
পূর্ব মেদিনীপুর: ‘অবকি বার ২০০ পার’, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বহু চর্চিত একটি স্লোগান। এই স্লোগানকে ভর করেই শাসকদলের বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়েছিল বিজেপি। অবশ্য তাদের থামতে হয়েছিল ৭৭-এ। এবার ভোট শুরুর আগেই বিজেপির আসন সংখ্যা বলে দিলেন নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুরের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ, এবারের নির্বাচনে ১৭৭+ আসন পাবে বিজেপি।
বুধবার অখিল গিরির বিধানসভা এলাকা রামনগরে বিজেপি প্রার্থী চন্দ্র শেখর মন্ডলের সমর্থনে কর্মিসভা করেন শুভেন্দু অধিকারী। রামনগর দুই ব্লকের বালিসাই স্কুল ময়দানে সকাল থেকেই কাঁথি,মেদিনীপুর ও তমলুক সাংগঠনিক জেলা জুড়ে বিজেপি প্রার্থীদের সমর্থনে ম্যারাথন কর্মিসভা হয়। শুভেন্দুর চ্যালেঞ্জ, “এক হল ভারতীয় জনতা পার্টি এবারে প্রচণ্ড সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার তৈরি করছে। ২০১৬-তে ৩, ২০২১-এ ৭৭, এবারে ১৭৭-এর নীচে নামবে না।” ভোটারদের উদ্দেশে শুভেন্দুর সমীকরণ, “২০১৬ এবং ২০২১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী মার্জিন কত করবেন সেটা আপনারা ঠিক করবেন, কত বাড়াবেন।”
গত বিধানসভা নির্বাচনে ২০০-র বেশি আসনের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, এদিন শুভেন্দুর মুখে ১৭৭-এর উল্লেখ, রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কিন্তু কীভাবে এই সমীকরণ শুভেন্দুর? তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়েই ভোটার তালিকা সংশোধনের বিষয়টি খাড়া করেন করেন। আবার উঠে আসে ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ আর ডিনারের তত্ত্ব। তাঁর কথায়, “প্রথম রাউন্ড ব্রেকফাস্ট। তাতে গিয়েছে ৫৮ লক্ষ। লাঞ্চে গিয়েছে ৭ লক্ষ। এখনও ডিনার হয়নি।” এর সঙ্গেই তাঁর নতুন সংযোজন, “সন্ধ্যাবেলা লিকার চা আর চিনাবাদাম হয়েছে। তাতে ৩২ লক্ষের মধ্যে ১৪ লক্ষ চলে গিয়েছে। আরও বা কি কত? ২৮ লক্ষ।” নিজেই প্রশ্ন করেন, উত্তরও দেন। বলেন, “তাহলে এই মুহূর্তে কত গিয়েছে?” কিছুটা থেমে বলেন, “৭৯ লক্ষ। তাইতো?” কিছুটা হেয়ালির সুরে তিনি বলেন, “আর কিছু বলার আছে? সমাজদার কে লিয়ে ইশারা হি কাফি হ্যয়! এর ৯০ শতাংশ ভোট তৃণমূল মেরে দিত।” বলাই বাহুল্য, এসআইআর প্রক্রিয়ার একেবারে প্রাথমিক পর্যায়েই শুভেন্দু পূর্বাভাস দিয়েছিলেন এক থেকে দেড় কোটি লোকের নাম বাদ যেতে পারে।
উল্লেখ্য, এর আগে বাংলায় এসে এবারও ২০০ লক্ষ্যমাত্রাই স্থির করে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শিলিগুড়িতে একটি জনসভায় তিনি অঙ্কের হিসাবে একটি নতুন লক্ষ্য দিয়েছেন। অমিত শাহর ব্যাখ্যা, ২০২১ সালে বিজেপি প্রায় ৩৮% ভোট পেয়েছিল। বিজেপির টার্গেট, এই শতাংশ বাড়িয়ে ৪৬% থেকে ৫০%-এ নিয়ে যাওয়া। এই ৮-১০% ভোটের বৃদ্ধিই বিজেপিকে অনায়াসে ২০০ আসনের গণ্ডি পার করে দেবে।