Suvendu Adhikari: ব্রিগেডে শুভেন্দুর শপথ গ্রহণ দেখতে বড় ব্যবস্থা পূর্ব মেদিনীপুরে, কী হচ্ছে?
Celebrations for Suvendu Adhikari Swearing-In: ছেলের সাফল্যে আবেগঘন প্রবীণ নেতা তথা শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী। তিনি বলেন, "এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের দিন। দীর্ঘদিনের অপশাসন থেকে রাজ্য মুক্তি পেল। আমি আশাবাদী, শুভেন্দু আগামী দিনে বাংলার উন্নয়নের জন্য সর্বস্তরে কাজ করবে।"

কাঁথি: তমলুকের ভূমিপুত্র অজয় মুখোপাধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ৫৫ বছর পর পূর্ব মেদিনীপুরের আর এক ভূমিপুত্র মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুভেন্দু অধিকারীর নাম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণার পরই উচ্ছ্বাস জেলাজুড়ে। আগামিকাল ব্রিগেড ময়দানে শপথ নেবেন শুভেন্দু। ব্রিগেডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জেলার ভূমিপুত্রের শপথ পাঠ যাতে সবাই দেখতে পারেন, সেজন্য পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন জায়গায় নেওয়া হয়েছে উদ্যোগ। বসছে জায়ান্ট স্ক্রিন।
শুক্রবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুভেন্দুর নাম ঘোষণা করেন। তার পরই নিয়ম মেনে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপাল আরএন রবির কাছে সরকার গড়ার দাবি জানান শুভেন্দু। শনিবার রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন কাঁথির ছেলে শুভেন্দু। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই মেদিনীপুর, নন্দীগ্রাম থেকে শুরু করে জেলার আনাচে-কানাচে এখন উৎসবের আমেজ। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের জন্য এখন থেকেই শুভেন্দুর নিজের শহর কাঁথি এবং তাঁর নির্বাচনী কেন্দ্র নন্দীগ্রামে সাজ সাজ রব। জেলার ঘরের ছেলে, যিনি নিজেকে বারবার ‘পান্তা খাওয়া গামছা পরা মেদিনীপুরের সন্তান’ বলে পরিচয় দিতে ভালোবাসেন, তাঁর এই সাফল্যে আবেগপ্রবণ আপামর জেলাবাসী।
আবেগে ভাসছে পূর্ব মেদিনীপুর-
শুক্রবার রাত থেকেই বিভিন্ন এলাকায় মাইক বাজিয়ে আনন্দ উদযাপন শুরু হয়েছে। চলছে বাজি ফাটানো, আবির খেলা। মেদিনীপুরের ঘরে ঘরে এখন শুধু একটাই আলোচনা, ঘরের ছেলে এবার মহাকরণের সিংহাসনে। শপথগ্রহণের দৃশ্য সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বসানো হয়েছে জায়ান্ট স্ক্রিন। বিশেষ করে কাঁথির ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে এলাকাবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বড় পর্দার ব্যবস্থা করেছেন যাতে শুভেন্দুর শপথ নেওয়ার মুহূর্তটি কেউ মিস না করেন। কেবল আনন্দই নয়, শুভেন্দুর সাফল্য এবং আগামীর মসৃণ পথ চলায় আশীর্বাদ কামনায় জেলার মন্দিরে মন্দিরে চলছে হোম-যজ্ঞ। বহু এলাকায় আবার সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করে খুশির জোয়ারে গা ভাসিয়েছেন বিজেপি কর্মীরা।
ছেলের এই সাফল্যে আবেগঘন প্রবীণ নেতা তথা শুভেন্দুর বাবা শিশির অধিকারী। তিনি বলেন, “এটি আমাদের কাছে অত্যন্ত গর্বের দিন। দীর্ঘদিনের অপশাসন থেকে রাজ্য মুক্তি পেল। আমি আশাবাদী, শুভেন্দু আগামী দিনে বাংলার উন্নয়নের জন্য সর্বস্তরে কাজ করবে।” একই সুর শোনা গেল নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পাল ও মেঘনাথ পালের গলায়। তাঁরা জানান, নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে এই দিনটি ঐতিহাসিক, আর সেই ইতিহাসকে তাঁরা উৎসবের মেজাজেই উদযাপন করবেন।
