
ফরাক্কা: মাস দুয়েক আগে তাঁকে নিয়ে রাজ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। এসআইআর শুনানির সময় গত ১৪ জানুয়ারি ফরাক্কার বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল তাঁর। সরব হয়েছিল বিজেপি। ফরাক্কার সেই বিদায়ী বিধায়ক মণিরুল ইসলামকেই এবার টিকিট দিল না তৃণমূল কংগ্রেস। আর টিকিট না পেয়েই শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন তিনি। একইসঙ্গে জানিয়ে দিলেন, তৃণমূলের টিকিট না পেলেও ফরাক্কা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তবে কোন দলের টিকিটে প্রার্থী হবেন, তা খোলসা করলেন না।
গতকাল তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হয়েছে। ফরাক্কাতে তৃণমূল প্রার্থী করেছে আমিরুল ইসলামকে। তাঁকে টিকিট না দেওয়ার পর দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বিদায়ী বিধায়ক মণিরুল বলেন, “ফরাক্কার মানুষকে বাঁচাতে গিয়ে নিজে আজকে বলির পাঁঠা হলাম। একটা জিনিস পরিষ্কার করে দিচ্ছি, ফরাক্কার মানুষ আমার হৃদয়ে রয়েছে। আর আমি আশাবাদী, ফরাক্কার মানুষের হৃদয়ে আমি রয়েছি।” তৃণমূলের টিকিট না পেলেও ফরাক্কা থেকে যে তিনি লড়বেন, তা স্পষ্ট করে দিলেন। বললেন, “আগামিদিনে আমি ফরাক্কা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি। দল এখনই আমি বলছি না। তবে আমি লড়ব। পদাধিকারী যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা গণহারে পদত্যাগ করবেন।”
কংগ্রেসের মইনুল হক ফরাক্কায় ২৫ বছর বিধায়ক ছিলেন। ২০২১ সালে তাঁকে পরাজিত করে বিধায়ক হয়েছিলেন মণিরুল। সেকথা উল্লেখ করে এদিন বিদায়ী বিধায়ক বলেন, “২৫ বছরের বিধায়ককে হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। আজকে ব্লক থেকে হোক, জেলা থেকে হোক চক্রান্ত করা হয়েছে।” ফরাক্কাতে খেলা হবে বলে পাল্টা তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি।
মণিরুলের মতো টিকিট না পেয়ে দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক খগেশ্বর রায়ও। গতকাল তিনি বলেন, দলকে যে টাকা দেয়, সেই প্রার্থী হয়। রাজগঞ্জের প্রার্থী স্বপ্না বর্মণ এই আসনে হারবেন বলেও ক্ষোভের সুরে জানিয়ে দেন তিনি।