Chandrakona: আলু চাষিদের ভাবাচ্ছে ডিসেম্বরের ‘ডেডলাইন’, এক বিঘাতেই ২৫,০০০ টাকা ‘লস’!
Chandrakona Potato Farmers: চাষি থেকে ব্যবসায়ী ও হিমঘর সংগঠন সকলেরই আশঙ্কা বাড়ছে কারণ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে হিমঘর খালি করতে হয়। মাঝে দু’মাস হিমঘর মেরামতির কাজ চলে। মার্চ মাস থেকে হিমঘরে নতুন আলু মজুত শুরু হয়ে যায়। অধিক ফলন হওয়ায় এ বছর অতিরিক্ত আলু মজুত হয়েছে হিমঘরগুলিতে।

চন্দ্রকোনা: হিমঘরে মজুত থাকা আলু নিয়ে দিশাহারা কৃষকরা। প্রতি বিঘায় হাজার হাজার টাকা লোকসান হচ্ছে বলে দাবি কৃষকদের। ডিসেম্বরের ডেডলাইন নিয়েও চিন্তিত তাঁরা। ভিনরাজ্যে আলু রফতানি হলেও মিলছে না দাম। হিমঘরে মজুত আলুর ভবিষ্যৎ নিয়ে কারও কাছে কোনও উত্তর নেই। কৃষকরা বলছেন, সরকার সাহায্য না করতে চরম অসুবিধায় পড়তে হবে তাঁদের। তবে অভিযোগ, মূলত পূর্বতন সরকারের রফতানি-নীতি নিয়েই।
বিঘা প্রতি ২৫,০০০ টাকা লোকসান
২ বিঘা জমি চাষ করে আলুর ফলন হয় ১ গাড়ি অর্থাৎ ২০০ বস্তা। চাষে খরচ হয় ৬২ হাজার টাকা। সেই আলু তোলার পর এ বছর কোল্ডস্টোরেজ পাঠাতে খরচ আরও ১৬ হাজার টাকা। অথচ আজ সেই আলুর বন্ড বিক্রি হচ্ছে ২৫-২৬ হাজার টাকায়। এই হিসেবে কৃষকের প্রায় এক বিঘা জমিতেই ২৫ হাজার টাকার মতো লোকসান হচ্ছে।
গড়ে ৪৭ হাজার টাকায় কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে স্টোরে মজুত করতে খরচ হয়েছে। সেই আলু বিক্রি হচ্ছে বর্তমানে ২৫ হাজার টাকায়। তাই ব্যবসায়ীদের এক গাড়ি অর্থাৎ ২০০ প্যাকেটে লোকসান ২০-২৫ হাজার টাকা।
হিমঘরে স্তূপ, বিক্রি তলানিতে
এই বছর মাঠে দাম না মেলায় অনেক আলু নষ্ট হয়েছে। উপায় না দেখে হিমঘরে আলু মজুত করতে কৃষকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গিয়েছিল। দামের তুলনায় অতিরিক্ত খরচ করে হিমঘরে আলু মজুত করে এখন বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।
হিমঘরে মজুত অধিকাংশ আলুই কৃষকদের। বর্তমানে হিমঘরে আলুর দাম তলানিতে ঠেকেছে। যার জেরে হিমঘর থেকে আলু বিক্রির পরিমাণ অনেকটাই কমে গিয়েছে। হিমঘর থেকে আলু কিনে ভিনরাজ্যে রফতানি করেন ব্যবসায়ীরা। আলুর দাম নেই, তার ওপর ভিনরাজ্যে সেভাবে ক্রেতা মিলছে না বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
এই প্রসঙ্গে চন্দ্রকোনার বিজেপি বিধায়ক সুকান্ত দোলুই বলেন, “পূর্বতন সরকারের আমলে ভিনরাজ্যে রফতানি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলে, নতুন সরকার বর্ডার খুলে দিলেও, আলু সংগ্রহ হয়ে যাওয়ায় এখন আর কেউ কিনছে না।”
অভিযোগ, পূর্বতন সরকার আলু রফতানিতে লাগাম দেওয়ায় ভিন রাজ্যের বাজার নষ্ট হয়েছে। যদিও নতুন সরকারের তরফে ভিন রাজ্যে আলু রফতানিতে আগেই ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে এবং ভর্তুকি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, এখনও তেমন কোনও নির্দেশিকা আসেনি সরকারের তরফে।
৭০ শতাংশ আলুই পড়ে আছে হিমঘরে
রাজ্যে হুগলির পরই সবথেকে বেশি আলু চাষ হয় পশ্চিম মেদিনীপুরে। আলু চাষের গড় হিসেবে পরিচিত জেলার চন্দ্রকোনা।
এই জেলায় মোট ৯১টি হিমঘর রয়েছে। চন্দ্রকোনা বিধানসভা এলাকায় হিমঘর রয়েছে ৩০টি। ব্যবসায়ী সংগঠনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ বছর জেলার ৯১টি হিমঘর মিলিয়ে ৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৭ হাজার ২৭৮ প্যাকেট আলু মজুত হয়েছে। ৩১ জুলাই পর্যন্ত হিমঘরগুলি থেকে আলু বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪৫ প্যাকেট। বর্তমানে জেলায় হিমঘরগুলিতে আলু বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৩১ শতাংশ। যা ৮ থেকে ১০ শতাংশ কম বলে মনে করছে আলু ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি।
অন্যদিকে চন্দ্রকোনায় ২৯টি হিমঘরে আলু মজুত হয়েছে ১ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ৭৬৪ প্যাকেট। এখনও পর্যন্ত আলু বিক্রি হয়েছে ৩৮ লাখ ১৫ হাজার ৮৬২ প্যাকেট। অর্থাৎ চন্দ্রকোনায় হিমঘরে মজুত আলুর ৩০ শতাংশ বিক্রি হয়েছে, ৭০ শতাংশ আলু এখনও মজুত রয়েছে।
হিমঘর সূত্রে জানা যায়, শুরুতে হিমঘরে ২০০ প্যাকেট আলু মজুত করতে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। শেষের দিকে দাম কমে ৪০ হাজার টাকায় হিমঘরে আলু মজুত করেন কৃষকেরা। বর্তমানে হিমঘরে ২০০ প্যাকেট আলু ২৩ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিসেম্বরের ডেডলাইন
চাষি থেকে ব্যবসায়ী ও হিমঘর সংগঠন সকলেরই আশঙ্কা বাড়ছে কারণ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ডিসেম্বর মাসে হিমঘর খালি করতে হয়। মাঝে দু’মাস হিমঘর মেরামতির কাজ চলে। মার্চ মাস থেকে হিমঘরে নতুন আলু মজুত শুরু হয়ে যায়। অধিক ফলন হওয়ায় এ বছর অতিরিক্ত আলু মজুত হয়েছে হিমঘরগুলিতে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে রফতানি ও খুচরো বাজারে এই বিপুল পরিমাণ আলু বিক্রি করা প্রায় অসম্ভব বলে আশঙ্কা করছে আলু ব্যবসায়ী সংগঠনগুলি।
