SIR Hearing: টেস্ট করে দেখুক বাংলাদেশি-পাকিস্তানি নাকি ভারতীয়, SIR শুনানিতে দাদুর কবরের মাটি নিয়ে হাজির যুবক
SIR in Bengal: কিছুদিন আগে এসআইআর-এর নোটিস আসে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের ওয়ারী দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা সালেক নামের এক যুবক সপরিবারে হাজির হন। হাতে ব্যাগ। আর সেই ব্যাগ ভর্তি মাটিতে। কিন্তু কিসের মাটি? জিজ্ঞেস করতেই সালেকের সাফ জবাব, দাদুর কবরের মাটি।

মালদহ: এসআইআর শুনানিকে কেন্দ্র ঘিরে দিনভর তপ্তই হয়ে রইল মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর। পুলিশের সঙ্গে বাদানুবাদ, বচসা সবই চলল পুরোদমে। কিন্তু সব ঘটনাকে ছাপিয়ে গেল এক যুবকের অভিনব প্রতিবাদ। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ তুলে, নিজের ও পরিবারের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে দাদুর কবরের মাটি হাতে শুনানি কেন্দ্রে হাজির সংখ্যালঘু যুবক। রাজনৈতিক মহলেও তুঙ্গে তরজা।
কিছুদিন আগে এসআইআর-এর নোটিস আসে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ নম্বর ব্লকের ওয়ারী দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা সালেক নামের এক যুবক সপরিবারে হাজির হন। হাতে ব্যাগ। আর সেই ব্যাগ ভর্তি মাটিতে। কিন্তু কিসের মাটি? জিজ্ঞেস করতেই সালেকের সাফ জবাব, দাদুর কবরের মাটি। সালেকের অভিযোগ, সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন তাঁর পুরো পরিবারকে নোটিশ পাঠিয়েছে। শুনানির নামে দিনের পর দিন তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে ওই যুবক বলেন, তাঁরা যে এই দেশেরই মানুষ, তাঁরা যে ভারতীয় তা প্রমাণ করতেই তিনি দাদুর কবরের মাটি সঙ্গে এনেছেন।
ঘটনা নিয়ে চাপানউতোর শুরু হতেই বিজেপি ও কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়াচ্ছে তৃণমূল। এলাকার তৃণমূল নেতারা বলছেন, কমিশনকে হাতিয়ার করে বেছে বেছে সংখ্যালঘু থেকে সমস্ত সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার চক্রান্ত করছে বিজেপি। অন্যদিকে তৃণমূলের দাবি কোনওভাবেই মানতে রাজি নয় বিজেপি। বিজেপি নেতাদের পাল্টা দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক ফায়দা লোটার জন্য সাধারণ মানুষকে অহেতুক বিভ্রান্ত করছে।
সালেক যদিও বলছেন, আমি চাই আমার দাদুর ডিএনএ টেস্ট করা হোক। আমাদের দাদু বাংলাদেশি, পাকিস্তানি না ভারতীয় তা এই মাটি টেস্ট করলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। জেলার তৃণমূল নেতা জিয়াউর বলছেন, “এসআইআর এর নামে সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর লাইনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এখন এই যুবক নিজেকে ভারতীয় প্রমাণ করার জন্য দাদুর কবরের মাটি নিয়ে এলেন। তাহলে বুঝতেই পারছেন অবস্থা কোথায় দাঁড়িয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে ধিক্কার জানাই। যেভাবে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে তাঁর উত্তর বিজেপি ২০২৬ সালের ভোটেই পেয়ে যাবে।”
জেলার বিজেপি নেতা কিষণ কিডিয়া যদিও পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধেই তোপ দাগছেন। তিনি বলছেন, “নির্বাচন কমিশন সরকারি সংস্থা। তাঁকে স্বাধীনভাবে কাজ তরতে দেওয়া উচিৎ। তৃণমূল আসলে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।”
