CAA Certificate: আর ওঁরা বাংলাদেশি নন! এখন চওড়া হাসি বাংলার এই গ্রামের লোকজনের
সিএএ শংসাপত্র প্রাপক মাধব চন্দ্র পাল বলেন, "মোট ষাট থেকে সত্তর জন পেয়েছেন সিএএ সার্টিফিকেট। অ্যাপ্লাই করছে ১০০-র উপর। আমরা সবাই বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এসআইআর-এ অনেকের নাম কাটা গেলেও সিএএ সার্টিফিকেট এসেছে। এখন আমরা খুশি।"

হরিরামপুর (দক্ষিণ দিনাজপুর): এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় অমীমাংসিতদের নামের তালিকা নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। ফের একবার নতুন করে শুনানির তারিখ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই নিয়ে যখন বিজেপিকে বিঁধতে ব্যস্ত তৃণমূল সেই আবহের মধ্য়ে নাগরিকত্ব শংসাপত্র পেতে প্রায় ১৫০ জন আবেদন করেছিলেন। জানা যাচ্ছে, প্রায় ৭০-৮০ জন সিএএ সার্টিফিকেট বা নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়েছেন। বাকিরাও ধীরে ধীরে নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেতে শুরু করেছেন। এর ফলে শুধু জেলাতেই নয়, রাজ্যজুড়েও একটি আলাদা নজির তৈরি হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গ একা নয়, গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার কাটোয়াতেও দুই পরিবারে পাঁচজন পেয়েছেন নাগরিকত্বের সার্টিফিকেট
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর ব্লকের পুন্ডুরি গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্রাহ্মণ গ্রাম। গ্রামবাসীদের দাবি, একসঙ্গে এত সংখ্যক মানুষের নাগরিকত্ব শংসাপত্র পাওয়ার ঘটনা আগে খুব একটা দেখা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিরামপুর ব্লকের ব্রাহ্মণ গ্রামে প্রায় সাড়ে চারশো পরিবারের বাস। এর মধ্যে প্রায় দেড়শো পরিবার বাংলাদেশ থেকে এদেশে এসে বসবাস শুরু করেছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকের ভোটার কার্ড রয়েছে, আবার অনেকের নেই বলেই অভিযোগ। বাংলাদেশ থেকে আসার কারণে অনেকেই ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে পারেননি। সেই কারণেই বেশিরভাগ মানুষের নাম এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। আবার অনেকের নাম বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছিলেন।
এরপরই সংশ্লিষ্ট গ্রামের প্রায় ১৫০ জন বাসিন্দা সিএএ-তে আবেদন করেন। ইতিমধ্যেই সেই আবেদনকারীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেক মানুষ নাগরিকত্বের শংসাপত্র পেয়ে গিয়েছেন। হরিরামপুর বিধানসভার দৌলতপুর এলাকার একই পরিবারের সাতজন সদস্যও নাগরিকত্ব শংসাপত্র পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে বয়স্ক অভয় চরণ পাল (৮৮) এই শংসাপত্র পাওয়ায় বিশেষভাবে আনন্দিত।
সিএএ শংসাপত্র প্রাপক মাধব চন্দ্র পাল বলেন, “মোট ষাট থেকে সত্তোর জন পেয়েছেন সিএএ সার্টিফিকেট। অ্যাপ্লাই করছে ১০০-র উপর। আমরা সবাই বাংলাদেশ থেকে এসেছি। এসআইআর-এ অনেকের নাম কাটা গেলেও সিএএ সার্টিফিকেট এসেছে। এখন আমরা খুশি।” বিজেপি জেলা সভাপতি স্বরূপ চৌধুরী বলেন, “ব্রাহ্মণ গ্রামের ৭০ বেশি লোক এই সার্টিফিকেট পেয়েছেন। আমরা বলেই ছিলাম দেওয়া হবে। তেমনটাই হল।”
