
মেদিনীপুর: তিনি বিজেপি নেত্রী। তবে দিলীপ ঘোষের স্ত্রী হিসেবেই বেশি পরিচিত। বিজেপিতে ফের যখন স্বমহিমায় ফিরে আসছেন দিলীপ ঘোষ, তখন দলের একাংশের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিলেন দিলীপ-পত্নী রিঙ্কু মজুমদার। বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন। এমনকি, অপেক্ষা করেও বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় ক্ষোভ উগরে দিলেন।
শুক্রবার মেদিনীপুরে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক ভবনের উদ্বোধন হয়। এখানে সস্ত্রীক খাজির হন দিলীপ ঘোষ । রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি দিলীপ কিছু না বলতে চাইলেও তাঁর স্ত্রী সংবাদমাধ্যমের সামনে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেন। বিজেপির প্রার্থী হতে চেয়ে বায়োডাটা জমা দিয়েছেন রিঙ্কু। মেদিনীপুর, বীজপুর এবং নিউটাউনের জন্য বায়োডাটা জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে এদিন রিঙ্কু বলেন, “এটা আমাদের নিজের উপর নির্ভর করছে না। আমি ইচ্ছাপ্রকাশ করতে পারি। একুশের আগে থেকে বীজপুরটাই টার্গেট ছিল। কারণ, ওখানে আমার বেড়ে ওঠা। তখন তো আমি জানতাম না যে মেদিনীপুরের সঙ্গে আমার একটা সম্পর্ক গড়ে উঠবে। আমি দাঁড়ানোর জন্য দাঁড়াতে চাই না। আমি জিততে চাই। এখন দেখা যাক। টিকিট পেতেও পারি। নাও পেতে পারি। ৫০-৫০ সম্ভাবনা ধরে রেখেছি।”
এরপরই ক্ষোভ উগরে দিয়ে দিলীপ-পত্নী বলেন, “এতদিন তো আমাকে পঞ্চায়েতেও ভাবেনি। বিজেপির মণ্ডলের জিএস-ও পর্যন্ত আমাকে করেনি। আমাদের মতো মানুষদের রাজনীতিতে ভ্যালু কমই থাকে। কারণ, আমরা স্পষ্টবক্তা। আমরা সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখি। আমরা অনেক কিছু ইমপ্লিমেন্ট করতে পারি। বিশেষ করে বাংলার রাজনীতিতে এই ধরনের মানুষকে একটু সাইড করে রাখা হয়। দলের ভিতর যদি আমি সোচ্চার হতে না পারি, আমি বিরোধীদের সঙ্গে কী করে লড়াই করব? আমি মনে করি, মন খুলে কথা বলব। তাতে আমাকে কেউ যদি ব্ল্যাকলিস্টেড করে দেয়, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”
এরপরই তিনি বলেন, “কখনও কিছু বাজে কাজ করেছি কি না, এমন কিছু খুঁজে পাবে না। আমার দ্বারা যাতে কোনও ভুল না হয়, তার জন্য সর্বদা সচেতন থাকি। এভাবেই এতদিন পর্যন্ত এসেছি। রাজনীতি করতে গেলে মিথ্যা জানতে হয়, অভিনয় জানতে হয়, ম্যানিপুলেশন জানতে হয়, এগুলো আমার ডিকশনারিতে নেই। এই ১২-১৩ বছরে যদি আমাকে একটা মণ্ডলের জিএস করার কথা ভাবা না হয়, পুরো একটা টিম ছিল আমার বিরুদ্ধে। কোনওভাবেই উপরে উঠতে দেবে না। বাক্সের মধ্যে ঢাকনা দেওয়া। আমাদের মতো কার্যকর্তাদের সঙ্গে সেটাই করা হয়। যাঁদের মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁদের সামনে আনা হয় না।”
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে কি কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে রিঙ্কু বলেন, “রাজ্য সভাপতির পিএ-র সঙ্গে ২ দিন কথা বলেছি। একদিন গিয়েছিলাম। তাঁর পিএ সেদিন দেখা করাতে পারলেন না। বললেন, পরের দিন আসুন। পরের দিন, সেই জন্য আমি গাড়ি থেকে নেমেছিলাম। না হলে নামতাম না। আমার ভীষণ অপমানজনক লেগেছে। ২ দিন রাজ্য অফিসে বসিয়ে দেখা করার সময় পেলেন না। উনি নিচে ছিলেন। আমার স্বামীকে দেখি, কাউকে নিরাশ করে পাঠান না। তারপর আমি আর যাইনি। আমার সিভিটা অন্যকে দিয়ে পাঠিয়েছি।”