Kalna Snake Recover: জ্যান্ত কেউটে কাটে না কাউকে, চুপচাপ বসে স্নান করে দুধে, কালনার গ্রামে আজব ঘটনা
Kalna: শুধু পলসোনা নয়, মঙ্গলকোটের ছোটপোষলা, মুসারু, নিগন এবং ভাতারের বড় পোষলা, শিকোত্তর ও মুকুন্দপুর—এই মোট সাতটি গ্রামেও ঝঙ্কেশ্বরী পুজোর প্রচলন রয়েছে। মঙ্গলকোটের বিধায়ক শিশির ঘোষও এদিন ঝঙ্কেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেন।

মঙ্গলকোট: ‘ছোটে না কি হাঁটে না, কাউকে যে কাটে না…।’ বাপুরাম সাপুড়ে কবিতা মনে আছে তো? কখনও শুনেছেন জ্যান্ত কেউটে সাপ কাউকে ছোবল মারছে না? হাতে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে? কালনার মঙ্গলকোটের পলসোনা গ্রামে তেমনই হয়। সেখানে মহা সমারোহের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় জ্যান্ত কেউটে সাপের পুজো হয়। তবে গ্রামবাসীদের কাছে এই বিষধর সাপ কিন্তু ‘সাপ’ নয়। তিনি ‘মা ঝঙ্কেশ্বরী’। প্রতি বছর এই পুজোকে ঘিরে গ্রামে উৎসাহ দেখা যায়। বৃহস্পতিবার পুজো উপলক্ষে দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ গ্রামে ভিড় করেন।
গ্রামবাসীদের দাবি, পলসোনা গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় অবাধে ঘুরে বেড়ায় বিষধর কেউটে। তাঁরা এই সাপকে দেবীর রূপে পুজো করেন। গ্রামের বাসিন্দারা ছোটবেলা থেকেই তাঁরা এই সাপকে দেখে আসছেন। সকলের দাবি সাপগুলি কখনও গ্রামের মানুষের ক্ষতি করেনি।
গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, মনসামঙ্গল কাব্যে উল্লেখিত বেহুলা-লক্ষিন্দরের কাহিনির সেই দেবীই এখানে ঝঙ্কেশ্বরী রূপে বিরাজ করছেন। পুজোর দিন সন্ধ্যায় গ্রাম পরিক্রমার পর মন্দিরের সামনে একটি মাটির কলস ভাঙা হয়। সেই কলসের টুকরো বাড়িতে রাখলে বিষধর সাপ বাড়িতে ঢোকে না বলেও বিশ্বাস রয়েছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। এমনকি সাপের দংশনকেও তাঁরা ‘কামড়’ না বলে ‘প্রসাদ’ বলে থাকেন।
শুধু পলসোনা নয়, মঙ্গলকোটের ছোটপোষলা, মুসারু, নিগন এবং ভাতারের বড় পোষলা, শিকোত্তর ও মুকুন্দপুর—এই মোট সাতটি গ্রামেও ঝঙ্কেশ্বরী পুজোর প্রচলন রয়েছে। মঙ্গলকোটের বিধায়ক শিশির ঘোষও এদিন ঝঙ্কেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেন।
এ প্রসঙ্গে সর্পবিশারদ ধীমান ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, গ্রামে অধিকাংশ বিষধর কেউটে প্রজাতির সাপ। তাঁর বক্তব্য, এই সাপের দংশনে বিষক্রিয়া হতে পারে। তবে দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের কারণে এবং গ্রামবাসীরা সাপকে বিরক্ত না করায় দংশনের ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম।
