Burdwan: দুধ সাদা গাড়ি সবে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে মোড়ে টার্ন নিয়েছে, নীল প্লাস্টিক খুলতেই বিস্ফোরিত চোখ
Burdwan Money Recover:এরপরই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম সৌরভ ঘোড়ুই ও বাপন হাঁসদা। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনেই বাঁকুড়া জেলার ওন্দা থানার এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গাড়িটি দুর্গাপুরের দিক থেকে বর্ধমান শহরের দিকে আসছিল। পরে কোনও কারণে ফের দুর্গাপুরমুখী হয়ে রেনেসাঁ উপনগরীর সামনে পৌঁছয়।

বর্ধমান: গাড়ি সবে মোড় থেকে টার্ন নিয়েছে। আর মোড়ের মাথাতেই অপেক্ষায় ছিলেন সাদা পোশাকের দুঁদে কর্তারা। হাত দেখিয়ে গাড়ি থামান তাঁরা। দুধ সাদা গাড়ির ডিকি খুলে তল্লাশি চালাচ্ছিলেন। চক্ষু চড়কগাছ পুলিশ কর্তাদের। উদ্ধার ৬ লক্ষ টাকা। ভোটের আগে বর্ধমানে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার হল। ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছে দু’জন। এত টাকা উদ্ধারের ঘটনায় স্বাভাবিক ভাবেই শুরু হয়েছে শাসক বিরোধী চাপান উতোর। মঙ্গলবার বিকালে বর্ধমান শহর সংলগ্ন রেনেসাঁ উপনগরী থেকে একটি চারচাকা গাড়ি আটক করে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে রেনেসাঁ উপনগরীর গেটের কাছে একটি সাদা রঙের চার চাকা গাড়িকে আটকানো হয়। গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পিছনের সিটের তলার অংশ থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা। তবে টাকার সঠিক উৎস সম্পর্কে সন্তোষজনক কোনও তথ্য দিতে পারেনি গাড়িতে থাকা দু’জন।
এরপরই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের নাম সৌরভ ঘোড়ুই ও বাপন হাঁসদা। পুলিশ জানিয়েছে, দু’জনেই বাঁকুড়া জেলার ওন্দা থানার এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গাড়িটি দুর্গাপুরের দিক থেকে বর্ধমান শহরের দিকে আসছিল। পরে কোনও কারণে ফের দুর্গাপুরমুখী হয়ে রেনেসাঁ উপনগরীর সামনে পৌঁছয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ধৃতরা দাবি করেছে, তারা পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে একাধিক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করছিল এবং সেই টাকা নিয়ে বাঁকুড়ায় ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে এই অর্থ সংগ্রহের প্রকৃত উদ্দেশ্য, টাকার উৎস এবং কার জন্য এই টাকা নেওয়া হচ্ছিল—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক তহবিলের যোগ রয়েছে কি না, ভোটের আগে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা হচ্ছে কি না, নাকি অন্য কোনও দুর্নীতির সূত্র লুকিয়ে রয়েছে এই সমস্ত দিক খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী আধিকারিক। উল্লেখযোগ্য ভাবে, এই সময়েই রাজ্যে এসআইআর সংক্রান্ত রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে এবং কিছুদিন আগেই রাজ্যে সফরে এসেছিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি দল। প্রসঙ্গত, এর আগেও পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকায় ইডির তল্লাশিতে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এমনকি বুদবুদ থানার ওসির বাড়িতেও ইডির অভিযান চালানো হয়েছিল। ভোটের আগে ফের নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক নেতার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ রয়েছে কি না, সে দিকেও বিশেষ নজর রেখেছে পুলিশ।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, “ভোটের আগে এই রাজ্যে টাকা উদ্ধার হয়েছে। সুতরাং এটা নতুন কিছু নয়। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বালি থেকে কাটমানির টাকা নিয়ে কত কিছু হচ্ছে। সে তো সবাই দেখছে।আমরা চাই প্রশাসন সঠিক তদন্ত করে আসল ঘটনা বের করুক।”
অন্যদিকে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বাগবুল ইসলাম বলেন, “ভোটের আগে একটি রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিকভাবে কিছু করতে না পেরে সিবিআই, ইডি ও টাকা দিয়ে ভোট টানতে চেষ্টা করে। তবে পুলিশ এর তদন্ত করে টাকার উৎস খুঁজে বের করবে নিশ্চয়।”
