Kamarhati: সংক্রমণ কমলেও স্বস্তি নেই, স্বাস্থ্যশিবিরে উপচে পড়ছে কলেরা আক্রান্তের ভিড়!

Kamarhati: কামারহাটি পুরসভায় উপ-মুখ্য প্রশাসক তুষার চট্টোপাধ্য়ায় জানিয়েছেন, পুরসভার তরফে কোনও গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে নজর দেওয়া হচ্ছে।

Kamarhati: সংক্রমণ কমলেও স্বস্তি নেই, স্বাস্থ্যশিবিরে উপচে পড়ছে কলেরা আক্রান্তের ভিড়!
কলেরার উপসর্গ নিয়ে ভর্তি একাধিক (নিজস্ব চিত্র)

উত্তর ২৪ পরগনা: সংক্রমণ কমলেও স্বস্তি নেই। কামারহাটিতে (Kamarhati) কলেরার উপসর্গ নিয়ে রোজই স্বাস্থ্য শিবিরে আসছেন একাধিক। এখনও সাগরদত্ত হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২০০ জনের অধিক। কামারহাটি পৌরসভার ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংক্রমণ কমলেও ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সংক্রমণ (Cholera) এখনও নিয়ন্ত্রিত নয়।

রবিবার সকালেও দেখা যায়, স্বাস্থ্যশিবিরে ভিড় করেছেন একাধিক। আক্রান্তদের মধ্যে বয়স্ক ও শিশুদের সংখ্যাই বেশি। চিকিত্‍সকেরা জানিয়েছেন, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ কম তাঁরাই মূলত আক্রান্ত হচ্ছেন। তবে, গুরুতর আক্রান্ত কেউ নন। সকলেরই মৃদু উপসর্গ দেখা গিয়েছে। অধিকাংশেরই মূলত পেট ব্যথা, বমি, জ্বরের মতো উপসর্গ দেখা গিয়েছে। চিকিত্‍সকেরা জানিয়েছেন, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই নিরাময় সম্ভব।

কামারহাটি পুরসভায় (Kamarhati Municipality) উপ-মুখ্য প্রশাসক তুষার চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, পুরসভার তরফে কোনও গাফিলতি থাকলে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিকাশি ব্যবস্থা থেকে শুরু করে অন্যান্য ক্ষেত্রগুলিতে নজর দেওয়া হচ্ছে। সংক্রমণ যাতে আর না বৃদ্ধি হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।

গত শুক্রবার কলেরায় নতুন করে আক্রান্ত হন ১৮ জন। আক্রান্তদের জন্য তিনটি অস্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ইতিমধ্যেই তৈরি করা হয়েছে। কামারহাটি (Kamarhati) পুরসভা সূত্রে খবর, নাইসেডের রিপোর্টে সম্প্রতি কলেরা সংক্রমণের খবর এসেছে। বৃহস্পতিবারই কলেরায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৩জন।

তিনটি অস্থায়ী স্বাস্থ্য়কেন্দ্রে চব্বিশ ঘণ্টাই উপস্থিত থাকছেন চিকিত্‍সকেরা। মূলত জল থেকেই এই সংক্রমণ বলছেন চিকিত্‍সকেরা। যে ১৮ জন আক্রান্ত চিকিত্‍সা করাতে আসেন তাঁদের প্রাথমিক চিকিত্‍সা করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুরসভার কর্মীরা পরিশোধিত জল পানের জন্য মাইকে প্রচার করে চলেছেন। জল শোধনের জন্য বিলি করা হচ্ছে হ্যালোজেন ট্যাবলেট, ওআরএস ও অ্যান্টিবায়োটিক।

এছাড়াও কামারহাটির যে জলাধার থেকে পানীয় জল সরবরাহ করা হয়, সেই জলাধারও ওষুধ দিয়ে পরিশোধনের কাজ চলছে এমনটাই খবর পুরসভা সূত্রে। তবে, কামারহাটির ১ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলেও ২ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডে সংক্রমণ এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত বলে জানিয়েছে পুরসভা।

ঠিক কীভাবে এই সংক্রমণ বৃদ্ধি তা জানতে নাইসেডে নমুনা পাঠিয়েছিল রাজ্য স্বাস্থ্য় দফতর। মোট ৯ জনের নমুনা পাঠানো হয় নাইসেডে। সেখানকার প্রাথমিক রিপোর্টে বলা হয়, ডায়ারিয়া নয়, কলেরার জীবাণু থেকেই সংক্রমণ বৃদ্ধি কামারহাটি পুরসভা এলাকায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষা হলেই জল জমে যায় এলাকায়। প্রবল বৃষ্টিপাতে জল যন্ত্রণার সঙ্গে বাড়ে পেটের অসুখও। এই বৃষ্টির কারণেই কোনওভাবে পানীয় জলেও ডায়ারিয়ার জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার মানুষ।

সম্প্রতি, কামারহাটির ১,২,৩,৪ নম্বর ওয়ার্ডে আচমকাই গত মঙ্গলবার থেকে ডায়ারিয়ার উপসর্গ নিয়ে একযোগে সাগরদত্ত হাসপাতালে ভর্তি হন প্রায় ৬৮ জন। তাঁদের মধ্যে ২ জন মারা যান। পরে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়। স্বাস্থ্য দফতরের তরফে পরে জানা যায়, ২জনের জল থেকে সংক্রমণের জেরে মৃত্যু হলেও বাকি দুজনের মৃত্যু হয় কিডনিজনিত অসুখে।

আগেই কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra) জানিয়েছিলেন, “কামারহাটিতে স্বাস্থ্যদফতরের নির্দেশে বিশেষজ্ঞ দল পৌঁছেছে। আমাদের দলের স্বেচ্ছাসেবকরা তৈরি রয়েছেন। আমার বাড়ির ল্যান্ডলাইন নম্বর হেল্পলাইন হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক মুহূর্তে আমাদের দলের কর্মীরা কাজ করছেন। আশা করছি দ্রুত এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।” 

আরও পড়ুন: পৌরসভায় গুপ্ত কক্ষ, ৬ফুটের আলমারি, জানেনই না পুরপ্রশাসক, শ্যাম-কাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য!

আরও পড়ুন: বাথরুমে ঝাঁটার আড়াল থেকে ক্যামেরার উঁকি! ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে গিয়ে পিলে চমকে গেল মহিলার

Click on your DTH Provider to Add TV9 Bangla