Adhir Ranjan Chowdhury nomination: জমি-বাড়ি নেই অধীরের, স্ত্রীর কোটি কোটি টাকার স্থাবর সম্পত্তি, বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থীর কত সম্পত্তি?
Adhir Ranjan Chowdhury assets disclosure: অধীর নিজের বাসভবনের জায়গায় 'NIL' লিখেছেন। অর্থাৎ তাঁর নামে কোনও বাসভবন নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রত্যেকটিই কেনা। তাঁর উপর নির্ভরশীলের নামেও ফ্ল্যাট কিনেছেন। ফ্ল্যাটগুলির কোনওটির বর্তমান বাজারমূল্য় ৫২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আবার কোনওটির বর্তমান দাম ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে অধীরের স্থাবর সম্পত্তি শূন্য।

বহরমপুর: আড়াই দশক সংসদের অলিন্দে দেখা গিয়েছে তাঁকে। তবে তার আগে ৩ বছর বিধায়কও ছিলেন। তিন দশক পর ফের বিধানসভা ভোটে প্রার্থী হয়েছেন অধীর চৌধুরী। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেসের বাজি তিনি। মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। হলফনামায় নিজের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিয়ে কী জানালেন কংগ্রেস প্রার্থী? তাঁর আয়ের উৎস কী? দেখে নেওয়া যাক, হলফনামায় কী জানিয়েছেন বছর সত্তরের অধীর চৌধুরী…
হলফনামায় নিজের এবং স্ত্রীর গত পাঁচ অর্থবর্ষে আয়ের হিসেব দিয়েছেন অধীর। নিজের আয় নিয়ে অধীর জানিয়েছেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১৪ লক্ষ ৫ হাজার ৪৮০ টাকা। পরের অর্থবর্ষ অর্থাৎ ২০২১-২২’এ তা অনেকটাই বাড়ে। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২১ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬০০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে তাঁর আয় এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে যায়। তাঁর আয় ছিল ৯ লক্ষ ৫৭ হাজার ২২০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ১১ লক্ষ ৮৫ হাজার ২২০ টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অধীরের আয় একদম হাজারে নেমে আসে। এই অর্থবর্ষে তাঁর আয় ছিল ২৫ হাজার ৭০ টাকা।
তাঁর স্ত্রী অতসী চট্টোপাধ্যায় চৌধুরীর গত পাঁচ অর্থবর্ষের আয়ের হিসেব দিয়েছেন অধীর। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে অধীরের স্ত্রীর আয় ছিল ২ লক্ষ ৮৩ হাজার ৭৪০ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ লক্ষ ২৭ হাজার ৭০০ টাকা। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে অধীরের স্ত্রীর আয় আরও বেড়েছে। ওই অর্থবর্ষে অতশী চট্টোপাধ্যায় চৌধুরীর আয় ছিল ১১ লক্ষ ৫৬ হাজার ১০০ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে এক লাফে অনেকটাই বেড়ে সেই আয় দাঁড়ায় ২০ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৪০ টাকা। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অধীরের স্ত্রীর আয় কিছুটা কমে। তাঁর আয় ছিল ১৪ লক্ষ ২৮ হাজার ৫৭০ টাকা।
হলফনামায় নিজের, স্ত্রীর ও তাঁর উপর নির্ভরশীল সন্তানের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণের কথা জানিয়েছেন অধীর। জানিয়েছেন, তাঁর কাছে নগদ রয়েছে ৯৪ হাজার ৫০০ টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে নগদ রয়েছে ৭ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা। আর তাঁর উপর নির্ভরশীল সন্তানের হাতে নগদ রয়েছে ১ লক্ষ ২ হাজার টাকা।
অধীরের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তার মধ্যে নয়াদিল্লিতে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় তাঁর অ্যাকাউন্টে ৬ লক্ষ ১৮ হাজার ৭৬৯ টাকা রয়েছে। অধীর ও তাঁর স্ত্রীর নামে জীবনবিমা রয়েছে। ২০১৭ সালে অধীর একটি গাড়ি কেনেন। দাম পড়েছিল ২ লক্ষ ২৭ হাজার ৭৮৫ টাকা। তাঁর স্ত্রীর নামেও একটি গাড়ি রয়েছে। যার দাম পড়েছিল ২ লক্ষ ৭৯ হাজার ৮৫২ টাকা।
অধীরের কাছে ২০০ গ্রাম সোনার গয়না রয়েছে। যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৭ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৭৩০ গ্রাম সোনার গয়না। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৪ হাজার টাকা। অধীরের সন্তানের কাছে রয়েছে ১০০ গ্রাম সোনা। যার বর্তমান বাজারমূল্য ১৩ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে অধীরের অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪৮ লক্ষ ৪০ হাজার ৬০২ টাকার। তাঁর স্ত্রীর অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ১ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৯ হাজার ৯৩৪ টাকার। আর অধীরের উপর নির্ভরশীল সন্তানের অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২৭ লক্ষ ৯২ হাজার ৩২৯ টাকার।
হলফনামায় স্থাবর সম্পত্তির হিসেব দিতে গিয়ে অধীর জানিয়েছেন, তাঁর ও স্ত্রীর কোনও কৃষি জমি নেই। তবে বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থীর স্ত্রীর নামে অকৃষি জমি বেশ কয়েকটি রয়েছে। এমনকী, তাঁর সন্তানের নামেও একাধিক অকৃষি জমি রয়েছে। সেইসব অকৃষি জমি কেনা হয়েছে। তার কোনওটির দাম বর্তমানে ৮৬ লক্ষ ৬২ হাজার ৫০০ টাকা। আবার কোনওটার দাম ৯৪ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা।
অধীর নিজের বাসভবনের জায়গায় ‘NIL’ লিখেছেন। অর্থাৎ তাঁর নামে কোনও বাসভবন নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর নামে একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। প্রত্যেকটিই কেনা। তাঁর উপর নির্ভরশীলের নামেও ফ্ল্যাট কিনেছেন। ফ্ল্যাটগুলির কোনওটির বর্তমান বাজারমূল্য় ৫২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আবার কোনওটির বর্তমান দাম ১ কোটি ৩৯ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে অধীরের স্থাবর সম্পত্তি শূন্য। অর্থাৎ বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদের জমি, বাড়ি কিছু নেই। কিন্তু, তাঁর স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৬ কোটি ৭৩ লক্ষ ১৫ হাজার ৫০০ টাকার। আর তাঁর উপর নির্ভরশীল সন্তানের স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৪ কোটি ৩২ লক্ষ ২৮ হাজার ৫০০ টাকার।
হলফনামায় অধীর জানিয়েছেন, তাঁর কোনও ঋণ নেই। স্ত্রীর নামে একটি গৃহ ঋণ রয়েছে। ৭ লক্ষ ৯১ হাজার ৯১৮ টাকার। সবমিলিয়ে স্ত্রীর ঋণের পরিমাণ ২৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৬৩২ টাকা।
নিজের পেশা হিসেবে রাজনীতি ও সমাজকর্মী লিখেছেন অধীর। তাঁর আয়ের উৎস প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে পাওয়া ভাতা। তাঁর স্ত্রীর নিজের ব্যবসা এবং পেশাদার কনসালটেশন রয়েছে বলে হলফনামায় জানিয়েছেন অধীর। নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা নবম শ্রেণি পাশ বলে জানিয়েছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী।
