন থেকে বলছে, এই ভোটার লিস্ট মানি না। ১৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তৃণমূলের সবাই এই কথা বলবে।” বিজেপির আসন সংখ্যা নিয়ে তিনি বলেন, “এই রাজ্যে দুটি জায়গায় একজোট হয়েছে সনাতনী হিন্দুরা। উত্তর মালদহ ও নন্দীগ্রাম। উত্তর মালদহকে দেখে সনাতনীকে এগিয়ে এলে বিজেপি ২০০ নয়, ২২০টি আসন জিতবে।” প্রসঙ্গত, উত্তর মালদহ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ বিজেপির খগেন মুর্মু।
তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মালতীপুরের বিধায়ক আব্দুর রহিম একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দুকে। মালদহে বিধানসভার বিরোধী দলনেতাকে পা রাখতে দেবেন না বলেও মন্তব্য করেছিলেন। আর এদিন চাঁচলে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু বলেন, “বড় বড় কথা। এখানকার মুখ্যমন্ত্রী হয়ে গিয়েছেন রহিম বক্সী। বলছেন, ঢুকতে দেব না। পা ভেঙে দেব।” এরপরই রহিম বক্সীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শুভেন্দু বলেন, “কলমবাগানে আয়। দাঁড়িয়ে আছি। আরএসপি করত। আইসিডিএসের চাকরি বিক্রি করত। আমি যখন তৃণমূলের এই জেলার অবজার্ভার ছিলাম, তখন আমার গাড়ির দরজা খুলে দিত।”
মালতীপুরে রহিম বক্সীকে হারানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বলেন, “মালতীপুরে কে জিতবে আমি জানি না। তবে রহিমকে আমি জিততে দেব না। ওকে যদি তৃণমূল মালতীপুরে প্রার্থী করে তাহলে হারাব। কোন মন্ত্রে হারাতে হয় আমি জানি। এই জেলায় জোটের সঙ্গে বিজেপির লড়াই হবে। আমরা এখানে ৬টা আসনে এগিয়ে রয়েছে। আমার আশা আরও দুটো আসন পাব।” তৃণমূলের দুর্নীতির কথা উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, “যেদিন উনি দিদি থেকে পিসি হয়েছেন, আমি ছেড়ে চলে এসেছি।”
শুভেন্দুর মন্তব্য নিয়ে আব্দুর রহিম টিভি৯ বাংলাকে বলেন, “দিশাহারা ও বিভ্রান্ত হয়ে কুৎসিত মন্তব্য করছেন। আমি একজন জেলা সভাপতি ও বিধায়ক। আমাকে যে ভাষায় আক্রমণ করছেন তা কুরুচিকর। এবং এর যোগ্য জবাব মানুষ দেবে। আমি ওকে চ্যালেঞ্জ করছি, মালতীপুরে ও এসে দাঁড়াক। ও যদি হারিয়ে দেয়, ওর চরণের জল ধুয়ে খাব।”
