
নন্দীগ্রাম: নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে ফের একবার তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে দেখা গেল বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। তাঁর সাফ কথা, ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে তাঁকে ২০ হাজার ভোটে হারাবেন। তিনি বলেন, “আমি চাইব ছাব্বিশের ভোটে আবার নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আবার লড়ুন। ২০ হাজার ভোটে হারাব। তখন তো হিন্দুরা ছিল, এখন মুসলিম ছেলেরাও দাঁড়িয়ে আছে। গরিব মুসলমানরাও দেবে ভাল করে।” তাহলে কী এবার তৃণমূলের মুসলিম ভোটব্যাঙ্কেও থাবা বসাতে চলেছে বিজেপি? গোটা রাজ্যের পাশাপাশি নন্দীগ্রামেও বদলাচ্ছে সমীকরণ? শুভেন্দুর এ মন্তব্যের পর বাড়ছে চাপানউতোর।
দিলীপের জমানায় শুধুমাত্র হিন্দুত্বে ভর করে রাজ্যে পদ্ম ঝড় তুলেছিল বিজেপি। সাফল্যও এসেছিল। কিন্তু ২০২১ পরবর্তী সময়ে দেখা যায়, বিজেপি শুধু হিন্দুত্বের লড়াই লড়ছে না, তার সঙ্গে মুসলিম বিরোধী অবস্থানও নিচ্ছে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মুখেই শোনা গিয়েছিল, যারা আমাদের সঙ্গে নেই, আমরাও তাদের সঙ্গে নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বড় অংশেরও মত ছিল ক্ষমতায় আসতে দু’টো বিষয়ের উপর ভীষণভাবে জোর দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির হিন্দুত্বের পোস্টার বয় শুভেন্দু। শুরু থেকেই চেষ্টা করছেন হিন্দু ভোট এককাট্টা করকে। দুই, হাবেভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন মুসলিম ভোট দরকার নেই। শুভেন্দু স্পষ্ট বলেছিলেন আমরা ৩৯ শতাংশ আছি, আর ৫-৬ শতাংশ হিন্দুরা একজোট হলেই ক্ষমতায় আসা সম্ভব।
এরইমধ্যে আবার শমীক ভট্টাচার্যের কাঁধে আসে বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব। আর তারপর থেকে লাগাতার তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে সংখ্যালঘুদের কাছে টানার বার্তা। সোজা কথায় তিনি বঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব পেতেই যেন খেলাটা ধীরে ধীরে ঘুরতে থাকে। সুর বদলায় অন্য সতীর্থদেরও। সুর বদলায় শুভেন্দুরও। ক’দিন আগেই বলেছিলেন, “আমি কখনও বলিনি মুসলিমদের ভোট চাই না। আমি বলেছি পাই না। ‘১৯, ‘২১, ‘২৪ তিনটে বড় নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে বিজেপি এক শতাংশের কম মুসলিম ভোট পেয়েছে।”