Asansol: শুভেন্দুর গাড়িতে হামলায় অভিযুক্ত, কোমরে দড়ি পরা তৃণমূল নেতাকে দেখেই…
Barabani TMC Leader Asit Singh Taken to Crime Scene: বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড সীমানার ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে বারাবনি ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসিত সিং এবং তাঁর ভাই তথা পানুরিয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ সিংকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে ধরা হয় আকবর আলমকে। ‘সিং ব্রাদার্স’-এর আর এক ভাই পিন্টু সিং আগেই ধরা পড়েছেন।

আসানসোল: পরনে হাফপ্যান্ট আর গেঞ্জি। খালি পা। আর কোমরে বাঁধা দড়ি। বারাবনির একসময়ের ‘ত্রাস’ তথা দাপুটে তৃণমূল নেতা অসিত সিং ও তাঁর ভাইদের এই হাল দেখে শনিবার কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল গৌরান্ডি এলাকা। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর গাড়িতে ও সভায় হামলার মামলার তদন্তে এদিন ধৃত অসিত সিং, তাঁর ভাই বিশ্বজিৎ সিং এবং সহযোগী আকবর আলমকে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মামলার পুনর্নির্মাণের জন্যই তাঁদের সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু একসময়ের অত্যাচারী ও চোর হিসেবে পরিচিত এই নেতাদের দেখামাত্রই ফেটে পড়ে জনরোষ। মারমুখী জনতা ধৃতদের লক্ষ্য করে তীব্র ‘চোর চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি চটি ছুড়তে শুরু করে, এমনকি পুলিশের ঘেরাটোপ টপকে ধৃতদের দু-এক থাপ্পড়ও লাগিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তায় পরিস্থিতি কোনওমতে নিয়ন্ত্রণে এনে ঘটনার পুনর্নির্মাণ সারে পুলিশ।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের শেষ লগ্নে গৌরান্ডিতে শুভেন্দু অধিকারীর নির্বাচনী জনসভা বানচাল করতে বারাবনি তৃণমূল ব্লক সভাপতি, তৎকালীন জেলা পরিষদ সদস্য অসিত সিংয়ের নির্দেশেই আকবর ও বিশ্বজিৎরা হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ। সেদিন শুভেন্দু অধিকারীর গাড়ি ভাঙচুর, বিজেপি কর্মীদের মারধর ও মোটরবাইকে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল এলাকা। ভোট-পরবর্তী হিংসায় বহু কর্মী ঘরছাড়া হয়েছিলেন, যাঁরা পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে বাড়ি ফেরেন। সেই দিনের ঘটনার তদন্তেই এদিন ধৃতদের গৌরান্ডি হাটতলায় নিয়ে আসা হয়েছিল।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ঝাড়খণ্ড সীমানার ডুবুরডিহি চেকপোস্ট থেকে বারাবনি ব্লক তৃণমূল সভাপতি অসিত সিং এবং তাঁর ভাই তথা পানুরিয়া পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ সিংকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই সঙ্গে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুর থেকে ধরা হয় আকবর আলমকে। ‘সিং ব্রাদার্স’-এর আর এক ভাই পিন্টু সিং আগেই ধরা পড়েছেন। ফলে এই গ্রেফতারির মধ্য দিয়ে বারাবনিতে অপরাধমূলক ও অত্যাচারী কার্যকলাপে যুক্ত মূল চক্রের শ্রীঘরের বৃত্ত সম্পূর্ণ হল।
শুক্রবার আসানসোল আদালতে তোলা হলে বিচারক তাঁদের ৩ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। এদিন আদালতে তোলার মুখেও ধৃতদের লক্ষ্য করে তীব্র বিক্ষোভ ও ডিম ছোড়ার চেষ্টা হয়েছিল। বারাবনি এলাকায় দীর্ঘ এক দশক ধরে এই ভাইদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ওপর জুলুম ও চুরির ভূরি ভূরি অভিযোগ রয়েছে। অতীতে সিপিএম প্রার্থী গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী প্রচারে এবং বিজেপির পরিবর্তন যাত্রার রথে হামলার নেপথ্যেও নাম জড়িয়েছিল এই অসিত সিংয়ের। অসিতের দাপট একসময় এতটাই ছিল যে, তাঁর জন্মদিনে খোদ বারাবনি থানায় বসে কেক কেটে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তৎকালীন ওসি মনোরঞ্জন মণ্ডল। যার জেরে পরে ওই পুলিশ আধিকারিককে সাসপেন্ডও হতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা এই ‘সিং ব্রাদার্স’-এর পতনে ও আজকের এই হাল দেখে বারাবনির সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি ফিরেছে। এবার ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে মামলার আরও গভীরে যেতে চাইছে পুলিশ।
