Medinipur: ঘাসফুলের শক্তঘাঁটিতে হাওয়া বদল! আস্ত একটা গোটা পাড়া তৃণমূল ছেড়ে গেল বিজেপিতে
BJP Joining: বিজেপি নেতা তপন মাইতির হাত ধরে ওই এলাকার বাসিন্দাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যারা যোগদান করেছেন তারা এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন। এবার তাঁরা বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিয়েছেন।

মেদিনীপুর: ভোটের আবহে বাংলায় এখন চলছে দলবদলের খেলা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যুযুধান পক্ষের কর্মীরা দলবদল করছেন। তবে একসঙ্গে গোটা একটা পাড়া! পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছে গোটা একটা পাড়া। অন্তত এমনটাই দাবি করছে বিজেপি। দাসপুরের বালক রাউত এলাকায় একটি পুরো পাড়ার ২০ টি পরিবারের বাসিন্দারা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করেছেন।
জানা যাচ্ছে, বিজেপি নেতা তপন মাইতির হাত ধরে ওই এলাকার বাসিন্দাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেওয়া হয়। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যারা যোগদান করেছেন তারা এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থক ছিলেন। এবার তাঁরা বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে দলে যোগ দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়নি এবং কোনও রাজনৈতিক দলই তাদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেনি। তার আগেই দাসপুরে এই যোগদানকে বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছে বিজেপি শিবির। বিজেপির দাবি, দাসপুরে তাদের জয় নিশ্চিত।
যদিও বিজেপির এই দাবিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস। এ বিষয়ে দাসপুরের ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সুনীল ভৌমিকের দাবি, “ওই এলাকায় প্রচুর উন্নয়ন হয়েছে, বিজেপি মানুষকে ভুল বুঝাচ্ছে, বিভ্রান্ত করছে, এই যোগদানের কোনও মানেই হয় না। ভোটের আগে এরকম আরও অনেক কাণ্ডই দেখতে পারবেন।” যোগদানের বিষয়কে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল।
দীর্ঘদিন ধরেই দাসপুর তৃণমূলের দখলে। গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের দখলে ৫১.৫৮% ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ৩৯.৫২%। লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি ভাল টক্কর দিয়েছিল তৃণমূলকে। বিজেপি-তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছিল। তৃণমূল বিজেপির থেকে ১৬ হাজার ৫০০ ভোটে এগিয়েছিল। বিধানসভায় দুটো ব্লকে মোট ২০ টি গ্রাম পঞ্চায়েত। রানিচক গ্রাম পঞ্চায়েত ইতিমধ্যেই রয়েছে বিজেপির দখলে।
প্রথম স্থান তৃণমূল, দ্বিতীয় বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে এই এলাকায় প্রধান ইস্যু পরিযায়ী শ্রমিক। যেটা এই এলাকায় ৫০ হাজারেও বেশি। সঙ্গে রয়েছে নিকাশি ব্যবস্থা ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান, আবাস যোজনার বাড়ি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছাব্বিশের নির্বাচনেও তৃণমূলকে ভাল টেক্কা দিতে পারে বিজেপি।
