Basirhat: পরিবারের ৫ সদস্য আটকে ইরানে, চোখের জলে প্রতীক্ষায় মা
Family stuck in Iran: আট বছর আগে ইরানে পড়াশোনা করতে যান বছর চৌত্রিশের আমির হোসেন গাজী। পড়াশোনা করতে গিয়ে সেখানেই থেকে যান। এখন তাঁর সঙ্গে সেখানে রয়েছেন স্ত্রী ঊষা পারভিন, দুই পুত্রসন্তান এবং এক কন্যাসন্তান। মৌলবীর পড়াশোনা করেন আমির হোসেন। আর সেখানে শিশুদের পড়ান।

বসিরহাট: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে। ইরানের সঙ্গে ইজরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ আরও বড় আকার ধারণ করছে। এই আবহে ইরানে আটকে রয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাটের একই পরিবারের ৫ সদস্য। এক যুবক, তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান। গতকাল থেকে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না পরিবারের লোকজন। উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাঁদের। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বয়স্ক মা। তিনি চান, তাঁর ছেলে, বৌমা, নাতি-নাতনিদের যেন দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। এর জন্য ভারত সরকারের কাছে আর্জি জানালেন তিনি।
বসিরহাট এক নম্বর ব্লকের সাকচুড়া বাগুন্ডি গ্রাম পঞ্চায়েতের মাঠপাড়া এলাকার ঘটনা। আট বছর আগে ইরানে পড়াশোনা করতে যান বছর চৌত্রিশের আমির হোসেন গাজী। পড়াশোনা করতে গিয়ে সেখানেই থেকে যান। এখন তাঁর সঙ্গে সেখানে রয়েছেন স্ত্রী ঊষা পারভিন, দুই পুত্রসন্তান এবং এক কন্যাসন্তান। মৌলবীর পড়াশোনা করেন আমির হোসেন। আর সেখানে শিশুদের পড়ান।
এখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দামামা খবর আসতেই উৎকণ্ঠা, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে আমির হোসেনের পরিবার। মা ইয়ার বানু বিবি, দাদা-ভাই মিলে পরিবারের ১৫ জন সদস্য এখন আতঙ্কে রয়েছেন। মা ইয়ার বানু বিবি তাকিয়ে বসে আছেন, কবে ছেলে পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিরা ঘরে ফিরবে। গত ৪৮ ঘণ্টা আগে বৃদ্ধা মায়ের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছিল আমির হোসেনের। তখন আমির হোসেন বলেছিলেন, খুব দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তাঁরা। তারপর থেকে আর যোগাযোগ হয়নি। ইতিমধ্যে ভারতীয় দূতাবাস ভারতীয় নাগরিকদের নিজেদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষিত থাকার জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে। এমনকি অবিলম্বে যাতে ইরান ছেড়ে দেশে ফিরতে পারে, তার ব্যবস্থা করছে।
দুশ্চিন্তা কাটছে না ইয়ার বানু বিবির। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে এদিন কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, “আমার ছেলে, বৌমা, নাতি-নাতনিরা বাড়ি ফিরে আসুক। আর কিছু চাই না।”
