Madhyamik 2024: এক হাতে স্যালাইনের চ্যানেল, অন্য হাতে কলম; হাসপাতালেই দিতে হল মাধ্যমিক
Durgapur: সোমবার সকালে স্কুল পরিচালন কমিটিকে জানানো হলে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেন তাঁরা। সেখান থেকে নির্দেশ পেয়ে হাসপাতালের মধ্যেই তার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে মেয়ে স্যালাইন হাতে পরীক্ষা দিয়েছে আজ, বাইরে অপেক্ষায় মা-বাবা। চোখেমুখে উদ্বেগ!

দুর্গাপুর: হাতে স্যালাইনের চ্যানেল নিয়ে হাসপাতালের বেডে বসে মাধ্যমিক দিলেন ছাত্রী। এক হাতে স্যালাইন আর অন্য হাতে কলম, জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা এভাবেই দিতে হল দুর্গাপুরের বুদবুদের ছাত্রী রক্তিমা ঘোষালকে। মানকর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী রক্তিমা মাধ্যমিকের প্রথম দু’টি পরীক্ষা ভালভাবেই দিয়েছিল। কিন্তু রবিবার হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে জানা যায়, ডায়রিয়া হয়েছে তাঁর। ডিহাইড্রেশন হয়ে গিয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি করার দরকার আছে। এরপরই তাঁকে ভর্তি করানো হয়। শুরু হয় স্যালাইন দেওয়া।
সোমবারও স্যালাইন দিতে হয় রক্তিমাকে। এদিকে তার আবার আজও পরীক্ষা। এক বছর নষ্ট করতে চায়নি সে। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের তরফে তার পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। মানকর বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী রক্তিমা ঘোষালের মাধ্যমিক পরীক্ষার সিট পড়েছে মানকর উচ্চ বিদ্যালয়ে। তবে আজকের পরীক্ষা হাসপাতালে বসেই দিতে হয়েছে তাকে।
বাড়ির লোকেরা স্কুল পরিচালন সমিতিকে সবটা জানালে সোমবার তারাই কর্তৃপক্ষকে জানান। সেইমতো হাসপাতালের বেডে হয় পরীক্ষার ব্যবস্থা। রক্তিমার বাবা জানান, রবিবার সকাল থেকেই মেয়ের শরীর খারাপ হতে শুরু করে। প্রথমে দোকান থেকে বলে ওষুধ এনে খাওয়ান। কিন্তু বিকাল অবধি মেয়ের শরীরের অস্বস্তি যায়নি। এদিকে আজ পরীক্ষা।
তাই মানকর গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসা করিয়ে বাড়িও নিয়ে আসেন। তবে রাত ২টো থেকে শুরু হয় বমি। মেয়ে নিয়ে আবার মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে ছোটেন রক্তিমার বাবা। হাসপাতালে ভর্তি নিয়ে নেওয়া হয়।
সোমবার সকালে স্কুল পরিচালন কমিটিকে জানানো হলে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করেন তাঁরা। সেখান থেকে নির্দেশ পেয়ে হাসপাতালের মধ্যেই তার পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে মেয়ে স্যালাইন হাতে পরীক্ষা দিয়েছে আজ, বাইরে অপেক্ষায় মা-বাবা। চোখেমুখে উদ্বেগ!
আজ ইতিহাস পরীক্ষা ছিল। ভালই পরীক্ষা হয়েছে তার। আর শরীর? মানকর গ্ৰামীণ হাসপাতালের চিকিৎসক উজ্জ্বল চৌধুরী জানান, সোমবার পরীক্ষায় যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নজর রেখেছে। হাসপাতালের অন্যান্য কর্মীও নজর রেখেছেন। তিনি জানান, সুস্থ করেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হবে। যদি পরিস্থিতি ঠিক না হয় মঙ্গলবারও তাকে হাসপাতালে রেখেই পরীক্ষা দেওয়ানো হবে।
